জায়েদ খান।
জায়েদ খান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি ২০১৯-২১ মেয়াদি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনেছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, অভিনেতা ও প্রযোজক জায়েদ খান। সেই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন ও সে পর্যন্ত সংগঠন পরিচালনার জন্য এর কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এখন থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির দায়িত্ব পালন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার নুরুল হক। আগামী ১২০ দিনের মধ্যে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাসহ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংগঠনটির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সংঘবিধি ও সংঘস্মারকের ধারা ৫(৫) লঙ্ঘনক্রমে এবং মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছেন, বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রযোজক পরিবেশক সমিতিতে জায়েদ খানের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। সেসময় সংগঠন থেকে দুই দফা তাঁকে প্রযোজক সমিতির স্বার্থবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে চিঠি দেওয়া হয়। সেসব চিঠির জবাবও দিয়েছিলেন জায়েদ। সেই জবাব তুষ্ট করতে পারেনি সমিতির নেতাদের। তারা বলছেন, জায়েদ খান প্রযোজকদের স্বার্থে আঘাত করেছেন। জায়েদ খান সেসময় জানান, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি সত্য উদঘাটনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

জায়েদ খান জানান, মিথ্যা এবং অন্যায়ভাবে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করায় তিনি ন্যায় বিচার চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। জায়েদ খান বলেন, ‘প্রযোজক সমিতির উচিত ছিল কারো পেছনে না লেগে চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করা। সেটা না করে তারা অন্যায়ভাবে তথ্য লুকিয়ে আইনের হাত থেকে রক্ষা পেতে চেয়েছিল। তারা যা করেছে, সেটা খুবই দুঃখজনক এবং নীতিহীন। তাদের হিংস্র আচরণে আমি কষ্ট পেয়েছি। এখন সবকিছু দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি নির্দোষ।’

default-image

এ নিয়ে কথা বলতে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, প্রযোজক সমিতির বর্তমান কমিটি বাতিল হওয়ার কথা তারা শুনেছেন। কিন্তু এখনো কোন চিঠি পাননি। সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘আদালত ২০১৬–১৮ সালে নির্বাচনে আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরে আমরা ২০১৯–২১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সে সময় কোন মামলা হয়নি। সেখানে বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়ের ৭ কর্মকর্তা এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে গেছেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর চার মাস পরে এসে ২০১৬–১৮ সালের কাগজ দেখিয়ে অবৈধ ঘোষনা করা হচ্ছে। তারা কি তবে অবৈধ নির্বাচন করে দিয়ে গেলেন? যা হয়েছে, সেটা সঠিক না। আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রুত আপিল করব।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জায়েদ খানের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেসব অভিযোগের তদন্তের জন্য উপসচিব মো. আব্দুল আওয়ালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রযোজক ও মেসার্স জেড কে মুভিজের স্বত্ত্বাধিকারী জায়েদ খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যুক্তিসংগত নয়।
গত বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচন।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0