ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মুক্তি পেল দুটি ছবি
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মুক্তি পেল দুটি ছবিকোলাজ: আমিনুল ইসলাম

প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৬ অক্টোবর খুলে দেওয়া হয় প্রেক্ষাগৃহ। দুটি নতুন ছবি মুক্তি পাওয়ার পর আর কোনো ছবি মুক্তি পায়নি গত কয়েক মাসে। প্রেক্ষাগৃহজুড়ে তখন নতুন ছবির ‘নেই নেই’ রব পড়ে যায়। পুরোনো ছবি দর্শক টানতে না পারায় বন্ধ হওয়ার পথে কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহ। এমন সময় হুট করেই ডিসেম্বর মাস এল সুখবর নিয়ে। দ্বিতীয় সপ্তাহে মুক্তি পেল দুটি ছবি। নতুন স্বাভাবিকে বছর শেষে প্রেক্ষাগৃহে নতুন ছবিতে আনন্দিত দর্শক, হলমালিক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

default-image

সিনেমার হল খোলার পরে মুক্তি পেয়েছিল দুটি নতুন ছবি `সাহসী হিরো আলম' ও `ঊনপঞ্চাশ বাতাস'। কিন্তু এরপর প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। এ অবস্থায় নতুন ছবির অভাবে লোকসান গুনেই যাচ্ছিলেন হলমালিকেরা। অনেকেই আশঙ্কা করেন, নতুন ছবির অভাবে অনেক সিনেমা হল চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এরই মধ্যে গত ১১ ডিসেম্বর `রূপসা নদীর বাঁকে' ও `বিশ্বসুন্দরী' সিনেমা দুটি মুক্তি পেয়েছে। `রূপসা নদীর বাঁকে' তিনটি সিনেপ্লেক্স ও পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের সব সিনেপ্লেক্সসহ প্রায় ২৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে 'বিশ্বসুন্দরী'। এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় দুই ডজন নতুন ছবি তৈরি। দর্শক আসবে না—এই আশঙ্কায় ছবি মুক্তি দিচ্ছেন না প্রযোজকেরা। এরই মধ্যে তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত 'রূপসা নদীর বাঁকে' ও চয়নিকা চৌধুরীর 'বিশ্বসুন্দরী' ছবি মুক্তি ও দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় অনেক প্রযোজকই ছবি মুক্তিতে আগ্রহী হবেন।

default-image

স্ত্রীকে সঙ্গে করে শনিবার দুপুরে শ্যামলী সিনেপ্লেক্সে 'বিশ্বসুন্দরী' দেখতে গিয়েছিলেন দর্শক হাবিব শাকিল। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজন ছবিটি দেখে আনন্দ পেয়েছি। ছবির অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, সিয়াম ও পরীমনিকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে হলজুড়ে দর্শকের চিৎকার দেখেছি। ছবির গানের সঙ্গে দর্শকেরাও কণ্ঠ মিলিয়েছেন।’ তিনি জানান, ছবি নিয়ে এই সময়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ নয়। অস্থির এই সময়ে সিনেমা হলে গিয়ে একটু আনন্দ পাওয়াও অনেক বড় ব্যাপার।

'বিশ্বসুন্দরী' ছবির নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, আগামী সপ্তাহে আরও হল বাড়বে। তিনি বলেন, ‘দর্শকের ভালো সাড়া পাচ্ছি। আগামী সপ্তাহে আরও কিছু হলে ছবিটি মুক্তি দিচ্ছি। এরই মধ্যে বেশ কিছু সিনেমা হলের মালিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’

default-image

স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রথম দিন বসুন্ধরা শপিং মল শাখায় দুটি হলে ছয়টি শো নির্ধারিত ছিল বিশ্বসুন্দরী ছবির। কিন্তু দর্শকের চাপে সন্ধ্যায় আরও একটি শো বাড়াতে হয়েছে। সিনেপ্লেক্সের তিনটি শাখার মধ্যে বসুন্ধরায় ভালো চলছে ছবিটি। করোনার মধ্যেও দর্শকের আগমন এতটা আশা করিনি। রূপসা নদীর বাঁকে ছবিটি আমাদের একটি হলে চলছে। অতটা দর্শক না হলেও ছবিটি নিয়ে দর্শকেরা প্রশংসা করছেন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

এদিকে ১৬ ডিসেম্বর 'নবাব এলএলবি' ও ’প্রিয় কমলা’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। মাসের শেষ দিকে 'টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই' নামে আরেকটি নতুন ছবি মুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও দর্শকের হলমুখী হওয়াকে সিনেমার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গুণী নির্মাতা মতিন রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ দীর্ঘদিন ঘরবন্দী। নতুন সিনেমা দেখতে, একটু আনন্দ নিতে দর্শক হলে যাচ্ছেন। এটি এ সময়ে স্থবির হয়ে থাকা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য সুখবর। আশা জাগাচ্ছে প্রযোজক, পরিচালক, হলমালিকদের। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, ভয় কাটিয়ে দর্শক হলমুখী হলে, ছবি মুক্তি দিতে প্রযোজকদের ভয় কেটে যাবে।’

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন