default-image

অবশ্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সেক্রেটারি আওলাদ হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় কোন ছবিটি ভালো চলছে, এখনো বলার মতো সময় আসেনি। তবে এটুকু জানতে পারছি, কোথাও গলুই ভালো চলছে, আবার কোথাও শান। কোথাও থেকে আবার বিদ্রোহীর খবরও পাচ্ছি। ঢাকা এত দিন ফাঁকা ছিল। এখন লোকজন আসা শুরু করেছেন। এই সপ্তাহে আগের চেয়ে দর্শক আরও বাড়বে বলে আশা করছি। এখন পরিচালক ও প্রযোজকদের উচিত ভালো ছবি বানানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।’ তিনি বলেন, সবচেয়ে আশার খবর হচ্ছে, এবারের ঈদে পরিবার নিয়ে অনেকে আসছেন।
ঈদের দিন থেকে গেল কয়েক দিন ঢাকার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ সরেজমিনে দেখেছেন প্রথম আলোর বিনোদন বিভাগের প্রতিবেদকেরা। খোঁজ নেওয়া হয় ঢাকার বাইরের প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষের কাছে। কথা বলা হয় সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের সঙ্গেও। ঢাকায় গলুই ও শান ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে হলমালিকেরা সন্তুষ্ট। বিদ্রোহী যেসব প্রেক্ষাগৃহে চলছে, সেখানে দর্শক উপস্থিতিও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ। ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের সব কটি শাখা, যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন সিনেমাস, মধুমিতা, শ্যামলী সিনেমা, চিত্রামহল, নিউ গুলশান, সৈনিক ক্লাব, বিজিবি, সাভার সেনানিবাস এসব প্রেক্ষাগৃহে গলুই, শান, বিদ্রোহী ও বড্ড ভালোবাসি চলছে। সাভার ও জামালপুরে শাকিব খান ও পূজার গলুই সিনেমার জন্য উপচে পড়া ভিড় ছিল ঈদের দিন থেকে। অন্যদিকে যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসে শান–এর ব্যবসা গলুই–এর চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি বলে জানালেন প্রেক্ষাগৃহের অপারেশন ইনচার্জ এ আই রাজু। ঢাকার কয়েকটি সিনেপ্লেক্সেও গেল কয়েক দিন শান ও গলুই–এর কয়েকটি শো হাউসফুল গেছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

default-image

এদিকে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বললেন, ‘বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে এবারের ঈদে আমরা যেমনটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যবসা হচ্ছে। সব বয়সী দর্শক আসছেন। অনেকে বলে থাকেন, বাংলা সিনেমার দর্শক নেই, এটা আবারও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের এখানে সাধারণত হলিউডের ছবির অনেক দর্শক থাকে, কিন্তু বাংলা ছবির দর্শক বেশি দেখলে যে আনন্দ পাই, তা অন্য কোনো ক্ষেত্রে পাই না।’

default-image

স্টার সিনেপ্লেক্সের সব কটি শাখায় দেখানো হচ্ছে গলুই ও শান। কোন ছবিটির প্রতি দর্শক আগ্রহ বেশি জানতে চাইলে মেজবাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে শাকিব খানের ছবির প্রতি বাড়তি আগ্রহ থাকবে, এটা স্বাভাবিক। অন্যদিকে সিয়ামের ক্যারিয়ার চার বছরের হলেও তাঁর অভিনীত ছবির প্রতিও আগ্রহটা লক্ষণীয়। প্রতিদিনের হিসাবে যা দেখছি, তাতে অ্যাভারেজ করলে গলুই ও শান সমানভাবে আমাদের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকেরা দেখছেন। কোনোটিতে শান–এ বেশি দর্শক থাকলে অন্যটিতে আবার গলুই–এ বেশি দর্শক। এভাবেই চলছে।’

default-image

এদিকে গলুই, শান ও বিদ্রোহী ছবি তিনটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়াতে শাকিব খান ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে পূজা ও সিয়াম প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন। কথা বলছেন, ছবি তুলছেন দর্শকদের সঙ্গেও।
কথা হয় নতুন চালু হওয়া কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসের ব্যবস্থাপক বায়জিদ শাওনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে এখনো অনেকে জানেন না হলটি চালু হয়েছে। আমরা বৃহস্পতিবার থেকে মাইকিং করছি। দর্শক আসা শুরু করেছেন। অফিস শুরু হয়ে গেলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। বাংলা ছবির মধ্যে আমাদের এখানে গলুই ও শান দুটি ছবি চলছে। ছবি দুটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ দেখছি। গত বৃহস্পতিবারের একটি ঘটনা শেয়ার করতে চাই, একটি পরিবার এসেছিল, তারা ২০ বছর আগে শেষ বাংলা ছবি দেখতে এসেছিল, তারা গলুই দেখতে এসেছে।’

default-image

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে চলছে শান ছবিটি। এই প্রেক্ষাগৃহের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘বহু বছর পর আমাদের টানা কয়েকটি শোতে ডিসি ফুল যাচ্ছে। শান ছবিটাও ভালো। দর্শক গ্রহণও করেছেন।’ এই প্রেক্ষাগৃহ কর্মকর্তা এ–ও জানিয়ে রাখলেন, তিনি আগামী সপ্তাহে শাকিব খানের গলুই দেখাবেন। কারণ হিসেবে বললেন, ‘শাকিব ইজ অলটাইম মাই ফেবারিট। অলওয়েজ আমার ফার্স্ট চয়েজ শাকিবই থাকেন। তাঁর সিনেমার একটা ফিক্সড দর্শক আছে।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন