default-image

ডুবসাঁতার ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১০ সালে। পেরিয়ে গেছে এক দশক। এখনো নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র রুপালি পর্দায় আসেনি। এই আক্ষেপ যতটা না দর্শকের, তার চেয়ে ঢের বেশি এই নির্মাতার। সপ্তাহখানেক ধরে তাঁকে ফোন করে, বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। একসময় নিজেই ফোন করে বলেন, ‘আমি কথা বলতে চাই। কিন্তু আমার কাজ কোথায়? একটা মানুষের কাজ নেই, শুধু কথা আছে, তাহলে হয় না। হ্যাঁ, বেশ কয়েক বছর ধরে আমি প্রতিটি দিনই সিনেমা যাপন করেছি। কিন্তু তাঁর কোনো আউটপুট দেখা যাচ্ছে না। তাই চাই, আগে হাতের কাজ আরও খানিকটা এগিয়ে নিই, তারপর নাহয় কথা বলি। তাতে আমার কথার একটা মানে দাঁড়াবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image
এতগুলো দিন নূরুল আলম আতিক কীভাবে ব্যয় করলেন, ২০২১ সালে দর্শক এর ফল দেখতে পাবেন। বড় পর্দায় মুক্তির জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে এই নির্মাতার তিন সিনেমা—লাল মোরগের ঝুঁটি, পেয়ারার সুবাস ও মানুষের বাগান। তবে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর দৌড়ে কে প্রথম হবে, সেই ফলাফল এখনই ফাঁস করা যাচ্ছে না।

পরিচালকের দাবি মুক্তিযুদ্ধের ছবি লাল মোরগের ঝুঁটির খরচ ছুঁয়ে ফেলেছে আট অঙ্ক। এর একটি বড় অংশ বাংলাদেশ সরকারের অনুদান। বাকিটা এসেছে ছবির প্রযোজক মাতিয়া বানু শুকুর পাণ্ডুলিপি কারখানা থেকে। আশনা হাবিব ভাবনা, জ্যোতিকা জ্যোতি, আহমেদ রুবেল, আশীষ খন্দকার, দোয়েল ম্যাশ, স্বাগতা অভিনীত ছবিটি এখন সম্পাদনার টেবিলে। সমানতালে চলছে ডাবিং। ডিসেম্বরে ছবিটি জমা পড়বে তথ্য মন্ত্রণালয়ে। জানুয়ারিতে যাবে সেন্সর বোর্ডে। আর সবকিছু ঠিক থাকলে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে বড় পর্দায় লাল মোরগের ঝুঁটির সঙ্গে চোখাচোখি হবে দর্শকের।

default-image

মানুষের বাগান সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের পাঁচটি বৈচিত্র্যময় গল্পে সাজানো। জ্যোতিকা জ্যোতি, স্পর্শিয়া, স্বাগতা, প্রসূন আজাদ অভিনীত ছবিটি প্রযোজনা করেছে ব্ল্যাক মিরর ফিল্মস। কলকাতা থেকে এই প্রযোজক জানান, ছবিটিকে এই পর্যন্ত আনতে ব্যয় হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। কাজ প্রায় শেষ। মুক্তি নিয়ে চলছে নানান পরিকল্পনা। সে কারণেই প্রযোজক কলকাতায় এসেছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

আর বৈবাহিক সম্পর্কের গল্প নিয়ে পেয়ারার সুবাস ছবির প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল এই মুহূর্তে আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কথা হলো হোয়্যাটসঅ্যাপে। ‘আমাদের ছবিটির কান্ডারি মূলত দুজন। নূরুল আলম আতিক আর জয়া আহসান। এই নির্মাতা যখন চিত্রনাট্য নিয়ে আমার সঙ্গে বসেন, আমি গল্প শোনার পাঁচ মিনিটের মাথায় বলেছি, ভাই, আমরা ছবিটা করছি। এমন ভাবনা ভাবার মতো নির্মাতা খুব কম। জয়ার বেলায়ও ঘটেছে একই ঘটনা। গল্প শুনে পাঁচ মিনিটের মাথায় বলেছেন, ছবিটা তিনি করছেন।’ বললেন শাকিল। তিনি আরও জানান, প্রচারণা, পরিবেশনা বাকি রেখেই ছবিটি বানানোর খরচ ছাড়িয়ে গেছে এক কোটি। তবে ছবি তৈরি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতেও ছবিটি পাঠানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর।

নূরুল আলম আতিকের জন্য সময়টা খুবই অদ্ভুত যাচ্ছে। এক দশকের বিনিয়োগ করা শ্রম, মেধা আর নির্ঘুম রাতের তিন ফুল এই ফুটল বলে। সেই চাপা উত্তেজনা, ব্যস্ততা আর উৎকণ্ঠায় কাটছে এই নির্মাতার দিনরাত।

মন্তব্য করুন