default-image

অপু বিশ্বাসের আজ জন্মদিন। প্রতিবার এই নায়িকার জন্মদিন কিছুটা উৎসবমুখর কাটলেও এবার মন খারাপ অপুর। এই অভিনেত্রী গত সেপ্টেম্বরে করোনায় তাঁর মাকে হারিয়েছেন। হঠাৎ মায়ের চলে যাওয়ায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেই শোকের মধ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছেলে আব্রামের জন্মদিনও পালন করেননি তিনি। শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে না পারায় নিজের জন্মদিনেও মন খারাপ অপুর। নেই আয়োজন।
এই নায়িকার ঘরোয়া জন্মদিন আয়োজনের মধ্যমণি থাকতেন তাঁর মা। প্রতিবছর মায়ের হাতের পায়েস খেয়েই ১১ অক্টোবর দিনটি শুরু করতেন তিনি। মন খারাপ করা দিনে অপুকে তাঁর পরিচিত পরিজনেরা অনেকেই ফোন দিয়ে জানিয়েছেন, জন্মদিনে কী উপহার নেবেন, কোথায় বেড়াতে যাবেন...। এই অভিনেত্রী তাঁর প্রিয় উপহার প্রসঙ্গে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সবাই বলে জন্মদিনে কী উপহার দেওয়া যায়? কিন্তু আমার সারা জীবনের সেরা প্রাপ্তি আমার মা। মা তুমি যদি আর একটিবার আমার মুখে পায়েস তুলে খাওয়াতে, তাহলে এটাই আমার জীবনে অনেক বড় গিফট পাওয়া হতো।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘এই প্রথম তোমার হাতের পায়েস ছাড়া আমার জন্মদিন পার হয়ে যাচ্ছে। এটা আমি ভাবতেই পারিনি মা।’
অপু বিশ্বাসের মা শেফালী বিশ্বাস জয়কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল নাতি জয়কে চিকিৎসক বানাবেন।

বিজ্ঞাপন

জয় চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষের সেবা করবে। সেসব স্মৃতি স্মরণ করে অপু বিশ্বাস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তুমি যেখানে থাকো, অনেক ভালো থেকো মা। আমার জন্মদিনে তুমি আশীর্বাদ করো।

default-image

তুমি চেয়েছিলে জয়কে ডাক্তার বানাতে। আর্শীবাদ করো তোমার চাওয়ায় জয়কে যেন আমি ডাক্তার বানাতে পারি। আমি যেন তোমার আশা পূরণ করতে পারি।’ এই অভিনেত্রীর মা ১৮ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

করোনায় মাকে হারিয়ে যখন শোকে স্তব্ধ অপু বিশ্বাস ও তাঁর পরিবার, ঠিক তার ৯ দিন পরই ২৭ সেপ্টেম্বর চলে আসে তাঁর ছেলে আব্রাম খান জয়ের জন্মদিন। মায়ের শোক কাটিয়ে উঠতে না পারায় সে সময় ছেলের জন্মদিন পালন করেননি এই নায়িকা।

default-image

তখন ছেলেকে উদ্দেশ্য করে এই নায়িকা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় লিখেছিলেন, ‘বাবা, এবার তোমার জন্মদিনের কোনো আয়োজনই আমি করতে পারলাম না। তোমার জন্মদিনে সবকিছুর আয়োজন করতেন তোমার দিদা। আজ তোমার দিদা আর নেই। আমরা আর কখনো তোমার দিদার দেখা পাব না।’ ছেলের জন্মদিনের ১৪ দিন পরই এল তাঁর জন্মদিন। এখনো মাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি অপু।

বিজ্ঞাপন
default-image

এই মাসের শুরুর দিকে নতুন একটি ছবির শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নিতে পারেননি এই ঢালিউড নায়িকা। অপু বিশ্বাসের আসল নাম অবন্তী বিশ্বাস। ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়া জেলার সদর থানার কাটনারপাড়া এস কে লেনে তাঁর জন্ম। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট অপু। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বগুড়াতেই। সাত বছর আগে বাবা উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে হারিয়েছেন অপু। উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও শেফালী বিশ্বাস দম্পতির ছিল তিন মেয়ে ও এক ছেলে। সবার ছোট চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। অপুর একমাত্র ভাই উত্তম কুমার বিশ্বাস বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এসকে লেনের বাড়িতে থাকেন। অপুর বড় বোন মিলি বিশ্বাস বগুড়ায় এবং ছোট বোন লতা বিশ্বাস ভারতের শিলিগুড়িতে বসবাস করেন।

মন্তব্য পড়ুন 0