করোনার প্রকোপে সাত মাস বন্ধ ছিল
করোনার প্রকোপে সাত মাস বন্ধ ছিল কোলাজ

মঙ্গলবার শেষ বিকেলের আলো পড়ে বেশ ফুটে উঠেছে পল্টনের জোনাকি হলের নান্দনিক সাইনবোর্ডে। প্রবেশপথে পেঁয়াজি, আলুর চপ ভাজছেন একজন। আড্ডা জমিয়ে খাচ্ছেনও অনেকে। বাইরে যতটা আলো, যতটা ভিড়-উচ্ছ্বাস, ভেতরে ততটাই অন্ধকার। নিষ্প্রাণ। এক বছরের বেশি সময় বন্ধ হলটি। প্রায় একই চিত্র দেখা গেল মালিবাগের পদ্মা ও সুরমা হলে। গেটে তালা ঝুলেছে, জমেছে ধুলা।

default-image

করোনার প্রকোপে সাত মাস বন্ধ ছিল দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ। প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য মন্ত্রণালয় প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেওয়া হলেও নতুন ছবির অভাব ছিল প্রকট। অনেক প্রযোজক দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসবেন কি না, এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। তাই বড় বাজেটের নতুন ছবি মুক্তি দেননি। নতুন স্বাভাবিকে ছবিখরায় শেষ হয় বছর। নতুন বছরের প্রথম দুই মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। মার্চে এসে চলচ্চিত্র যেন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে শঙ্কা, এবার হতে পারে হলের সংকট। যদিও প্রদর্শকেরা বলছেন, খুব শিগগির বন্ধ হলগুলো খুলবে।

বিজ্ঞাপন

মার্চে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে পাঁচটি চলচ্চিত্র। এসব ছবিতে আলোচিত তারকারা যেমন আছেন, তেমনি নবাগতও রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র যেমন আছে, আছে নিটোল প্রেমের ছবিও। একদম নতুন এসব ছবিতে প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা কতটা আশার আলো দেখছেন, তা নিয়ে কথা হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বললেন, সারা দেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহের মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। ৫ মার্চ থেকে কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহ খোলা হবে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কারণ, নতুন স্বাভাবিকে এই প্রথম কোনো মাসে পাঁচটি ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

default-image

মার্চে ৫টি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। ছবিগুলো হচ্ছে ‘তুমি আছ তুমি নেই’, ‘স্ফুলিঙ্গ’, ‘অলাতচক্র’, ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ ও ‘প্রিয় কমলা’। ছবিগুলোর প্রযোজক ও পরিচালকেরা মুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্রও পেয়েছে ছবিগুলো।
এদিকে প্রদর্শক সমিতির পক্ষে মিঞা আলাউদ্দিন জানালেন, ‘সারা দেশে এখনো ৩০০ সিনেমা হল আছে। গত কিছুদিনে সর্বোচ্চ ৭০টি হল খোলা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে ১০০ প্রতিষ্ঠানের। শুনেছি, এতগুলো ছবি মুক্তির খবরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রেক্ষাগৃহ এই মাসে চালু হচ্ছে।’

অবশ্য মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, ঈদুল ফিতরের আগে তাঁরা প্রেক্ষাগৃহ খুলবেন না। কারণ হিসেবে জানালেন, ‘দর্শকচাহিদার সিনেমা এখনো মুক্তি পাচ্ছে বলে মনে হয় না। শুনেছি এ মাসে কয়েকটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে, কিন্তু সে অর্থে শাকিব খানের মতো বড় তারকার ছবি তো নেই।’

default-image


বলাকা সিনেমা হলের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। একই অবস্থা ঢাকার বাইরের আরও কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহের। তবে যশোরের মণিহার প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপক তোফাজ্জল হোসেন জানালেন, ‘নিয়মিত নতুন ছবি না মুক্তি পাওয়ায় দর্শক হলে আসা অনেকটাই ভুলে গেছেন। নতুন ছবি লাগবে। বড় বাজেটের মানসম্পন্ন ছবি হলে আরও ভালো। নিয়মিত ছবি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হলে দর্শক আবার সিনেমা হলে ফিরবেনই। এক মাসে নতুন পাঁচটি ছবি মুক্তি সত্যি সত্যি হলমালিকদের জন্য ভালো খবর। তবে আমরা কোন কোন ছবি চালাব, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
এদিকে পাঁচটি ছবি মুক্তির খবরে আনন্দিত চট্টগ্রাম প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা। তাঁরা জানালেন, এত দিন এই বন্ধ, এই চালু ছিল। কিন্তু নতুন পাঁচটি ছবির কারণে স্বাভাবিক সময়ে যতগুলো প্রদর্শনী চলত, সেখানে ফিরে যেতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনের অন্যতম পরিচালক ফারুক আহমেদ জানালেন, ‘রেস্তোরাঁ, বিপণিবিতান সব খোলা। মানুষ এখন অনেক বেশি বাহিরমুখী। এদিকে ভ্যাকসিনও নিয়েছেন অনেকে। তাই মানুষ সময় কাটাতে প্রেক্ষাগৃহেও আসবে। দরকার শুধু কনটেন্টের। পাঁচটি ছবির মুক্তির খবরটি আমাদের জন্য আশাবাদের খবর। বেশি বেশি নতুন সিনেমা মুক্তির সিদ্ধান্ত নিলে এবং ভালোমতো প্রচারণা চালালে মানুষ অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে আসবে।’

default-image

প্রেক্ষাগৃহের মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নতুন ছবি দর্শকদের দেখাতে চায়। প্রযোজকদের উচিত হবে সাহস করে নতুন ছবি মুক্তি দেওয়া। কারণ, প্রযোজক সমিতির অনুরোধে সরকার সিনেমা হল চালু করেছে। মানুষ এখন ঘুরতে যাচ্ছে, কেনাকাটা করছে, খেতে ঘরের বাইরে বের হচ্ছে, শুধু নতুন সিনেমার অভাবে নিয়মিত হলে যেতে পারছে না। তাই এই বিষয়ের দিকেও সবাইকে নজর দিতে হবে। নয়তো হলবিমুখ দর্শককে ফিরিয়ে আনতে একদিন অনেক বেগ পেতে হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন