জয়ার অলৌকিক জানালা

বিজ্ঞাপন
default-image
default-image

মৃত্যুর পর কমলালেবু হয়ে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। আর অভিনেত্রী জয়া আহসান চান পানির ট্যাংকের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে, পশ্চিমবঙ্গের বাড়ির জানালা থেকে দেখা পানির ট্যাংক। কলকাতার যোধপুর পার্কের বাড়ি থেকে দূরে দেখা ট্যাংক।

লকডাউনে আটকে অনেক দিন প্রিয় শহর কলকাতায় যান না অভিনেত্রী জয়া আহসান। কলকাতা তাঁর আরেক প্রাণের শহর। সেখানে এখন তাঁর অনেক স্বজন, অনেক বন্ধু, বাড়ির কাছে চেনা হয়ে গেছে গাছ আর পাখিদের। ছবি মুক্তির সময় শহরটা হয়ে যায় যেন জয়া আহসানের। নেতাজি সুভাষ বসু বিমানবন্দর থেকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত যেতে যত বড় বড় বিলবোর্ড, সবটাই কেবল তাঁকেই দেখা যায়। যত উড়ালসড়কের ধারক, ছেয়ে থাকে তাঁর নতুন সিনেমার পোস্টারে। সেসব স্মৃতির তাড়নায় ফেসবুকে অভিনেত্রী লিখেছেন এক দীর্ঘ পোস্ট। তিনি লিখেছেন—

default-image

‘কবে আবার যোধপুর পার্কের বাড়ির এই জানালাটার পাশে গিয়ে বসব? চোখে লেগে থাকবে অস্পষ্ট ঘুমের রেখা। হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। বহুদূর পর্যন্ত আবছা হয়ে যাওয়া কলকাতার নগররেখা। ঝেপে ঝেপে বৃষ্টি এসে কখনো পর্দা টেনে দেবে প্রকৃতির।

‘জানালা তো যেকোনো বাড়ির চোখ। কলকাতার বাড়ির এই দিঘল চোখের জানালাটাই ছিল আমার মুক্তির দরজা। এর ভেতর দিয়ে বয়ে আসা হাওয়ার ঝাপট কোথায় উড়িয়ে নিয়ে যেত আমার ক্লান্তি, আমার অবসন্নতা। আহা, আমার মন-ভালোর জানালা!

default-image

‘এই জানালাগুলোর বুক অবধি উঠে আসা গাছগুলো ছিল আমার প্রাণ। ওগুলোর জন্যই আমি লোভে পড়ে গিয়েছিলাম বাড়িটি নেওয়ার জন্য। গাছগুলোর চারপাশ ভরে থাকা পাখিগুলোই আমার নিত্য প্রতিবেশী। জানালার পাশে ওদের আপ্যায়নের জন্য খাওয়া রেখে দিতাম বলে ওদের সঙ্গে সখ্যও হয়েছিল গাঢ়। কাকও আসে প্রচুর। নুডলস ওদের কী যে প্রিয় ছিল!

‘জানালার ওপারের দেবদারুগাছটার কথা মনে পড়ছে বারবার। একটা বড় বাজপাখি এসে বসত গাছটার ওপর। রোজ, একদম একা একা। অন্য কোনো পাখির সঙ্গে ওকে কখনো দেখিনি। আমার জন্যই ও আসে, এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগত। আমার টোটেম হয়ে উঠেছিল যেন পাখিটা। দেবদারুর শিখরে বাজপাখি, এই প্রখর সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয়?

default-image

‘আরেক দিকের জানালায় দীর্ঘ কৃষ্ণচূড়াগাছ। ওতে মৌমাছিরা চাক বেঁধেছে। সেই মৌচাক দেখতাম শোয়ার ঘরের জানালা দিয়ে। বাঁধভাঙা সূর্যের আলোয় কৃষ্ণচূড়ার টকটকে লালে ডুবে যেত প্রতিদিনের মলিনতা। আম্পানের তাণ্ডবে ডালপালা নাকি ভেঙে গেছে গাছটার। খর্ব হয়ে পড়েছে। মৌচাকটাও তো আর থাকার কথা নয়। বুকটা ভেঙে গেছে শুনে। কবে গিয়ে আবার দেখতে পাব আহত ওই কৃষ্ণচূড়াগাছটা?

default-image

‘জানালাটা ছিল আমার ছন্নছাড়া স্বপ্নেরও এক অসম্ভব মুক্তি। দূরে বিরাট বিরাট পানির ট্যাংকি। পানির ট্যাংকি আমার ছোটবেলা থেকে প্রিয়। ওর মধ্যে কেমন যেন অজানার হাতছানি। সব সময় মনে হয়, “সিটি অব অ্যাঞ্জেল”-এর দেবদূতগুলোর মতো মরে যাওয়ার পর আমিও ওই পানির ট্যাংকের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে থাকব। কল্পনার কোন দিগন্তে যে নিয়ে যেত আমার জানালা!

‘ওই অলৌকিক জানালাগুলো আমি ফিরে পাব কবে?’

default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জয়া আহসানের শুরু হয় ‘আবর্ত’ ছবি দিয়ে। সর্বশেষ সেখানে মুক্তি পেয়েছে তাঁর ‘রবিবার’ ছবিটি। ‘কণ্ঠ’ ছবিটিতে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বলা যায় কলকাতা অনেক দিয়েছে এই অভিনেত্রীকে। সম্মান, সম্মাননা, খ্যাতি, ভালোবাসা—কোনোটিই কম পাননি তিনি। সম্প্রতি ভারত থেকে ‘তুমি অনন্যা ২০২০’ সম্মাননা পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

default-image

পশ্চিমবঙ্গে মুক্তির অপেক্ষায় আছে জয়া আহসান অভিনীত ‘বিনিসুতোয়’, ‘ভূত পরী’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ও ‘ঝরা পালক’ ছবিগুলো। ‘ঝরা পালক’ ছবিতে কবি জীবনানন্দ দাশের স্ত্রী লাবণ্য দাশের ভূমিকায় দেখা যাবে জয়াকে। এ ছাড়া বাংলাদেশে শুটিং শেষ করেছেন ‘পেয়ারার সুবাস’ ও ‘অলাতচক্র’ সিনেমার। এ ছাড়া শুটিং অসমাপ্ত রয়েছে ‘বিউটি সার্কাস’ নামে একটি ছবির।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন