মুক্তির আগেই দেশের বাইরে থেকে নানা সুখবর নিয়ে এসেছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নোনা জলের কাব্য’। জেলেপাড়ার জীবন নিয়ে এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, তিতাস জিয়া, তাসনুভা তামান্না, শতাব্দী ওয়াদুদ, অশোক ব্যাপারী, আমিনুর রহমান মুকুলসহ আরও অনেকে। বুসান ও বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পর সিঙ্গাপুর ও কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই সিনেমার প্রদর্শনী নিয়ে আলাপ হলো ছবির পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ারের সঙ্গে।
বিজ্ঞাপন
default-image

সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নোনা জলের কাব্য’ কীভাবে স্থান পেল?

আমরা সিনেমাটি জমা দিয়েছিলাম জুলাই মাসে। উত্তর আসতেও বেশ সময় লেগেছে। সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবটি সাধারণত এশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নতুন মুখগুলোকে জায়গা করে দেয়। এবারের আসরে আমাদের ‘নোনা জলের কাব্য’ যাচ্ছে। এতে আমরা সবাই বেশ আনন্দিত। আমাদের তাসনুভা তামান্না এর আগেও একবার গিয়েছেন সিঙ্গাপুরে তাঁর ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ (আব্দুল্লাহ মো. সাদ পরিচালিত) ছবিটি নিয়ে। সেবার বাংলাদেশের জন্য পুরস্কার ও সুনাম নিয়ে এসেছিল এই সিনেমা।
এ ছাড়া আমরা এবার কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নেটপ্যাক প্রতিযোগিতায় স্থান করে নিয়েছি। উৎসবটি নভেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও বিরাজমান করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

default-image

৬৪তম বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ভার্চ্যুয়াল প্রদর্শনী থেকে কেমন সাড়া পেলেন?

লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমরা দারুণ সাড়া পেয়েছি। ছবিটি অসংখ্য দর্শক দেখেছেন। স্ক্রিন ইন্টারন্যাশনাল, সাইট অ্যান্ড সাউন্ড ম্যাগাজিন এবং দ্য আপকামিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের ছবি রিভিউ করেছে। ২২টি রিভিউ পেয়েছি। একটা বাংলাদেশী সিনেমার জন্য এরকম ঘটনা কমই ঘটে। বিশ্ব বিখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক রজার ইবার্টের ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়েছে, ‘‘‘নোনা জলের কাব্য’ এবারের বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অন্যতম হাইলাইট।’ তাদের লেখায় আমাদের ছবির চিত্রগ্রাহক চানানুন চোতরুনগ্রজের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। এটি দেখে আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে। কারণ, এই ছবির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন চানানুন। তিতাস জিয়া ও ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয় নিয়েও আন্তর্জাতিকভাবে লেখালেখি হয়েছে।

default-image

আর বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিক্রিয়া?

আমাদের ছবিটি বুসানে প্রথম সিনেমা হলে দেখানো হয়। প্রদর্শনীর ঠিক পরেই আমি ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হলাম দর্শকদের মাঝে। অসম্ভব ভালো লাগার একটি মুহূর্ত ছিল সেটি। কোরিয়ান দর্শকেরা বেশ সংবেদনশীল। তাঁদের প্রশ্নগুলো শুনে তা বেশ টের পেলাম। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্কুলের কোরিয়ান বন্ধু উনজে পার্ক আমার ছবির শেষ টিকিটটি কিনে সিউল থেকে ভোর পাঁচটার ট্রেনে রওনা দিয়ে বুসানে এসে ছবিটি দেখে। সিনেমা হলে ওকে দেখে আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। আমার বিশ্বাস একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ ও অকৃত্রিম ভালোবাসার এই শক্তিতেই বিশ্বের চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তির ব্যাপারে কী ভাবছেন?

‘নোনা জলের কাব্য’ প্রথমত বাংলাদেশের ছবি। তবে লন্ডন, বুসানের পর আমরা টের পেয়েছি আন্তর্জাতিক বাজারেও এর একধরনের আবেদন আছে। সে জন্য হয়তো যুক্তরাজ্যের সেলস কোম্পানি ফিল্ম রিপাবলিক সম্প্রতি আমাদের ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০২১ সালকে ঘিরে এখন আমাদের সব পরিকল্পনা। যদি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে হয়তো মার্চে ছবিটি বাংলাদেশের সিনেমা হলে মুক্তি দিতে পারব। ব্যাপারটি নিয়ে স্থানীয় পরিবেশকদের সঙ্গে কথা চলছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীতে বিশেষ প্রদর্শনী রাখবেন তো?

বাহ! আপনার মনে আছে আমাদের সেই পরিকল্পনার কথা। জেলেপাড়ার ভাইয়েরা এখনো প্রতি সপ্তাহে আমাকে ফোন করেন এবং জানতে চান, সিনেমাটি দেখে মানুষ কী বলছে। তাঁরাই কিন্তু এই ছবির কেন্দ্রবিন্দু, তাঁদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা আমাকে করতেই হবে। ঘূর্ণিঝড়, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা ইলিশ মাছের পরিসংখ্যানের বাইরেও তাঁদের একটি জীবন আছে। তাঁদের স্বপ্নগুলো খুবই রঙিন। ‘নোনা জলের কাব্য’ ছবিতে এই ব্যাপারগুলো উঠে এসেছে। আশা করছি, বাংলাদেশের মানুষ ছবিটি দেখবেন।

default-image

নতুন আর কী খবর আছে এই ছবির?

সেটা সময় হলেই বলব!

পরিচালক হিসেবে বর্তমান ব্যস্ততা?

এশিয়ার একটি কনটেন্ট স্টুডিওর জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছি আমার প্রতিষ্ঠান মাই পিক্সেল স্টোরির ব্যানারে। এখন শুটিংয়ের প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই ছবিটি দর্শকেরা দেখতে পারবেন।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0