বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো সিনেমার প্রচলিত দৈর্ঘ্য, ধরন আর দর্শক—সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। এটুকু বলা যায়, বিশ্ব সিনেমার এই পরিবর্তনকে ঢাকার মূলধারার ইন্ডাস্ট্রি বুঝে ওঠার আগেই ‘বিকল্প ধারা’ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে

স্বাধীন ধারার নির্মাতাদের মধ্যে বিকল্প ধারার ছবি নির্মাণের আগ্রহ ও তৎপরতা বেড়েছে। চিত্রনাট্য দেখে বিদেশি প্রযোজকেরা সেসব ছবিতে বিনিয়োগ করছেন, দিচ্ছেন প্রণোদনা। বিশ্বের স্বনামখ্যাত উৎসবগুলোতে অংশ নিচ্ছে সেসব ছবি, পুরস্কারের জন্য লড়ছে বিশ্বের নানা দেশের সিনেমার সঙ্গে। পাশাপাশি অন্য ভাষার মানুষ সেসব উপভোগ করছেন, মূল্যায়ন করছেন। নানা মাত্রার সম্মানে ভূষিত হচ্ছে সেসব ছবি। আবার আন্তর্জাতিক সিনেমার বাজারে বিক্রিও হচ্ছে।

অন্য দিকে ঢাকার মূলধারার অধিকাংশ ছবি এক সপ্তাহ পর হারিয়ে যাচ্ছে। পরে কখনো হয়তো অলক্ষ্যেই প্রচারিত হচ্ছে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে। দু–একটি ছবি কালেভদ্রে মফস্বলের কোনো কোনো সিনেমা হলে চালানো হচ্ছে। গত প্রায় দুই বছর মহামারির কারণে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকায় এসব ছবির খুব বেশি মুক্তির খবরও শোনা যায়নি। দু–একটি মুক্তি পেলেও কতজন দর্শকের কাছে পৌঁছেছে, সে এক রহস্য।

জাতীয় পুরস্কারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই ধারার অনেকগুলো ছবি। যেমন ২০১০ সালে গহীনে শব্দ, ২০১১ সালে গেরিলা, ২০১২ সালে উত্তরের সুর, ২০১৩ সালে মৃত্তিকা মায়া, ২০১৪ সালে নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ, ২০১৫ সালে অনিল বাগচীর একদিন ও বাপজানের বায়োস্কোপ, ২০১৬ সালে অজ্ঞাতনামা, ২০১৭ সালে হালদা, ২০১৮ সালে পুত্র এবং ২০১৯ সালে ফাগুন হাওয়ায়

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, নাচ–গান–মারপিটের ছবির চেয়ে জীবন ও ইতিহাসের অন্তর্গত সংকটের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আলোচনাও বেশি। শেষ থেকে শুরুর দিকে এগোলে দেখা যাবে, সেই তালিকায় রয়েছে চন্দ্রাবতী কথা, পদ্মা পুরান, ঢাকা ড্রিম, নীল মুকুট, অলাতচক্র, হাসিনা: আ ডটার্স টেল, লাইভ ফ্রম ঢাকা প্রভৃতি ছবি। আবার একটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে বাংলাদেশে জাতীয় পুরস্কারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই ধারার অনেকগুলো ছবি। যেমন ২০১০ সালে গহীনে শব্দ, ২০১১ সালে গেরিলা, ২০১২ সালে উত্তরের সুর, ২০১৩ সালে মৃত্তিকা মায়া, ২০১৪ সালে নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ, ২০১৫ সালে অনিল বাগচীর একদিন ও বাপজানের বায়োস্কোপ, ২০১৬ সালে অজ্ঞাতনামা, ২০১৭ সালে হালদা, ২০১৮ সালে পুত্র এবং ২০১৯ সালে ফাগুন হাওয়ায়।

এই পালাবদল প্রসঙ্গে নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন বলেন, ‘গত ১০ বছরে আমাদের সিনেমা পোস্ট-গ্লোবালাইজড যুগে ঢুকে গেছে, যেখানে একসঙ্গে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই একটা নতুন নির্মাতা প্রজন্ম উঠে আসছে, যারা তাদের ভাষা ও ভঙ্গি দিয়ে বদলে দিচ্ছে সিনেমার পরিচিত চেহারা। আবার বার্লিন, ভেনিস, লোকার্নোর মতো প্রথম সারির উৎসবগুলোর গত ১০ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দিকে তাকালেই বোঝা যায়, সিনেমার পুরোনো সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। ফিকশন, নন-ফিকশন এক কাতারে প্রতিযোগিতা করছে।’

তবে বিকল্প ধারা মূলধারা হয়ে উঠছে, এ সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো একটু মুশকিল। কেননা, মহামারির বাস্তবতায় অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো সিনেমার প্রচলিত দৈর্ঘ্য, ধরন আর দর্শক—সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। এটুকু বলা যায়, বিশ্ব সিনেমার এই পরিবর্তনকে ঢাকার মূলধারার ইন্ডাস্ট্রি বুঝে ওঠার আগেই ‘বিকল্প ধারা’ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে।

মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি প্রসঙ্গে অবশ্য জ্যেষ্ঠ পরিচালক মতিন রহমান মনে করেন, গত এক দশক মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা নির্মাণের যথাযথ পরিবেশ হারিয়েছে। জ্যেষ্ঠ ও চিন্তাশীল পরিচালকদের হাতে কোনো কাজ নেই। যে প্রযোজকেরা একসময় ব্যবসাসফল ও নান্দনিক সব ছবির জন্য বিনিয়োগ করতেন, তাঁরা এখন ছবি বানাচ্ছেন না।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন