এই পোস্টে দেখা গেছে, একটি স্থিচরিত্রে শিশু কোলে বসে আছেন জয়া, পাশে আরেকজন অভিনয়শিল্পী নিকিতা নন্দিনী শিমু। নববর্ষে এভাবে রিকশায় ঘোরাঘুরির বিষয়টা আশপাশে থাকা কেউ বুঝতে পারেননি বলে জানালেন জয়া আহসান। শুটিং ও রিকশায় চড়ার অভিজ্ঞতা জয়া তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন। পোস্টে লেখাটি হুবহু এ রকম, ‘বাংলা ১৪২৯ সালের প্রথম দিন পুরোনো অভিজ্ঞতা নতুন করে অনুভব করার সুযোগ হলো। দিনব্যাপী কাজ করলাম সেই চারুকলা, সেই রমনার বটমূল প্রান্তরে। কত বছর পর সেখানে যাওয়া, তা–ও নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার এই বিশেষ দিনে, আহ! অদ্ভুত ভালো লাগায় আচ্ছন্ন ছিলাম পুরোটা দিন। আর এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম ও তাঁর ইরানি ইউনিটকে। পুরো ইউনিটের সবাই মিলে আজ আমরা গায়ে জড়িয়েছিলাম বৈশাখী পোশাক। ভীষণ আনন্দে কেটেছে পুরোটা দিন। এই ইউনিটের সঙ্গে বিগত দুই সপ্তাহ ধরে কাজ করছি “ফেরেশতে” নামের চলচ্চিত্রে। ব্যস্ততার কারণে এত দিন কিছুই জানাতে পারিনি। তবে আশা রাখি, সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগিরই আমরা এই চলচ্চিত্রের বিস্তারিত সব তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। স্বপ্ন পূরণের বছর হোক ১৪২৯। সবাইকে আবারও নববর্ষের রঙিন শুভেচ্ছা।’

default-image

পোস্টের সূত্র ধরে কথা হয় জয়া আহসানের সঙ্গে। জানালেন, এভাবে ঢাকার রাস্তায় অনেক দিন রিকশায় চড়েছেন তিনি। প্রথম আলোকে আজ শুক্রবার দুপুরে জয়া বললেন, ‘সত্যি বলতে অনেক দিন পর রিকশায় চড়লাম। স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় এসব পথ দিয়ে যেতাম, সেই জারুলগাছ, টিএসসির মোড়। এবার একটা মজাও ছিল যে ক্যামোফ্লেজ করে ঘুরছিলাম তো, আমার গায়ের রং ডার্ক করা হয়েছে। কাপড়চোপড়ও অতিসাধারণ। একটা শিশু কোলে ছিল বলে লোকজন খুব একটা বুঝতেও পারেনি। খুব মজাই লাগছিল আসলে, সেটা খুব উপভোগ করছিলাম। অনেক মিডিয়ার ক্যামেরা ছিল, তারাও আমাকে চিনতে পারেনি। সেটা খুব মজা পাচ্ছিলাম। সবচেয়ে বেশি মজা পাচ্ছিলাম যে নববর্ষ তো অনেক দিন কেটে গেল, নানাভাবে নববর্ষ কাটিয়েছি। এবার সেই পুরোনো জায়গায় গিয়ে নববর্ষকে একদম আমজনতার সঙ্গে অন্যভাবে অনুভব করা হলো। রিকশায় চড়তেও দারুণ লাগছিল, রোদটা একটু কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু আনন্দটা এত বেশি ছিল যে রোদটা গায়ে মাখছিলাম না।’

default-image

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও সমান জনপ্রিয় জয়া আহসান। ৯ বছর ধরে ভারতের চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। সেখানে তাঁর প্রথম মুক্তি পাওয়া ছবি ‘আবর্ত’। ‘রাজকাহিনি’, ‘কণ্ঠ’, ‘ভালোবাসার শহর’, ‘বিজয়া’, ‘বিসর্জন’, ‘বিনিসুতোয়’সহ যেসব ছবি মুক্তি পেয়েছে, সব কটিই প্রশংসিত হয়েছে। কলকাতায় জয়ার জনপ্রিয়তা, সিনেমায় তাঁর চাহিদা সেখানকার যেকোনো অভিনেত্রীর জন্য ঈর্ষণীয়। যদিও জয়ার কাছে সফলতা কেবলই এক গন্তব্য। সবাইকে ছাপিয়ে একা হাঁটা নয়, বরং সবাইকে জড়িয়ে থাকা। তাই তো তিনি সফল নন, তিনি সার্থক। কলকাতায় এই মুহূর্তে যেসব পরিচালক ও প্রযোজক ভালো কাজ করছেন, তাঁদের আস্থার শিল্পী তিনি। যার ফল পাচ্ছেন হাতেনাতে। সিনেমা হিট হওয়ার পাশাপাশি তিন-তিনবার পেয়েছেন ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড।

default-image

এবারই প্রথম তাঁকে নিয়ে কাজ করলেন ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম। জয়া জানালেন, এই মাসের শেষের দিকে চলচ্চিত্রটির শুটিং শেষ হবে। শিগগিরই ছবিটি নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন