default-image

নায়িকা কবরী পর্দা থেকে নেমে এসে ছড়িয়ে পড়লেন বাংলায়। চার দশকের বেশি সময় ধরে যে অঙ্গনে তিনি ছিলেন রানি হয়ে, সেই জায়গা অবশ্য ছেড়ে যাননি। তাঁর সহকর্মী অভিনেত্রীদের অনেকেই তখন অবসর নিয়েছেন, কেউ হয়েছেন প্রবাসী। কবরী রয়ে গেলেন সিনেমায়। কখনো প্রযোজক, কখনো পরিচালক হিসেবে। পাশাপাশি কবরী মিশে গেলেন মানুষের মধ্যে।

অভিনেত্রী কবরীর গুণের ফিরিস্তি লেখা বাহুল্য। কয়েক প্রজন্মের নারী–পুরুষের বুকের ভেতরের সংরক্ষিত আসনে তিনি অমলিন এক মিষ্টি স্মৃতি। পর্দায় তাঁর দুঃখে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন অনুরাগীরা, হেসেছেন তাঁর আনন্দে, গেয়েছেন তাঁর সঙ্গে। আর সহশিল্পীরা যেন ছিলেন কবরীর আত্মার স্বজন। যে রাজ্জাকের নায়িকা হয়েছিলেন আবির্ভাব, ময়নামতি, নীল আকাশের নীচে, ক খ গ ঘ ঙ, দীপ নেভে নাই, রংবাজ ছবিগুলোয়, তাঁকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জন রটবে না? অথচ রাজ্জাকের বাড়ির খাবার টেবিলে তাঁর স্ত্রী–সন্তানদের সঙ্গে সময় কেটেছে কবরীর। গুঞ্জনের জবাবে জানিয়েছিলেন, ভীষণ ভালো বন্ধু ছিলেন তাঁরা। এর চেয়ে ভালো কোনো সম্পর্ক হয়?

বিজ্ঞাপন
default-image

সিনেমায় ভিন্ন ধাঁচের কিছু করতে চেয়েছিলেন কবরী। পরিচালক হিসেবে তাই জীবনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি করলেন অ্যাসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতন করতে আয়না। প্রশংসাও কুড়াল ছবিটি, পেল পুরস্কার। নিজে যেভাবে কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটেছিলেন, ঠিক সে রকম কাঁচা, নবীনদের হাত ধরে টেনে নিয়েছেন নিজের ক্যামেরার সামনে। বিদেশের উৎসবগুলোয় গিয়ে সিনেমা উপভোগ করা, ঢাকায় চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করার অভিজ্ঞতাগুলো হয়ে উঠেছিল তাঁর অনুপ্রেরণা।

মানুষের জন্য কাজ করতে, মানুষের সঙ্গে থাকতে, দেশ বদলাতে কবরী রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন জনপ্রতিনিধি হিসেবে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানকার মানুষের জন্য নানা রকম কাজ করেছেন তিনি।

default-image

সহশিল্পীদের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সঙ্গে নিতেন উপহার। আন্তরিকতার সঙ্গে বসে গল্প করতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কখনো ফোনে, কখনো নিজের বাড়িতে বসত আড্ডা। অনুষ্ঠানগুলোয় উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দিতে, স্মৃতিচারণ করতে ভালোবাসতেন কবরী। কনিষ্ঠদের অনুপ্রাণিত করতেন, তাঁদের কাজের প্রশংসা করতেন।

তবে মৃত্যুকে তাঁর বড্ড ভয় ছিল। মৃত্যুর কথা মনে হলে কবরীর চোখ ভরে যেত জলে। এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘সবাইকে ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে যেতে হবে, ভাবলেই ভয় হয়। তাই মৃত্যুর আগপর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। যত দিন বাঁচব, মানুষের কাছে আপন হয়ে থাকতে চাই, মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাই।’ তিনি থেকেছেন। যেসব কাজ তাঁকে ভুলতে দেবে না, সেসবই করে গেছেন অভিনেত্রী কবরী।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন