বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্তরাত্মার আগে আরেকটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে পাবনা গিয়েছিলেন শাকিব খান। রংবাজ নামের সেই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন শবনম বুবলী। ছবির পরিচালক শামীম আহমেদ রনী বললেন, ‘পাবনার কিন্তু আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। দারুণ কিছু লোকেশনও আছে। শুধু থাকার ভালো ব্যবস্থা নেই। বিমান যোগাযোগ একটা সমস্যা। তবে তারকাদের নিয়ে থাকার মতো একটি রিসোর্ট আছে, কিন্তু সেটা ব্যয়বহুল।’

default-image

পাবনায় শুটিং অভিজ্ঞতা শাকিব খানের খুবই ভালো। চমৎকার কয়েকটি লোকেশন তাঁকেও মুগ্ধ করেছে। শাকিব বলেন, ‘বাংলাদেশটা ছবির মতো সুন্দর। শুধু আন্তরিকতার অভাবে আমরা এই সৌন্দর্যকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারছি না। পাশাপাশি অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়নও দরকার। থাকার জন্য একটাই ভালো মানের জায়গা আছে। যোগাযোগও হতে হবে সহজ। আকাশপথে গেলেও আড়াই ঘণ্টার সড়কপথে ভ্রমণ করা লাগে। পাবনার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হলে জেলাটিকে ঘিরে আরও অনেক সুন্দর লোকেশনের খোঁজ মিলবে।’

default-image

পোড়ামন টু, দহনসহ আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে আলোচিত রায়হান রাফী। তাঁর নতুন চলচ্চিত্র নূর–এর শুটিংয়ের জন্য তিনিও পাবনাকেই বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ দিনের এক লট শুটিংও শেষ করেছেন তিনি। নূর–এ অভিনয় করছেন আরিফিন শুভ ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। তরুণ এই অভিনয়শিল্পী জানালেন, আগে কখনো পাবনায় যাননি। তবে প্রথমবার শুটিংয়ের জন্য গিয়ে ভালো লেগেছে। ঐশী বললেন, ‘জায়গাটা খুব সুন্দর। কিন্তু আবহাওয়াটা একটু ডিফারেন্ট। পানি ও আবহাওয়া এসবের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতেও একটু সমস্যা হয়েছে। তাই শরীরটাও একটু খারাপ হয়ে পড়ে। তবে ওখানকার মানুষকে খুব আন্তরিক মনে হয়েছে।’

পরিচালক-প্রযোজক ও নায়ক-নায়িকা এবং কলাকুশলীরা একবাক্যে স্বীকার করলেন, পাবনা সুন্দর জায়গা। শুটিংয়ে নতুনত্ব পাওয়া গেছে। পরিচালক ও প্রযোজক সূত্রে জানা গেছে, পাবনায় অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। শতবর্ষী পুরোনো কলেজ ভবন যেমন আছে, তেমনি আছে জমিদারবাড়ি। চলনবিল, চাটমোহর শাহি মসজিদ, পদ্মা উপকূলবর্তী এলাকা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ঈশ্বরদী জংশন, টেবুনিয়া বাগানবাড়িসহ আরও অনেক দর্শনীয় জায়গা পাবনা ও আশপাশে রয়েছে। এসব এলাকা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরলে পর্যটন খাতকেও এগিয়ে নেওয়া যাবে।

default-image

তবে যোগাযোগ ও থাকার ব্যবস্থা অপ্রতুল। পাবনা শহরে এখনো ভালো মানের কোনো হোটেল তৈরি হয়নি। থ্রি স্টার মানের একটি আবাসিক হোটেলের কাজ চলছে। একটা সময় ঢাকা থেকে ঈশ্বরদীতে বিমান যাতায়াত ছিল, এখন নেই। তখন মাত্র ১৫ মিনিটে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা শহরে আসা যেত। এখন কেউ বিমানে পাবনা যেতে চাইলে রাজশাহী বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে ১০৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাবনায় আসতে হয়। এটা একটা বড় ভোগান্তি। রাস্তায় জ্যাম হলে এ ভোগান্তি আরও বাড়ে।

রায়হান রাফী জানালেন, দর্শক এখন কনটেন্টের পাশাপাশি সুন্দর এবং রিয়েলিস্টিক লোকেশন দেখতে চায়। পরিচালকেরা তাই পাবনার দিকে ছুটছেন। রাফী বললেন, ‘আমার তো পাবনা শহরটা বিউটিফুল লেগেছে। সত্যিকারের লোকেশনে শুটিং করেছি। কোনো স্পট ধরে কিছু করিনি। আমার এই চলচ্চিত্র দর্শক নতুন একটা এলাকা দেখবে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ধরে আমরা কাজ করছি। এটা তো এককথায় বিউটিফুল। এত সুন্দর জায়গা বাংলাদেশে আছে, আমরা কল্পনাও করিনি।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন