বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ারের কাছে জানা গেল, বেড়াতে গিয়ে ছবির গল্পটা পেয়েছিলেন তিনি। তবে গল্পটা যে ‘ছবির গল্প’ হতে পারে, তা মাথায় আসে আরও পরে। তখনো তিনি ছাত্র। সিডরের কয়েক মাস পরের কথা। বন্ধুদের সঙ্গে কুয়াকাটা গিয়েছিলেন। ছবি তোলা তাঁর শখ। ছবি তোলার তাগিদে চলে যান সৈকত থেকে আরেকটু ভেতরে, একটি চরে।

default-image

এই চরের মানুষের জীবন-জীবিকা ইলিশনির্ভর। এর বেশ কিছুদিন পরে তিনি নিউইয়র্ক ফিল্ম স্কুলে পড়তে যান। সেখানকার শিক্ষকেরা তাঁদের ভিনদেশি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন, দেশে ফিরে তাঁরা যেন নিজের সংস্কৃতিতে গল্প তৈরি করেন। তখনই প্রথম রেজওয়ানের মনে পড়ে যায় ওই সব মানুষের মুখ, যাঁদের জীবনযাত্রা ছাত্রজীবনে তাঁকে নাড়া দিয়েছিল। তারপর চার বছর ধরে চলে সরেজমিন গবেষণা ও চিত্রনাট্য লেখা। সব মিলিয়ে পাঁচ বছর ধরে চলেছে এ ছবির কাজ।

এ ছবিতে প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক–নায়িকা নেই, বদলে আছেন কিছু জেলে। ডিঙিনৌকা বা ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাঁদের মাছ ধরার একমাত্র অবলম্বন। একসময় সেখানে যন্ত্রচালিত বড় ট্রলার চলে আসায় প্রান্তিক এই জেলেরা হুমকির মুখে পড়েন, তাঁদের টিকে থাকাই দায় হয়ে যায়। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের জীবনচক্রে পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞাজনিত বেকারত্ব—সব মিলিয়ে জেলেজীবনে একেবারে নাভিশ্বাস দশা।

default-image

এর মধ্যে শহর থেকে গ্রামে আসেন একজন ভাস্কর। তাঁর ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগকেই সাগরে মাছ না পাওয়ার কারণ হিসেবে দায়ী করেন কিছু জেলে। বিষয়টিকে তাঁরা গজব হিসেবে বিবেচনা করেন। ভাস্করের উপস্থিতি এবং তাঁকে ঘিরে গ্রামবাসীর জল্পনাকল্পনা ও শঙ্কা এবং পরিশেষে সংঘাত—এ নিয়েই এগিয়েছে ছবির গল্প।

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতীর চর। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে পূর্ব দিকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এই চর। সেখানেই সিনেমার শুটিং হয়েছে। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, তিতাস জিয়া ও তাসনোভা তামান্না।

default-image

স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ছিলেন রেজাউল করিম, জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন। আবহসংগীত পরিচালনা করেছেন অর্ণব। গ্রামের চেয়ারম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু। তাঁর মতে, পরিচালক এই সমাজটারই গল্প বলতে চেয়েছেন। যেখানে তিনি সৎ ছিলেন, বাড়তি কোনো আবেগ বা রং মাখাননি।

‘নোনাজলের কাব্য’ প্রযোজনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার ও ফরাসি প্রযোজক ইলান জেরার। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন থাই শিল্পী চানানুন চতরুংগ্রোজ। প্যারিসের স্টুডিওতে হয়েছে শব্দ ও রং সম্পাদনার কাজ।

default-image

যে গ্রামে শুটিং হয়েছে, বিশেষ প্রদর্শনী করে সেই চরের মানুষকে ইতিমধ্যে ছবিটি দেখিয়েছেন পরিচালক। আজ থেকে দেখতে পাবেন সারা দেশের দর্শক।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন