বাজে মন্তব্য কে করল, তা আমি পড়িও না

মুক্তির অপেক্ষায় ‘দিন—দ্য ডে’, শুটিং শেষ হওয়ার পথে ‘নেত্রী—দ্য লিডার’। লকডাউনে অফিস ও সংসার নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে বর্ষার। কেমন কাটছে তাঁর? কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

আফিয়া নুসরাত বর্ষাইনস্টাগ্রাম

প্রশ্ন :

ব্যস্ততা কী নিয়ে?

পরিবার, শরীরচর্চা, ফ্যাক্টরি, বিজনেস।

প্রশ্ন :

লকডাউনের কারণে আপাতত সিনেমার কাজ থেকে দূরে...

হুম্‌। একদমই বন্ধ।

আফিয়া নুসরাত বর্ষা

প্রশ্ন :

‘দিন—দ্য ডে’ ছবির কী খবর?

এককভাবে রিলিজ করতে পারছি না। কারণ, ইরানের সঙ্গে ছবিটা করেছি। মূল প্রযোজক তারাই। অতিমারি কেটে গেলে রিলিজ দেওয়ার চিন্তা আছে। ইরানে সিনেমা হল খুলছে কি না জানি না। তারপরে হয়তো কথা বলব ছবির মুক্তি নিয়ে।

প্রশ্ন :

ছবি তো প্রস্তুত?

ফুল রেডি।

চিত্রনায়িকা বর্ষা
ফেসবুক থেকে

প্রশ্ন :

‘নেত্রী—দ্য লিডার’ ছবি কোন পর্যায়ে আছে?

থার্টি পারসেন্ট কাজ ভারতের হায়দরাবাদে করে এলাম। রোজার ঈদের ছুটির পরে বাংলাদেশে শুটিংয়ের কথা ছিল। কোরবানির ঈদের ছুটির পরে শুটিংয়ের কথা ছিল তুর্কিতে। কারণ, আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশে যেহেতু বৃষ্টির সিজন, এ সময়ে তুর্কিতে শুটিং করব। আসলে কোনোটাই করা যায়নি লকডাউনের কারণে।

চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল ও বর্ষা

প্রশ্ন :

অফিস, সংসার, অভিনয়—কোনটাকে বেশি প্রাধান্য দেন?

স্বাভাবিকভাবেই পরিবার আগে। তারপর হচ্ছে বিজনেস। আমি মনে করি, এটা আমার আরেকটা সন্তান। আমাদের ছুটি হলো শনিবার। সাধারণত, আমি সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস করতাম। দু-তিন মাস হলো আমি ছয় দিনই, মানে শুক্রবারও অফিস করি। কারণ, লকডাউনে দেড় বছর ব্যবসা খুব একটা ভালো ছিল না। এখন বাংলাদেশে বেশ অর্ডার ঢুকছে ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে। কাজের চাপ আছে। বেশ মজা পাচ্ছি কাজ করে। আবার এনার্জি ব্যাক করছে ইন্ডাস্ট্রিতে। সামনে ঈদ। অনেক ব্যস্ততা।

প্রশ্ন :

কবে মনে হলো অভিনেত্রী হওয়া যায়?

ও রকম কোনো ইচ্ছা ছিল না। আমি মডেল ছিলাম। মডেলিংয়ের ইচ্ছা ছিল। যখন অনন্ত জলিলের সঙ্গে প্রেম হলো, তখন সিনেমার ইচ্ছাটা এল। ও বলল আমি সিনেমা করতে চাই। তখন ঢুকে পড়লাম। আগে কোনো প্ল্যান ছিল না।

আফিয়া নুসরাত বর্ষা

প্রশ্ন :

ফেসবুক পেজে কাভার ফটোতে একটা প্রজাপতি আপনার কাঁধের ওপরে। ওটা কি সত্যি প্রজাপতি?

(হেসে) না না না। ওটা গ্রাফিকসে করা।

প্রশ্ন :

আপনার ফেসবুক পাতার লেটেস্ট পোস্টে একটি ছবি দিয়েছেন...

হ্যাঁ, হ্যাঁ। গত শনিবারের ছবি এটা। প্রতি শনিবার আমি ছবি দিই। আমার বন্ধের দিন থাকে। আমি বের হই। খেতে যাই। স্পা করতে যাই। বন্ধের দিনটা আমার কাছে মনে হয়—ওহ্‌, আজকে আমি ভালো খাব, বের হব, সুন্দর ড্রেস পরব। একটু ফ্রি মুডে থাকব। চাপ কম থাকবে। এ কারণে প্রতি শনিবারে আমি একটা করে ছবি পোস্ট করি। সারা সপ্তাহে খুব একটা খাওয়া হয় না। সপ্তাহে এক দিন ভালোমন্দ খাই। সেটা হলো শনিবার।

আফিয়া নুসরাত বর্ষা

প্রশ্ন :

ফেসবুকের এসব ছবির নিচে অনেকেই বাজে মন্তব্য করে। এটা কতটা প্রভাব ফেলে আপনার জীবনে?

বাজে মন্তব্য কে করল, কে না করল, তা আমি পড়িও না। কারণ, আমি মিডিয়াতে কাজ করি। আমি মনে করি, আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ জন্যই নেই, কারণ আমি তো বাইরের প্রডাকশনে কাজ করি না। অন্যদের মতো আমার এ চিন্তা নেই যে আরেকজনকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে আমাকে ঢুকতে হবে। তাঁর মতো আমাকেও লবিং করতে হবে, আরও মুভি করতে হবে। আমি এসবে কোনো পাত্তা দিই না।

আফিয়া নুসরাত বর্ষা

প্রশ্ন :

আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে অনন্ত জলিল ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে অভিনয় করি?

না, একদমই না। ভেতর থেকে বললাম, কখনোই না। আরও যে দু–একটা সিনেমার কথা চলছে, তাতেও না। নরওয়ের সঙ্গে একটা সিনেমার কথা চলছে। এটাও আরেকটা আন্তর্জাতিক সহপ্রযোজনার ছবি। পাকিস্তান, চায়না, নরওয়ে মিলে হবে। ওখানে গল্পটা এমন ছিল যে অন্য শিল্পীর সঙ্গে অভিনয়ের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি বা আমার হাজব্যান্ড কখনোই অন্য কারও সঙ্গে অভিনয় করব না। ক্যারিয়ার বললে আমার মতো করে বুঝলে অনেক কিছু বোঝায়। আমার লাইফ আসলে শুধু শুটিংয়ের জন্য না। আমি বিজনেসের সঙ্গে যুক্ত। আমি চাই, আমাকে যেন বাংলাদেশের মানুষ একজন বিজনেস আইকন হিসেবে চেনে।

প্রশ্ন :

পাশাপাশি অভিনয় চলবে?

না না। ভবিষ্যতে আমি বিজনেস নিয়েই থাকব। আমার ইচ্ছা, বাংলাদেশে আমাকে যেন নারী বিজনেস আইকন হিসেবে চেনে সবাই।

প্রশ্ন :

কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অফিশিয়াল সিলেকশন’ হিসেবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ছবি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ অংশগ্রহণ করেছে। আপনার অনুভূতি কী?

তাদেরকে আমার অভিনন্দন। অবশ্যই এটা দেশের ভাবমূর্তিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করি। এটা ভালো খবর।

বর্ষা

প্রশ্ন :

এখন বর্ষার দিন। আপনার নামের সঙ্গে বর্ষার কোনো সম্পর্ক আছে?

না। এমন কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমার এ নাম রেখেছিলেন খুব বিশেষ একজন মানুষ। তিনি বড় মাপের একজন সাহিত্যিক। আমাদের দেশের অনেক বড় বিজনেসম্যানও ছিলেন তিনি। ওই দাদু মারা গেছেন। তিনি আমার এলাকার ছিলেন। আমাকে খুব আদর করতেন। তিনিই আমার নামটা রেখে গেছেন। তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়তাম। তিনি বলতেন, তুমি এত ফুটফুটে একটা মেয়ে। তোমার এই নামটা ভালো লাগছে না। সাহিত্যিকেরা তো আসলে একটু অন্য রকম নাম পছন্দ করে। তিনি বর্ষা নামটা দিয়ে গেছেন।

অনন্ত জলিল ও বর্ষা। ছবি: ফেসবুক থেকে

প্রশ্ন :

তাঁর নাম কী?

তাঁর নাম প্রফেসর মযহারুল ইসলাম। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন, রাজশাহী ইউনিভার্সিটির ভিসি ছিলেন। অনেক বছর আগের কথা।

প্রশ্ন :

বর্ষায় কী খেতে ভালোবাসেন?

আপাতত খাওয়াদাওয়া ভালোবাসি না। কল্পনাও করিনি আমি কোনো দিন ডায়েট করব।

প্রশ্ন :

ইনস্টাগ্রামে আপনার নামের পাশে খাদিজা লেখা...

ওটাই আমার মূল নাম। আমার সার্টিফিকেট নাম।

প্রশ্ন :

উইকিপিডিয়াতে দেখলাম আফিয়া নুসরাত বর্ষা...

এটা ওই দাদু রেখেছিলেন। বর্ষা হিসেবে যেহেতু সবাই চেনে, তাই বর্ষাটাকে পুরোপুরি ফেলে দিতে পারি না। তবে আমি চাই ক্রমেই মানুষ আমাকে খাদিজা নামে চিনুক। আমি যখন বিজনেস ওম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হব, তখন যেন আমাকে এই নামেই মানুষ চেনে।

প্রশ্ন :

অভিনয়, সংসার আর ব্যবসার বাইরে কোন কাজ করতে ভালো লাগে?

আসলে আমার সময়টা খুবই লিমিটেড। প্রতিদিনের রুটিন একদম বাঁধা বলতে পারেন, ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত। আসলে সারা দিন কোনো না কোনো কিছু নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকি। সময় হয়ে ওঠে না। ওভাবে কিছু বলার মতো নেই। যখন বাসায় গিয়ে একটু বেশি সময় পাচ্ছি, দিনের সেকেন্ড ওয়ার্কআউটটা করে ফেলি। পরিবারকে সময় দিই। একটু রান্না করি। বাচ্চাদের, আমার স্বামীকে সময় দিই। আমি খুব বাস্তববাদী।