ছবি নেই, নির্বাচনে মুখর

বিজ্ঞাপন
default-image

গত ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে গত তিন সপ্তাহে ছবি মুক্তি পেয়েছে মাত্র একটি। ১৮ অক্টোবর ডনগিরি নামের একটি ছবি মুক্তি পায়। চলতি মাসে আর নতুন কোনো ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। তবে ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদি নির্বাচন ঘিরে বেশ সরব এফডিসি।

এফডিসির মূল ফটক থেকে শুরু করে শিল্পী সমিতির কার্যালয় পর্যন্ত প্রার্থীদের ছবিযুক্ত ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মুখর হয়ে উঠছে চলচ্চিত্রপাড়া। এফডিসি নির্বাচনে মুখর থাকলেও নির্মাণে ততটা নয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে। গুণী নির্মাতা কাজী হায়াৎ বলেন, ‘সিনেমার হল কীভাবে বাঁচবে কিংবা সিনেমার ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। সবাই আছেন নির্বাচন নিয়ে। সকাল হলেই নির্বাচনের কাজে এফডিসিতে চলে যাচ্ছেন সবাই। কী অদ্ভুত একটা ব্যাপার। কিছু বলার নেই। সিনেমা শেষ হয়ে গেছে।’

তবে প্রতিবারের নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের চিত্র একটু ভিন্ন। আগে নির্বাচনে দুটি বা তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত। এবার একমাত্র মিশা-জায়েদ পূর্ণ প্যানেল দিয়েছেন। বিপরীতে স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে লড়ছেন মৌসুমী ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিয়াস কোবরা।

সন্ধ্যার পরেই শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতির কার্যালয় ও ক্যানটিন চত্বরে অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা জড়ো হচ্ছেন। চলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমী ও মিশা-জায়েদ পরিষদের মিছিল, পাল্টা মিছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমীর মিছিলে অনেক নারী শিল্পী ও কলাকুশলীদের দেখা গেছে। শনিবার সন্ধ্যার পরে মৌসুমীর নেতৃত্বে একটি মিছিল শিল্পী সমিতি থেকে বেরিয়ে প্রযোজক সমিতির কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবন হয়ে ক্যানটিনের সামনে এসে শেষ হয়। মৌসুমী বলেন, ‘এখন পরিবেশ একটু ভালো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন একজন ভালো মানুষ। তিনি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন আয়োজন করবেন বলে আমার বিশ্বাস। প্রচারণা চালাচ্ছি, ভাগ্যে থাকলে অবশ্যই জয়ী হব।’

স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ইলিয়াস কোবরাকেও প্রচার করতে দেখা যায়। পাশাপাশি মিশা-জায়েদ প্যানেলও মিছিল নিয়ে বের হয়। মিছিলটি এসে থামে শিল্পী সমিতি ও জসিম ফ্লোরের মধ্যে ফাঁকা জায়গায়। মিশা সওদাগর বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে বেশ শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন ঘিরে সবার মধ্যে উত্ফুল্লভাব দেখা যাচ্ছে। কোনো পক্ষ থেকেই ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে না। মৌসুমী আমার বান্ধবী। আমরা একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। ভোটাররা যাঁকে ভালো মনে করবেন, তাঁকেই জয়ী করবেন।’

সিনেমার চেয়ে নির্বাচন নিয়ে বেশি মাতামাতি হচ্ছে কি না, এ প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘অবশ্যই মাতামাতি হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে অনেকের এত বড় আয়োজন দেখে অবাক হচ্ছি। মনে হচ্ছে, এটি যেন তাঁদের চাকরি। অথচ এই আয়োজনটা সিনেমার বেলায় নেই। আমার ধারণা ছিল, এ ধরনের নির্বাচন সাধারণভাবে হবে। কাজের ফাঁকে দু–এক দিন পরপর এফডিসিতে এসে ভোটারদের সঙ্গে দেখা করব। এভাবেই ভোট হবে। এখন দেখছি ভিন্নচিত্র।’


বিষয়টি নিয়ে মিশা বলেন, ‘দুই বছরে একবার নির্বাচন হয়। এ কারণে নির্বাচনের আমেজটা চোখে পড়ে। এটাও ঠিক, নতুন সিনেমা নিয়ে যথেষ্ট সরব না সবাই। শুধু শিল্পী সমিতি না, চলচ্চিত্রের সব জায়গা থেকেই সিনেমার জন্য চেষ্টা করতে হবে। এতটুকু বলতে পারি আমি।’
কয়েক দিন আগে সভাপতি প্রার্থী মৌসুমীকে অপমান করার অভিযোগে এফডিসি খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকে এফডিসির বিভিন্ন জায়গায় বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার স্বার্থে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পত্র দিয়ে জানিয়েছিলাম। তাঁরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন।’

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘এক প্রার্থীর সঙ্গে একটু সমস্যা হয়েছিল। তা ঠিক হয়ে গেছে। প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ মেনেই কাজ করছেন। আশা করছি, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন