default-image
ছয় মাস যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন ঢাকার সিনেমার খলনায়ক মিশা সওদাগর। এসেই নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন তিনি। শিগগিরই শুরু হবে আটকে থাকা বেশ কয়েকটি ছবির শুটিং যেগুলোতে কাজ করছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আর নানা বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

কবে ফিরেছেন?

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর গিয়েছিলাম যুক্তরাষ্ট্রে। ২১ মার্চ ঢাকায় পা রাখলাম। প্রায় ছয় মাস থেকে এলাম। এর আগে আরও পাঁচ–ছয়বার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছি। সর্বোচ্চ এক–দেড় মাস থাকা হয়েছে এর আগে। এবারই এত দীর্ঘ সময় থাকলাম।

যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় ছিলেন?

আমার পরিবার সেখানেই থাকে। দুই ছেলে পড়াশোনা করছে সেখানে। ছোট ছেলে তাঁর মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে থাকে, বড় ছেলে থাকে টেক্সাসে। প্রথমে গিয়ে নিউইয়র্কে ছিলাম। সেখানকার করোনার অবস্থা ভয়াবহ। এক মাসের মাথায় আমরা সবাই টেক্সাসে বড় ছেলের কাছে চলে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় পাঁচ মাস ছিলাম।

কী করে কাটালেন?

ছেলেদের অনলাইনে ক্লাস হয়। এ কারণে সময়টা কাটানো সহজ হয়েছে। ১৯৯৩ সালে বিয়ের পর থেকে পরিবারকে কাছে থেকে এতটা সময় দেওয়া হয়নি। চলচ্চিত্রে কাজ করার কারণে বাংলাদেশে থাকতে টানা এক সপ্তাহও পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়নি। একটা ছবির শুটিং শেষ হলেই আরেক ছবির শুটিং শুরু হতো। এবার পরিবারকে পুরো সময়টা দিতে পেরেছি। সবাই মিলে এক শহর থেকে আরেক শহরে ঘুরেছি। স্ত্রী, সন্তানেরা এত দীর্ঘ সময় আমাকে কাছে পেয়ে খুবই খুশি।

বিজ্ঞাপন
default-image

খুব জানতে ইচ্ছে করে স্ত্রী–সন্তানেরা আপনার সিনেমা দেখে কী বলে?

আমার স্ত্রী তো শিক্ষক। সে আমার অভিনয়ের কঠিন সমালোচক। বড় ছেলে প্রায় পাঁচ বছর আমার ছবি দেখার সুযোগ পায় না। দেশের বাইরে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। আর ছোট ছেলের বয়স যখন আট, তখন সে আমার সিনেমা দেখে বলত, ‘বাবা তুমি বেশি বেশি খাবা। তাহলে সিনেমার শেষে গিয়ে হারবা না।’

ইচ্ছা করেই কি এত সময় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে?

ইচ্ছা ছিল না। কারণ আমি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর করোনা আবার নতুন করে বাড়তে থাকে। ওই সময় তো করোনার ভ্যাকসিন তৈরি নিয়েও তোড়জোড় চলছিল। ভাবলাম, ভ্যাকসিন নিয়ে একবারে বাংলাদেশে ফিরব। দুই ডোজ টিকা নিয়েই দেশে ফিরেছি।

দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে, আপনার হাতে থাকা ছবিগুলো নিয়ে সমস্যা হয়নি?

না, কোনো সমস্যা হয়নি। করোনার কারণে তো শুটিং বন্ধ ছিল। এক–দুই মাস হলো পুরোদমে শুটিং শুরু হয়েছে। ‘শান’, ‘দীন: দ্য ডে’ ও ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবি তিনটির ডাবিং বাকি আছে। ‘আগুন’ ও ‘প্রেমের বাঁধন’ নামে দুটি ছবির শুটিং বাকি। সবগুলো ছবির পরিচালকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসেই নিয়মিত কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে তাঁদের কোনো সমস্যা হয়নি।

default-image

এখন কী করছেন?

যে তিনটি ছবির ডাবিং বাকি আছে, পর্যায়ক্রমে ওই ছবিগুলোর ডাবিং করব। আর বাকি দুটি ছবির শুটিং শিডিউল অনুযায়ী শুরু হবে।

শুনলাম, দেশে ফিরেই নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন?

হ্যাঁ, ২৪ মার্চ রাতে ‘রিভেঞ্জ’ নামে একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ২০ এপ্রিল থেকে শুটিং শুরু হবে। এ ছাড়া সাইফ চন্দনের ‘পোস্টার’, সাইফুল ইসলাম মান্নুর ‘অনাবৃত’ এবং নাম ঠিক না হওয়া একটা ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ৭ এপ্রিল থেকে ‘অনাবৃত’ সিনেমার কাজ শুরু হতে পারে।

আপনার কমিটির মেয়াদে শিল্পী সমিতির অনেকেই সদস্যপদ হারিয়েছেন। পদ হারানো শতাধিক শিল্পীর মিছিল–মিটিং নিয়ে বিএফডিসি বেশ উত্তপ্ত ছিল। অনেকেই বলেন, ঝামেলা এড়াতেই আপনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরতে সময় নিয়েছেন। ঘটনা কি সত্য?

না, এটি মিথ্যা কথা। আমি ঝামেলা নিয়ে চিন্তা করি না, ভয়ও পাই না। পরিবার ও গ্রিনকার্ডসংক্রান্ত কারণে একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়। তা ছাড়া আমার অনুপস্থিতিতে ডিপজল সাহেব ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সমস্যা তো হয়নি।

বিজ্ঞাপন
default-image

পদ হারানো শিল্পীরা কি পদ ফিরে পেতে পারেন?

যখন বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে, সদস্যপদ হারানো শিল্পীরা আন্দোলন করেন। ওই সময় চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। এরপর আমরা বলেছিলাম, যোগ্য ব্যক্তিদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমি আমেরিকা থেকে ফিরেই বৃহস্পতিবার শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে বসেছিলাম। কমিটির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি আলাপ–আলোচনা হয়েছে। আমাদের এই কমিটির মেয়াদকালেই যোগ্যদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

সমিতির মেয়াদ তো এ বছরই শেষ হচ্ছে। আবার নির্বাচন করবেন?

অক্টোবর মাসে শিল্পী সমিতির মেয়াদ শেষ হবে। এরপর তিন মাসের মাথায় নির্বাচন দিতে হবে। সঠিক সময়েই আমরা নির্বাচন দেব। আর আমি নির্বাচন করব কি না, তা এই মুহূর্তে বলতে চাইছি না। সময়ই বলে দেবে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই আস্তে আস্তে ঢালিউড সরব হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন থেকে মন্দা চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই আস্তে আস্তে সিনেমাপাড়া সরব হচ্ছে। ছোট পরিসরে হলেও ছবির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে। বলতে পারেন, এটি একটি আশার আলো। পৃথিবীজুড়ে এখন সিনেমায় পরিবর্তন এসেছে। দর্শকের রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। এখন সিনেমায় বাজেটের চেয়ে গল্পের দিকে গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি। গল্পভিত্তিক ছবি তৈরির প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ওটিটি ও প্রেক্ষাগৃহ থেকে এসব সিনেমার বিনিয়োগ উঠে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন