একঝাঁক তরুণ লেখক–লেখিকা নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে ইনটেনসিভ রাইটিং ল্যাব ‘নকশি কথা’। নকশি কাঁথায় যেমন উঠে আসে গ্রামবাংলার জীবনের গল্প। সে রকমই একটি ধারণা থেকেই ‘রাইটিং রুম’–এর মধ্য দিয়ে চিত্রনাট্য লেখার উদ্যোগ 'নকশি কথা'। প্রথম দফায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ জন তরুণ লেখক ও লেখিকা এই কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। দুই শতাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে লেখার গাঁথুনি ও গল্প বলার কৌশলের ভিত্তিতে ১৫ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিতরা হলেন আল আমিন, বায়েজিদ ইসলাম, ফারজানা রিয়া, হাসিব ইমতিহান, মৌটুসি জুবাইদা, মেসবাউল ইসলাম সাকিফ, নাজনীন নূর, নাজমুস সাকিব, নির্ঝর, রাইসুল ইসলাম ইমন, রজত তন্ময়, রায়হান রাহীম, সাকিব সোবহান, শুভ্র শিশির ও তারান্নুম মৃত্তিকা।

default-image

অনেকেরই স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে ছোটবেলায় নানি বা দাদিদের মুখে গল্প শুনে ঘুমাতে যাওয়া। বাংলাদেশের মানুষের বড় হওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কতশত গল্প। এই দেশের মানুষ গল্প শুনতে আর বলতে ভালোবাসে। ‘নিও নরমাল’–এ সেসব গল্প উঠে এসেছে সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। একের পর এক নতুন নতুন অনলাইন দরজা খুলছে গল্প বলার। সেই যাত্রার সর্বশেষ সংযোজন চরকি। নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি ঘোষণা দিয়েছে, ১২ মাসে ১২টি নতুন সিনেমা বানানো হবে। তা ছাড়া অন্য প্ল্যাটফর্মগুলো তো আছেই। কানাঘুষা চলছে, দেশে নেটফ্লিক্স, আমাজনও আসবে শিগগিরই। এত এত গল্প বলার জায়গা কিন্তু পর্যাপ্ত ভালো গল্পের জোগান আছে কি? আমাদের কি ভালো চিত্রনাট্যকার আছে?

বিজ্ঞাপন

দেশে গল্প লেখার লোক হয়তো অনেক আছে কিন্তু সেই গল্প চিত্রনাট্যে রূপান্তর করার মতো মানুষ কম। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত চিত্রনাট্যকারের অভাব রয়েছে। কেননা এখানে ফিল্ম স্কুলের সংখ্যাই কম। তাই চিত্রনাট্য লেখার সময় উপযোগী প্রশিক্ষণ মেলা ভার। এ ছাড়া একসঙ্গে একাধিক লেখক একটি চলচ্চিত্রের গল্প বা আট-দশ পর্বের একটি সিরিজের গল্প লিখছেন, সেই চর্চা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। এই শূন্যস্থান পূরণেই উদ্যোগী হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গুপী বাঘা।

default-image

নকশি কথার প্রথম দফার কার্যক্রম ছয় মাসব্যাপী চলবে। নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে থাকছেন দেশ ও দেশের বাইরের অভিজ্ঞ এবং সুপরিচিত ফিল্মমেকাররা। তাঁদের তত্ত্বাবধানে চলবে ওয়ার্কশপ, মাস্টারক্লাস ও হাতে–কলমে লেখার চর্চা। ছয় মাসে এই ১৫ জন অংশগ্রহণকারী লিখবেন তিনটি সিনেমা এবং তিনটি ওয়েব সিরিজের গল্প। সবশেষে এই প্রজেক্টগুলো তাঁরা পিচ করবেন একটি আনুষ্ঠানিক পিচিং সেশনে। সেখানে আমন্ত্রিত থাকবেন বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন