ফরীদিতে মুগ্ধ ছিলেন এ টি এম শামসুজ্জামান
ফরীদিতে মুগ্ধ ছিলেন এ টি এম শামসুজ্জামানছবি: প্রথম আলো

হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন বাংলাদেশের অভিনয়জগতের এক উজ্জ্বল তারা। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি চলে গেছেন। মাত্র ৬০ বছর বয়স হয়েছিল তাঁর। মঞ্চ, টেলিভিশন আর চলচ্চিত্রে ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চলে গেলেন বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের আরেক তারা, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ টি এম শামসুজ্জামান। এই দুই তারা মৃত্যুর ওপারে গিয়ে হয়ে গেলেন নক্ষত্র।
হুমায়ুন ফরীদি সম্পর্কে তাঁর অগ্রজ শিল্পী আল মনসুর বলেছিলেন, ‘এ মাটিতে জন্ম নেওয়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চির উজ্জ্বল অভিনেতা হলো হুমায়ুন ফরীদি।’ এটি কোনো অতিমূল্যায়ন নয়। হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা স্বীকার করবেন, এত বড় মাপের শিল্পী সত্যিই এ মাটিতে জন্ম নেওয়া শিল্পীদের মধ্যে বিরল। আল মনসুরের উক্তিতে যে অত্যুক্তি নেই, তা–ই যেন উচ্চারণ করেছেন এ টি এম শামসুজ্জামান।

default-image
ফরীদি একজন জাত অভিনেতা। অভিনয়ের ওপর এমন কোনো পড়াশোনা নেই, সে করেনি। অভিনয়ের যে আচার-আচরণ, যে বৈশিষ্ট্য, আগেভাগে সে সব ঠিক করে রাখে। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি।
এ টি এম শামসুজ্জামান

ফরীদি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘ফরীদি একজন জাত অভিনেতা। অভিনয়ের ওপর এমন কোনো পড়াশোনা নেই, সে করেনি। অভিনয়ের যে আচার-আচরণ, যে বৈশিষ্ট্য, আগেভাগে সে সব ঠিক করে রাখে। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখি।’

বিজ্ঞাপন

হুমায়ুন ফরীদি সম্পর্কে একটা ব্যাপারে অনেকেই একমত হবেন। তিনি যেই মাপের অভিনেতা, তার খুব কমই ব্যবহার করা বা কাজে লাগানো হয়েছে। অনেকে আবার আক্ষেপ করে বলেন, হুমায়ুন ফরীদিকে ঠিকমতো তুলে ধরবে, এ রকম পরিচালক, চিত্রনাট্য বা চরিত্রই ছিল না। ফরীদি নিজেও তা জানতেন। একই কথা খাটে এ টি এম শামসুজ্জামানের বেলায়ও। আর সে কথা বলেছেন খোদ হুমায়ুন ফরীদি। বলেছেন, ‘সিনেমায় এ টি এম ভাই যে অভিনয় করেন, এর চেয়ে অনেক বড় মাপের অভিনেতা তিনি। কিন্তু তাঁকে দিয়ে আমরা সেই কাজটা করাতে পারছি না।’

সিনেমায় এ টি এম ভাই যে অভিনয় করেন, এর চেয়ে অনেক বড় মাপের অভিনেতা তিনি। কিন্তু তাঁকে দিয়ে আমরা সেই কাজটা করাতে পারছি না।
হুমায়ুন ফরীদি
default-image

গত পরশু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে একই কথা বলেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমানও।

ফেব্রুয়ারিতেই চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। এমন ফেব্রুয়ারিতেই চলে গিয়েছেন হুমায়ুন ফরীদি। অনেকেই এই দুজনার তুলনা টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছে, এ টি এম শামসুজ্জামান তবু বেশ কিছু সময় থেকে গেছেন। কিন্তু হুমায়ুন ফরীদি তো অকালে ঝরে গেছেন

তিনি বলেছেন, ‘তিনি মানুষ হিসেবে অত্যন্ত সৎ, সরল আর মানবিক গুণের অধিকারী। চিত্রকলা, সাহিত্য আর সিনেমা—এই তিন শাখায়ই তাঁর দখল ছিল। কিন্তু এসব চাপা পড়ে গেছে তাঁর খল আর কৌতুক অভিনয়ের আড়ালে। এ টি এম শামসুজ্জামানের কাছের মানুষেরা ছাড়া অন্যরা তাঁর এই দিকগুলো সম্পর্কে কিছুই জানল না।’

default-image

ফেব্রুয়ারিতেই চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। এমন ফেব্রুয়ারিতেই চলে গিয়েছেন হুমায়ুন ফরীদি। অনেকেই এই দুজনার তুলনা টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছে, এ টি এম শামসুজ্জামান তবু বেশ কিছু সময় থেকে গেছেন। কিন্তু হুমায়ুন ফরীদি তো অকালে ঝরে গেছেন। তবে হুমায়ুন ফরীদি বা এ টি এম শামসুজ্জামান যে মাপের শিল্পী, তাঁদের যাওয়ার কোনো সময় হয় না। তাঁদের চিরবিদায় বলার জন্য কেউ কখনো প্রস্তুত থাকে না।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন