default-image

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন প্রবীণ গুণী অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। আজ বিকেল চারটার দিকে তাঁকে বাসায় আনা হয়। বুধবার বিকেলে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দুই দিনের চিকিৎসায় তাঁর শারীরিক সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। সব পরীক্ষায় ভালো ফল এলেও রক্তে কিছুটা সমস্যা পেয়েছেন চিকিৎসকেরা। নিয়মিত চিকিৎসকদের পথ্য অনুসরণ করলে শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই গত দুই দিন তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এ টি এম শামসুজ্জামানের মেজ মেয়ে কোয়েল আহমেদ তাঁর বাবার শারীরিক পরীক্ষার বেশির ভাগ রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। তাতে মনে হয়েছে হাসপাতালে আর থাকার দরকার নেই। তা ছাড়া চিকিৎসকেরাও এই অভিনেতাকে হাসপাতালে রাখতে চাচ্ছিলেন না। কারণ, সেখানে করোনা ইউনিট ছিল। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে কোয়েল বলেন, ‘বাবার বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। আগের সব ওষুধ বদলে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে রক্তে একটি ইনফেকশন ধরা পড়েছে। সে জন্য নিয়মিত ইনজেকশন দিতে হবে। বাসায় নিয়মিত চিকিৎসা নিলেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

এই অভিনেতা বাসায় ঠিকমতো খাবার খেতে চান না। অনেক সময় না খাওয়া নিয়ে জেদও করেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে বলে দিয়েছেন, আগের মতোই তাঁকে জাও ভাত, তরকারি আর ভর্তা দিয়ে নিয়মিত খেতে হবে। হাসপাতালে এলেই তাঁকে ভর্তি করে কেবিনে রাখা হয়। এ জন্য এ টি এম শামসুজ্জামান হাসপাতালমুখী হতে চান। নিয়মিত চিকিৎসার ব্যাপারেও চিকিৎসকেরা কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে যেতে হবে। কোয়েল বলেন, ‘বাবা একদিন হাসপাতালে কাটানোর পরেই বাড়ি ফেরার জন্য অস্থির হয়ে যান। বারবার তাড়া দেন কখন বাড়ি ফিরবেন। দেখা যায়, বাড়ি ফিরলেই তিনি সুস্থ বোধ করেন। এবারও তা–ই হয়েছে।’

গত বুধবার বিকেলে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা প্রথম দিকে ধারণা করেছিলেন, এ টি এম শামসুজ্জামান করোনায় আক্রান্ত। পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়। ফলাফলে জানা যায় করোনা নেগেটিভ। গতকাল এই অভিনেতার স্ত্রী রুনি জামান প্রথম আলোকে জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁরা চিন্তিত। কারণ, এ অভিনেতার বয়স হয়েছে। শরীরও দুর্বল। তা ছাড়া গত কয়েক বছরে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। সব রিপোর্টের ফল পেয়ে কিছুটা চিন্তামুক্ত সবাই।

default-image

২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এ টি এম শামসুজ্জামান। সেদিনও তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ওই রাতে তাঁকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ টি এম শামসুজ্জামানের অন্ত্রে প্যাঁচ লেগেছিল। সেখান থেকে আন্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা। এর ফলে খাবার, তরল, পাকস্থলীর অ্যাসিড বা গ্যাস বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং অন্ত্রের ওপর চাপ বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর কিছু শারীরিক জটিলতা হয়।
এ টি এম শামসুজ্জামান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ লেখক ও গল্পকার। অভিনয়ের জন্য বেশ কয়েকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।

default-image
বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন