বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিচালনা থেকে অভিনয়ে ঝুঁকে গেলেন কেন?

আমার শুরুটা থিয়েটারে। আমি মঞ্চনাটক, পথনাটক থেকে আসা মানুষ। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় থেকেই এগুলোর সঙ্গে জড়িত। টাঙ্গাইলে ত্রিবেণী নামে একটা নাটকের দল আছে। এখন অবশ্য একটু ইনঅ্যাকটিভ। শুরু হওয়ার পর ডিরেকশনের দিকেই প্যাশনটা চলে যায়। তবে একটা জিনিস খেয়াল করে দেখলাম যে আমাদের অনেক ভালো ভালো পরিচালক, যেমন খান আতাউর রহমান, সুভাষ দত্ত, আমজাদ হোসেন অভিনয় করেছেন। তাঁরা ভালো পরিচালক আবার ভালো অভিনেতাও ছিলেন। আমাদের বর্তমান মার্কেটে এখন যে অবস্থা, সব ‘আমি-তুমি’ টাইপের গল্প। বাজেটের কারণে ভালো কাজও করা যাচ্ছে না। যেহেতু এই মাধ্যমকে ভালোবাসি; ফ্যাসিনেশন, প্যাশন যা বলেন; এই মাধ্যমকে ঘিরেই। এখন প্রামাণ্যচিত্রে সময় বেশি দিই। আমার অনেক সহকারী পরিচালক কিংবা বন্ধুবান্ধব আছে, যারা নাটক বানাত আগে, যারা একটু সিনেমা বানাতে চায়, সামাজিক গল্পের সিনেমা বানাতে চায়, তারা আসলে প্রচণ্ড পছন্দ করে আমাকে। তারা আমাকে প্রস্তাব দেয়। যখন এসে বলে, তখন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। আর আমি যে খুব বেশি অভিনয় করি, এমনও নয়। কাছের কোনো ভাই–বন্ধুর কাজই বেশি করা হয়।

কোনটা বেশি এনজয় করেন, পরিচালনা না অভিনয়?

সৃষ্টির উন্মাদনা একদমই ভিন্ন জিনিস। নিজেকে তখন ঐশ্বরিক মনে হয়। যেন একটা সুপারন্যাচারাল পাওয়ার ভর করে। কিন্তু অ্যাক্টিংয়ের ব্যাপারটা মনে হয় রিপ্রেজেন্টেটিভ। যখন এ কাজ করি, তখন আমার একটা ইনার ফিলিংস কাজ করে। আমার একটা স্কিল আছে, সেটা কাজে লাগালাম। তাতে যদি আরেকটা মানুষের হেল্প হয়, তাতে তো আর অন্যায় কিছু দেখি না।

না না, অন্যায় কিছু কেন হবে?

আমি আসলে চরিত্রাভিনেতা হতে চাই। এ জায়গায় একটা গ্যাপ আছে। একসময় হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন।

default-image

তিন দিনের শুটিংয়ে অভিজ্ঞতা কেমন?

সমু চৌধুরী ভাই, মাসুম আজিজ ভাইয়েরা অসম্ভব ভালো অভিনেতা। তাঁরা অনেক পুরোনো অভিনেতা। আসলে আগে যখন পরিচালনা করতাম, তখন তাঁদের কত কিছু বলতাম; যেমন হচ্ছে না, এ রকম কেন করছেন, টেম্পো কমান-বাড়ান, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শার্প হচ্ছে না, এক্সপ্রেশন এমন কেন? কত কিছুই তো আমরা নির্মাতারা বলি। তো তাঁদের সঙ্গে যখন সহশিল্পী হিসেবে কাজ করতে গেলাম, তখন ভয়ে আমার ভেতরে শুকিয়ে আসছিল। তাঁদের মতো অভিনেতার সামনে নিজেকে খুব তুচ্ছ ও অসহায় মনে হচ্ছিল। খুব নগণ্য মনে হচ্ছিল। কারণ, সমু চৌধুরী যখন তারকা, তখন আমরা কেবল সদ্য টেলিভিশন দেখা শিখছি। তাঁর কত ভালো ভালো প্রযোজনা দেখেছি। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করা! তাঁরা যত দ্রুত সবকিছু অ্যাডাপ্ট করেন, সেটা এত দ্রুত এক্সিকিউশন করে। আমি এত দ্রুত পারছিলাম না। তাঁরা আমাকে হেল্প করছিলেন। সে জায়গা থেকে দেখলাম, টিমওয়ার্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ভালো প্রোডাকশনের জন্য। আমাদের ‘মধ্যবিত্ত’ ছবির টিমওয়ার্কটা খুব ভালো হয়েছে। সবাই খুব আন্তরিকভাবে কাজটা করছে।

আপনার সহশিল্পী এলিনা শাম্মীর সঙ্গে আপনার রসায়ন কেমন ছিল?

ও খুবই চমৎকার। এনার্জেটিক। প্রচণ্ড ইনভলভ থাকে। একটা ভালো কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গাটা ভালো লেগেছে। তাঁর সঙ্গে কখনো কাজ করিনি। কাজ করে বেশ ভালো লেগেছে।

default-image

আবার শুটিং কবে?

১০ থেকে ১৫ দিন পর হয়তো সেকেন্ড লটের শুটিং শুরু হবে। একটা গান ইতিমধ্যে করে ফেলেছি। আরও তিনটা গান থাকবে ছবিতে।

আর কী কাজ করছেন?

এ ছাড়া আরও একটা সিনেমা করলাম। সেখানেও আমি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছি। গত মাসে সেন্সর সনদ পেয়েছে। এ ছাড়া প্রামাণ্যচিত্রের কাজ করছি।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন