বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি বাতিল ঘোষণা করলে অস্থিরতা শুরু হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি বাতিল ঘোষণা করলে অস্থিরতা শুরু হয়।ছবি: কোলাজ

চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর এফডিসি এখন সিনেমার শুটিংয়ের কারণে বেশি আলোচিত হয় না। সাংগঠনিক নানা অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান ঘিরে যত আলোচনা। আবারও সমিতিকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হলো এফডিসিতে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি বাতিল ঘোষণা করলে এই অস্থিরতা শুরু হয়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, চিত্রনায়ক ও প্রযোজক জায়েদ খানের অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
জায়েদ খান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় অনেকে মনে করছেন এটি শিল্পী সমিতি ও প্রযোজক সমিতির দ্বন্দ্ব। কিন্তু এটা কেবল প্রযোজক সমিতির সঙ্গে জায়েদ খানের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, ‘এটা প্রযোজক সমিতির সঙ্গে শিল্পী সমিতির দ্বন্দ্ব নয়। ব্যক্তি জায়েদ খানের সঙ্গে প্রযোজক সমিতির সমস্যা।’

default-image

প্রযোজক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘সমস্যাটা ব্যক্তি জায়েদের সঙ্গে, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সবাই আমাদের আপন। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের স্বার্থের কথা ভেবে সব সমিতির সমন্বয়ে আমরা কিছু নিয়ম তৈরি করি।

বিজ্ঞাপন

একমাত্র জায়েদ তা নিয়ে সবার মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেন। এর বাইরেও চলচ্চিত্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড করেন।তাই তাঁর সদস্যপদ আমরা স্থগিত করি এবং বয়কটের সিদ্ধান্ত নিই।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি জায়েদ খানের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। সংগঠন থেকে তখন দুই দফা তাঁকে প্রযোজক সমিতির স্বার্থবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে চিঠি দেওয়া হয়।

default-image

এসব নিয়েই তাঁর সঙ্গে প্রযোজকদের সংগঠনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সেসব চিঠির জবাবও দিয়েছিলেন জায়েদ। কিন্তু সেই জবাব যুক্তিসংগত মনে হয়নি সমিতির নেতাদের। তাই জায়েদ খান ন্যায়বিচার চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেন এবং প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ আনেন। জায়েদ বলেন, ‘প্রযোজক সমিতির উচিত ছিল কারও পেছনে না লেগে চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করা। সেটা না করে তারা অন্যায়ভাবে তথ্য লুকিয়ে আইনের হাত থেকে রক্ষা পেতে চেয়েছিল। তারা যা করেছে, সেটা খুবই দুঃখজনক এবং নীতিহীন।’

এ প্রসঙ্গে খোরশেদ বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাতজন কর্মকর্তা এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার এত দিন পর ২০১৬-১৮ সেশনের কাগজ দেখিয়ে কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে! তাঁরা কি তবে অবৈধ নির্বাচন করে গেলেন? আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রুত আপিল করব। বিষয়টি যে মিথ্যা, তা দ্রুত প্রমাণিত হবে।’

default-image

সংগঠনবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রযোজক সমিতি স্থগিত করে জায়েদ খানের সদস্যপদ। এরপরই সেই সমিতির বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন জায়েদ। তিনি মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ করেন, সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলমসহ চারজন প্রযোজক নেতা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে তথ্য গোপন করে নির্বাচন করেছেন। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবার প্রযোজক সমিতির বর্তমান কমিটিকেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0