বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই মুহূর্তে ‘জয় বাংলা’ ছবিটি পরিচালনা করছেন কাজী হায়াৎ। শুটিং শেষ হতে আরও সময় লেগে যাবে। মাঝে কঠিন অসুস্থতায় পড়েছিলেন কাজী হায়াৎ। আর চলচ্চিত্র নির্মাণে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও ছিল সংশয়। তিনি নিজেও জানিয়েছিলেন, ৫০তম চলচ্চিত্রটি বানিয়ে যেতে চান। সুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ‘বীর’ নামের সেই চলচ্চিত্রটি শেষ করেছেন।

default-image

দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে এখন অনেকেরই নানা অসন্তোষ। কারও মতে, ভালো মানের চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে না বলেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দর্শক। চলচ্চিত্রের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও অসহিষ্ণু সম্পর্ক বিরাজ করছেন। এসব বিষয়ে কাজী হায়াৎ বললেন, ‘এককথায় যদি বলি, সামগ্রিক চলচ্চিত্রের অবস্থা তো ভালো না। চলচ্চিত্রের ভালো করতে হলে এখন সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

সরকার যদিও অনুদান দিচ্ছে, এরপরও মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের দিকে নজরটা বেশি দিতে হবে বলে মনে করছেন কাজী হায়াৎ। তিনি বললেন, ‘আমার বক্তব্য পরিষ্কার, সরকারকে মূলধারার চলচ্চিত্রে অনুদান দিতে হবে। মূলধারার চলচ্চিত্র যদি বেঁচে না থাকে, তাহলে একদিন চলচ্চিত্রই থাকবে না। মূলধারার চলচ্চিত্রের ফাঁকে সব সময় বিকল্পধারা বিকশিত হয়। আর এই চলচ্চিত্র যদি না থাকে, দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।’

default-image

জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মোড়কেই সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অসংগতিগুলো তুলে আনেন কাজী হায়াৎ। মাদক, ইভ টিজিং ইস্যুগুলো নিয়ে যখন প্রবল আলোচনা, তখন এসব বিষয় নিয়ে ছবি করেছেন এই পরিচালক। অনেকের মতে, তাঁর ছবির সংলাপও বেশ স্পষ্ট, সরাসরি উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আঘাত করে। এসব তিনি সচেতনভাবেই করেন বলে জানালেন। আর এসব করতে গিয়ে বাধার মুখেও পড়েছেন, তবে দমে যাননি। তিনি তাঁর মতো করে গল্প বলে গেছেন।

কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আমাদের সিনেমায় দেখা যায়, ধনীর মেয়ে গরিবের ছেলের সঙ্গে প্রেম করছে। মাঝখানে মেয়ের মামাতো, নাহয় চাচাতো ভাই এসে মারপিট করল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধ চলতে থাকল। একদম শেষে এসে দেখা গেল প্রেমের জয় হলো। দর্শক দেখে হল থেকে বেরিয়ে বাড়িতে চলে গেলেন। কী পেলেন তাঁরা সিনেমা থেকে?

default-image

এ ধরনের গল্পের সিনেমা হরহামেশাই হচ্ছে। সমাজের কথা, মানুষের কথা, দেশের কথা—এর মধ্য দিয়ে বিনোদন। কজন বলেন এসব কথা? কিন্তু আমি সেই গোড়া থেকেই বলার চেষ্টা করেছি। সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।’
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কথা বলে যেতে চান কাজী হায়াৎ। কারণ, তাঁর মতে, চলচ্চিত্র মানুষের আবেগ সৃষ্টি করে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি তৈরি করে। তাই সিনেমা তৈরির ব্যাপারে সরকারকে নজর দিতে হবে বলে জানালেন কাজী হায়াৎ।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন