বিজ্ঞাপন

দেড় মাসের বেশি সময় চিকিৎসা গ্রহণের পর বাসায় বিশ্রামে আছেন তিনি। তারপর আর তিনি কোনো শুটিংয়ে অংশ নেননি। এখন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত বলে জানান তিনি। রুনি জামান আরও জানান, এ টি এম শামসুজ্জামানের সর্বশেষ ইচ্ছা, মনের মতো একটি গল্প লিখবেন। সেই গল্প দিয়ে নিজেই নির্মাণ করবেন সিনেমা। শিগগিরই তিনি চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করবেন।

default-image

আর্থ্রাইটিজে আক্রান্ত প্রবীর মিত্র। ২০১৭ সালের মে মাস থেকে তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন। শুটিংয়ের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে। তারপর থেকেই তিনি অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। এর মধ্যেই তিনি গত জুলাই মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবার সেরে উঠেছেন। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় তিনি ক্যামেরা থেকে দূরে। এখন অনেকটা সুস্থ। তাই তিনি অভিনয় করতে চান এমনটিই জানালেন তাঁর পুত্রবধূ সোনিয়া ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘বাবা অভিনয়ের জন্য ছটফট করছেন। তিনি অভিনয়পাগল। এখনো তাঁর পায়ের ব্যথা আছে। তিনি কিছুটা হাঁটতে পারেন। এ অবস্থায় অবশ্য বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে যদি কোনো নির্মাতা চান, তাহলে আমাদের বাসায় এসে স্বল্প পরিসরে কাজ করতে পারবেন। হয়তো বাবার অভিনয়ের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ হবে।’

এ টি এম শামসুজ্জামান ও প্রবীর মিত্র পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় তাঁদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা ঢাকাতেই শুরু করেন নাট্যচর্চা।

পরিচালক এইচ আকবরের ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন প্রবীর মিত্র। এই ছবির গল্প ও সংলাপ লিখেছিলেন তাঁর বন্ধু এ টি এম শামসুজ্জামান। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রবীর মিত্র ‘নায়ক’ হিসেবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর ‘চরিত্রাভিনেতা’ হিসেবে কাজ করেও তিনি পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা।

default-image

তৎকালীন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয় পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘শিরি ফরহাদ’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘ঘর ভাঙা ঘর’, ‘বাল্যশিক্ষা’-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অসুস্থ হওয়ার আগে প্রায় ৪০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
এ টি এম শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্রজীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রের পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
অভিনয়ের জন্য এই দুই প্রবীণ অভিনেতা পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন