প্রথম সিনেমার জন্য সাঁওতালপল্লিতে নীপা
প্রথম সিনেমার জন্য সাঁওতালপল্লিতে নীপাছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহীর সাঁওতালপল্লিতে গিয়ে হাজির নায়িকা। ভিন্ন পরিচয়ে গোগ্রামের সাঁওতালদের সঙ্গে মিলেমিশে শিখতে শুরু করেন তাদের ভাষা, চালচলন ও নানা অভ্যাস। এসবের উদ্দেশ্য একটাই, ‘সুজুকি’ ছবির প্রস্তুতি। সাঁওতালদের গল্প দেখা যাবে ছবিটিতে।
শুটিং শুরু করার বেশ আগে রাজশাহীতে গিয়েছিলেন নবীন অভিনেত্রী সৈয়েদা নীপা। মাকে নিয়ে উঠেছিলেন একটি হোটেলে। সেখান থেকে প্রতিদিন ভোর ছয়টায় পৌঁছে যেতেন সাঁওতালপল্লিতে। সারা দিন সেখানকার মানুষের সঙ্গে কাটিয়ে ফিরতেন রাতে। তাঁদের ভাষা চর্চার জন্য বন্ধু জুটিয়েছিলেন নীপা। রাতে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতেন। নীপা বলেন, ‘সাঁওতালদের ভাষা আমার জন্য খুবই কঠিন। যখন চিত্রনাট্য পড়ে কিছু বুঝতে পারছিলাম না, তখন মাকে নিয়ে সাঁওতালপল্লিতে চলে যাই। কেন গিয়েছি, এর বিস্তারিত কিছু্ই বলিনি তাদের। খুব কাছ থেকে তাদের সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করেছি। প্রথম সিনেমা বলে কথা, এতটুকু ছাড় দিতে চাইনি।’

default-image
বিজ্ঞাপন

সিনেমাটির শুটিংয়ের জন্য লোকেশন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রাজশাহী ও দিনাজপুরের সাঁওতালপল্লিগুলো। ছবির প্রধান আরেক চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিপন মিত্র। তিনি জানালেন আরেক মজার অভিজ্ঞতা। সাঁওতালদের গ্রাম আগে কখনো দেখেননি এই অভিনেতা। সেখানে বাড়ি, মাঠ ও খেত বেশ দূরে দূরে। মানুষগুলো অনেক মিশুক। অনেক দিন পর মুক্ত আকাশের নিচে বেশ আনন্দে কাটিয়েছেন তিনি।
সাঁওতালপল্লির পাশেই নাট্যকার বরজাহান হোসেনের বোনের বাড়ি। পাঁচ বছর আগে সেখানে বেড়াতে গিয়ে সাঁওতালদের জীবন দেখে গল্পটি মাথায় আসে তাঁর। সেই গল্প ভাগাভাগি করেন নির্মাতা শোয়েব সাদিকের সঙ্গে। গল্পের প্রেক্ষাপট ভালো লাগে নির্মাতার। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলে চিত্রনাট্য উন্নয়নের কাজ। পরিচালক বলেন, ‘সাঁওতালদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, তাদের দুঃখ–দুর্দশা, প্রেম–ভালোবাসা নিয়ে ছবির গল্প। তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতেই ছবিটি নির্মাণ করছি।’

default-image

‘সুজুকি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ৩০ জন। ছবিতে গান করেছেন সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ব্যান্ড ‘সেনেগেল’। নির্মাতা শোয়েব সাদিক জানান, ব্যান্ডটি সাঁওতাল ভাষায় গান করবে। এমনকি ছবির গবেষণা দলেও কাজ করেছেন ওই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা।

default-image

নির্মাতা বলেন, ‘শুটিংয়ের জন্য ঢাকা থেকে আলাদা কোনো প্রপস নিতে হয়নি। সেট ডিজাইন করার জন্য অনেক পুরোনো জিনিস দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছেন সেখানকার মানুষ। সেখানকার সাঁওতালবাড়িগুলোই হয়ে উঠেছিল শুটিং বাড়ি। তাদের গরুর গাড়ি, লাঙল, রান্নাঘর, খেত—সবই আমরা শুটিংয়ের জন্য ব্যবহার করছি।’
‘সুজুকি’ ছবিতে দেখা যাবে মুক্তিযুদ্ধের পরের গল্প। এখানে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, আরমান পারভেজ মুরাদ, কচি খন্দকার প্রমুখ।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0