default-image

ঢালিউডের উঠতি তারকা সিয়াম আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন ‘স্টে হোম, স্টে সেফ’। সবাইকে নিরাপদে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো নায়ক নিজেই নিরাপদে বাড়িতে থাকার সুযোগ পাননি। খুলনায় নতুন ছবি অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন–এর শুটিং করছেন তিনি। ইউনিট–সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সুন্দরবন থেকে ফিরে পূর্বপরিকল্পনামতো তাঁরা মোংলায় শুটিং করছেন।

গত বৃহস্পতিবার সুন্দরবন অংশের শুটিং শেষ করে অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন ছবির ইউনিটের সবাই লঞ্চে করেই পানখালীতে পৌঁছান। গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন। যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে দেশে সব ধরনের শুটিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সব কটি সংগঠন, সেই নিষেধ অবজ্ঞা করে শুটিং চালিয়ে যাওয়ায় সবাই বিস্মিত।

তিন দিন আগে খবর রটে, শুটিং বাদ দিয়ে পুরো ইউনিট ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে। রোববার ছবিসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এখনো শুটিং করছেন। এমনকি ৪ এপ্রিল পর্যন্ত শুটিংয়ের অনুমতিও রয়েছে তাঁদের।

গতকাল নায়ক সিয়াম স্পট থেকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাজ করেই কাটছে বেশির ভাগ সময়। কখনো অভিনয়, কখনো স্ক্রিপ্ট পড়ে সময় কাটছে। আমাদের অ্যাক্টিং ট্রেইনার আছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলে কিছু শেখার চেষ্টা করছি।’

জানা গেছে, শুটিংয়ের জন্য ১৩ মার্চ অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা সুন্দরবন অঞ্চলে পৌঁছান। নায়ক–নায়িকা, একঝাঁক শিশুশিল্পী, কলাকুশলীসহ শতাধিক মানুষ এ ইউনিটের সঙ্গে আছেন। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘শুটিং চলছে। তবে ফেরার প্রস্তুতিও আছে। শুটিং শেষে রাতে সবাই বসে পরিকল্পনা করবে যে কী করা হবে। যা বুঝেছি, আমরা এক সপ্তাহ থাকলেও ছবির কাজ শেষ হবে না। জলের ওপরে থাকতে থাকতে সবাই এখন সিকনেসে ভুগছে। আর ভালো লাগছে না।’

আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘যত দূর শুনেছি, তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই চলছে শুটিং। তারা আমাদের জানিয়েছে, এখনই ফেরার ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পথে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।’

মোংলা থেকে বরিশাল হয়ে ঢাকায় ফিরবে শুটিংয়ের এ লঞ্চ। পথে প্রয়োজনীয় শুটিং সেরে নেবে। এমনটাই পরিকল্পনা শুটিং ইউনিটের। সদরঘাট অংশের শুটিংয়ের পরিকল্পনা পরে করা হবে। করোনাভাইরাস নিয়ে সবাই যেখানে সতর্ক, এ সময় শুটিংয়ে আতঙ্ক বোধ করছেন কি না জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজন জানান, ‘সবাই তো পানির ওপরে আছি। বাইরের লোকদের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই। বাজারসদাই আনার জন্য একটা ছেলে বাইরে যায়। ফেরার পর তাঁকে নিয়মানুযায়ী পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে ঢুকতে দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় সব প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। শুটিংয়ের সবাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত নিয়ম মেনে চলছেন।’ শহীদুল আলম সাচ্চু জানান, তাঁরা একটি লঞ্চে থাকছেন, আরেকটিতে শুটিং করছেন। শুটিং শেষ করে তাঁরা ঢাকায় ফিরবেন।

অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন ছবির বিষয়ে প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অবগত। আমরা প্রযোজক ও পরিচালকদের জানিয়েছি। তাঁদের বলেছি, এই ছবির শুটিংয়ে ২০টি শিশুসহ অভিনয়শিল্পীদের বড় একটা গ্রুপ আছে। এ ধরনের সংকটময় সময়ে যদি ইউনিটের কেউ করোনায় সংক্রমিত হন, তাহলে পুরো দায় ছবির প্রযোজক ও পরিচালককে নিতে হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তাঁরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে শুটিং করছেন।’

ছবিতে আরও অভিনয় করছেন পরীমনি, তানভীর, কচি খন্দকার, আশীষ খন্দকার প্রমুখ। শিশুদের ভ্রমণের গল্প নিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস রাতুলের রাত রাতুলের দিন থেকে ছবির চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। পরিচালনা করছেন আবু রায়হান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0