'দেখে মনে হয়, সার্কাস চলছে'

বিজ্ঞাপন
default-image

অসময়ে টালমাটাল ঢালিউড। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ। বাঁচার জন্য পেশা বদল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চলচ্চিত্রের অনেকেই। দীর্ঘদিন কাজ নেই বলে অনেক কলাকুশলী ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থাতেও কদিন ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে চলছে হইচই। বিষয়বস্তু সিনেমা নয়, এই অঙ্গনের আধিপত্য। ক্ষমতার দাপট ধরে রাখা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঘটেছে বর্জনের মতো ঘটনা। শিল্পী সমিতির ১৮৪ জনের সদস্যপদ হারানো নিয়ে হয়েছে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, সভা-সমাবেশ। অভিনেতা আমিন খান একে আখ্যায়িত করেছেন ‘চলচ্চিত্রের সার্কাস’ নামে। এসব নিয়ে কথা বলতেও বিব্রত জ্যেষ্ঠ শিল্পী ও পরিচালকেরা।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছে চলচ্চিত্রের ১৮ সংগঠন। গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনগুলো। পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের প্রতিবাদ জানান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা। ওই দিন সকালে সমিতির সদস্যপদ হারানো ১৮৪ জনের অনেকেই এফডিসির সামনে মিশা-জায়েদের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেন। করোনা মহামারির কারণে যেখানে সামাজিক দূরত্ব মানতে হচ্ছে বিশ্বকে, সেখানে গত রোববারের সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে ছিল চলচ্চিত্রের মানুষদের গাদাগাদি।

default-image

চলচ্চিত্র অঙ্গনের এসব ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মতিন রহমান বলেন, ‘যেসব ঘটছে, সবই অমঙ্গলজনক। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বড় দুর্ঘটনা আহ্বানের সূচনা। এখন একত্রে থাকার সময়, ক্ষমতা দেখানোর নয়। যাঁরা ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন, তাঁরা আদৌ এই ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চান কি না, সন্দেহ। এটাও ঠিক, কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্রে কাদা-ছোড়াছুড়ি হচ্ছে বেশি।’

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কারও কারও মতে, আশঙ্কাজনক হারে চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় এই অঙ্গনে কর্মহীন মানুষ বেড়েছে। আগে বছরে শতাধিক ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেত। এখন সেটা নেমেছে ৫০-এর নিচে। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে চিন্তা না করে বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকে ব্যস্ত। যাঁরা কাজের মানুষ, তাঁরা ঠিকই কাজ করছেন। তবে হঠাৎ হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় সবাই বিব্রত। চলচ্চিত্রে এখন পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব রয়েছে বলে জানান তাঁরা।

default-image

ঢালিউডের এসব ঘটনাকে স্বাভাবিক মনে করছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খান। তিনি বলেন, ‘প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের শিক্ষার অভাব রয়েছে। তাই সবকিছু একটা জায়গায় থেমে গেছে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে না জানা মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা অকাজে দৌড়াচ্ছে বেশি। যদি কাজ জানত, কাজের প্রতি প্রেম থাকত, তাহলে এসব হতো না। সবকিছু দেখে মনে হয়, সার্কাস চলছে।’

বাংলা সিনেমার বরেণ্য অভিনয়শিল্পী শবনম বলেন, ‘আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতেই নাই। তবে কয়েক বছর হলো শুনছি এই অঙ্গন নাকি ক্ষমতা দেখানোর জায়গা হয়ে গেছে। সিনেমা ছাড়াই নিজেদের পাবলিসিটিতে ব্যস্ত এখানকার লোকেরা। এখন কত কত সমিতি। কত কত সদস্য, শুধু যে চলচ্চিত্রকে পুঁজি করে এত কিছু, সেই চলচ্চিত্রই হচ্ছে না। আফসোস।’

default-image

চলচ্চিত্রে কয়েক দশকের অভিনয়জীবন আলমগীরের। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা আর প্রযোজনাও করেছেন। বরেণ্য এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বও সাম্প্রতিক এসব ঘটনাকে দুঃখজনক বলেছেন। যা ঘটছে, তা নিয়ে কথা বলাটাও অস্বস্তির বলে জানালেন। তিনি বললেন, ‘করোনার এই সংকট কাটিয়ে চলচ্চিত্র কীভাবে নির্মিত হবে, সেটাই ভাবা উচিত। পর্দায় কীভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরতে পারব, তা নিয়ে ভাবছি না।’

এসব কাদা-ছোড়াছুড়ি না করার আহ্বান জানিয়েছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজক সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যেও কিন্তু ঝগড়া, মান-অভিমান হয়েছে, কিন্তু নিজেরাই সমাধান করেছি। ভক্ত ও দর্শকদের সেসব জানতে দিইনি। তাতে নিজেদেরই সম্মান নষ্ট হতো। বিষয়টি সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন