বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অভিনেত্রী হিসেবে তিশার কাজ শুরু স্কুলজীবন থেকে। আগাগোড়া কাজ–অন্তপ্রাণ একজন মানুষ। একদিকে মা হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ। তিনি কীভাবে বিষয়টাকে সামলান, সেটাই পর্যবেক্ষণ করছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। কারণ, তিশা তাঁর যেকোনো সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবেই নেন। সেখানে আগ বাড়িয়ে কিছু বলছিলেন না এই নির্মাতা। ফারুকী বলেন, ‘আমি দেখলাম, ও বেশ শান্তভাবে দ্বিতীয় দিন কাস্টিং ডিরেক্টরকে বুঝিয়ে বলে যে সে কাজটা করতে পারছে না। কারণ, এই মুহূর্তে ও কোথাও যেতে চাচ্ছে না। এই মুহূর্তে সে একটু নিরিবিলি থাকতে চায়, কারণ সে কনসিভ করেছে। কোনো রকম দোটানা ছাড়াই ও ছেড়ে দেয় ওই সুযোগ।’

default-image

অনাগত সন্তানের মা হিসেবে তিশার এই যেন প্রথম ছাড়। তার পর থেকে সন্তানের জন্ম, মা হয়ে ওঠা ও বদলে যাওয়া এক তিশার গল্প যেন একদমই আলাদা, যার সঙ্গে পর্দার অভিনেত্রীর কোনো মিল নেই। তাঁর সব ব্যস্ততা সন্তানকে নিয়ে। সন্তানই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। আর সন্তানের সঙ্গে প্রতিটা মুহূর্ত যেন আবেগ ভরা ভালোবাসা বাড়িয়েই দিচ্ছে। ফারুকী লিখেছেন, ‘ওই যে শুরু, তারপর দেখে আসছি একের পর এক তিশাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে ঘুম, পছন্দের খাওয়া, নিজের জন্য রাখা সময়। আমি মোটামুটি চেষ্টা করি, সব সময়ই তিশার পাশে থাকতে, একসঙ্গে ইলহামকে বড় করতে। তবু সব সময় আমি ভূমিকা রাখার সুযোগ পাই না। কারণ, তিশা কিছু কাজের ব্যাপারে এতই স্পর্শকাতর যে আমার হাতেও ছাড়তে রাজি না। ডায়পার পরানো বা অন্যান্য কাজ আমার হাতে মাঝেমধ্যে ছাড়লেও গোসল করানোটা আমার হাতে ছাড়তে চায় না। তবু আমি লেগেই থাকি। চেষ্টা করি, যতখানি সম্ভব দায়িত্ব ভাগ করে নিতে। ধরা যাক ও ডাবিংয়ে গেল, আমি বেবি সিটার হিসেবে ওর সঙ্গে গিয়ে বসে থাকলাম দূরে কোথাও। কিন্তু একজন মাকে সন্তানের জন্য যা যা করতে হয়, যা যা জীবন থেকে ছাড়তে হয়, বাবারা চব্বিশ ঘণ্টা সময় দিলেও মায়ের যে চাপ, যে অবদান, তার ধারেকাছেও যেতে পারবে না। কথাগুলো আমরা সবাই জানি। আমিও জানতাম, থিওরিটিক্যালি। কথাগুলোর অর্থ কী, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি বাবা হওয়ার পর, বাবা হয়ে সন্তানের মায়ের পাশে থাকার পর।’

default-image

কেন এক দিন পর সন্তানের মা হিসেবে তিশাকে শুভেচ্ছা জানালেন ফারুকী? সেই প্রসঙ্গে ফারুকী লিখেছেন, ‘আমি কখনো এই সব নানাবিধ দিবসটিবস পালন করি না। কিন্তু এবারের মা দিবসের উসিলাটা কাজে লাগিয়া আমি তিশাকে কথাগুলা বলতে চাইছি। “ডুব” ছবিতে একটা দৃশ্য আছে, সাবেরি মাকে সামনাসামনি ধন্যবাদ দিতে পারে না, তাই একটু আড়ালে গিয়ে ফোন দিয়ে বলে। আমার অবস্থাও সেই রকম। মধ্যবিত্ত আড়ষ্টতায় সামনাসামনি ধন্যবাদ দিতে না পারার কারণে ফেসবুকে লিখে দিচ্ছি। লিখতে গিয়ে হচ্ছে আরেক বিপদ। একটু পরপর তিশা এসে বসে পাশে, কখনো ইলহাম খেলা করতে চায়। ফলে গতকাল শুরু করা লেখাটা আজ এসে শেষ হলো। বিলম্বিত মা দিবসের শুভেচ্ছার এই হেতু।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন