বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে এটাও ঠিক, তাঁর চিন্তা তো চেষ্টা করলেও কেউ শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তারপরও কাজটি শেষ করা আমার দায়িত্ব ছিল। করেছিও। আমি তো তার মতো করতে পারব না কখনো। তার মাপে যেতেও পারব না। কখনোই এটা সম্ভব নয়। এই সিনেমা দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা আমার দায়িত্ব ছিল। টুটুলের স্বপ্নের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, এটাই স্বস্তির ও আনন্দের।’

default-image

২০১৭-১৮ অর্থবছরের সরকারি অনুদানের ছবি ‘কালবেলা’। ছবির গল্প ২০০১ সালে আইন ও সালিশ কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত নারীর ৭১ ও যুদ্ধপরবর্তী কথ্যকাহিনি থেকে নেওয়া। চলচ্চিত্রটির প্রধান দুই চরিত্র মতিন ও সানজিদা। মতিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিশির আর সানজিদা চরিত্রে তাহমিনা অথৈ। পরিচালকের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘আকার’ থেকে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এর আগে ২০০৩ সালে সরকারি অনুদানে সাইদুল আনাম টুটুল নির্মাণ করেন তাঁর প্রথম ছবি ‘আধিয়ার’।

চলচ্চিত্র ও নাটকের সম্পাদক হিসেবে সাইদুল আনাম টুটুলের পরিচিতি নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। ১৯৭৯ সালে সূর্য দীঘল বাড়ী চলচ্চিত্রে কাজ করে শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ‘ঘুড্ডি’, ‘দহন’, ‘দীপু নাম্বার টু’ ও ‘দুখাই’–এর মতো বিখ্যাত সব চলচ্চিত্রের তিনি সম্পাদক। ‘কালবেলা’ চলচ্চিত্রের সম্পাদনা নিয়ে তাই স্ত্রী মোবাশ্বেরা খানমের একটা মানসিক চাপ ছিল।

default-image

তিনি বলেন, ‘আমি তো এই জগতে একেবারেই নতুন। এমন যদি হতো যে ওর কাজে সব সময় যুক্ত থেকেছি, তাহলে বুঝতাম। তবে এই সিনেমায় শুরু থেকে সবকিছুতে আমাকে যুক্ত রেখেছিল টুটুল। এই সিনেমার সম্পাদনা করেছেন সামীর আহমেদ, পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে সম্পাদনায় পড়াশোনা করেছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। আমার সঙ্গে পরিচয় ছিল না, টুটুলের সঙ্গে পরিচয় ছিল, কথা বলার পর তিনি রাজি হন। সম্পাদনার সময় আমি পাশেই ছিলাম। তিনি খুবই সিরিয়াস। হি ট্রাইড হিজ লেভেল বেস্ট ডেফিনেটলি। দেখা যাক।’

সানজিদা চরিত্রের অভিনয়শিল্পী তাহমিনা অথৈ ছোটবেলা থেকেই নাটক–সিনেমার পোকা। টুকটাক উপস্থাপনার কাজও করতেন। তবে অভিনেত্রীই হবেন, আগেভাগেই ঠিক করে নিয়েছিলেন জীবনের এই লক্ষ্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যকলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করে অভিনয়ের টানেই ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার প্রথম দিনই সাইদুল আনাম টুটুলের সঙ্গে যোগাযোগ। তিনি তখন ‘কালবেলা’ চলচ্চিত্রের জন্য নায়িকা খুঁজছিলেন।

default-image

অথৈ বলেন, ‘প্রথম দিন সকালে কথা বলে বাসায় ফেরার পর সন্ধ্যায় স্যার এসএমএস করে আমার বাসার ঠিকানা চান, স্ক্রিপ্ট পাঠাবেন। পরদিন আমিই স্যারের বাসায় যাই। সেদিন তাঁর বাসায় অনেক আলোচনা হয়। গল্পটা বুঝিয়ে দেন। কালবেলার সানজিদা চরিত্রের জন্য তৈরি হই। স্যারের সঙ্গে অসংখ্য স্মৃতি। ছবিটি মুক্তির সময় তিনি নেই ভাবতেই আমার কান্না পায়।’

‘কালবেলা’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ। আবহ সংগীতের কাজটিও তিনি করেছেন। তিনিও এ বছরের এপ্রিলে করোনায় মারা গেছেন। ছবিতে আছে তিনটি রবীন্দ্রসংগীত। গানগুলোয় কণ্ঠ দিয়েছেন লাইসা আহমদ লিসা ও ছায়ানটের শিক্ষার্থীরা। শিশির ও তাহমিনা অথৈ ছাড়া এ ছবিতে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লুৎফর রহমান জর্জ, জুলফিকার চঞ্চল, কোহিনূর, তানভীর মাসুদ, সাইকা আহমেদ, নওশের আশফাক, সুমন আহমেদ বাবু, শিশুশিল্পী সিয়াম, মোরসালিন প্রমুখ।

default-image

শুটিং, ডাবিং, সম্পাদনা, আবহ সংগীত, সেন্সর ছাড়পত্রসহ যাবতীয় কাজ শেষে ‘কালবেলা’ যখন মুক্তির জন্য প্রস্তুত, তখনই দেশে হানা দেয় করোনা। আটকে পড়ে ছবিটির মুক্তি। অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সাইদুল আনাম টুটুলের স্বপ্নের চলচ্চিত্র ‘কালবেলা’। প্রথম আলোকে ‘কালবেলা’ মুক্তির দিনক্ষণ জানালেন মোবাশ্বেরা খানম, ‘ডিসেম্বরে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি। প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হচ্ছে। মুক্তির আগে আরও যা যা করণীয়, সবই করা হচ্ছে।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন