default-image

মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি একদম অচেতন ছিলেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। এর মধ্যে আবার ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুজব রটে, ফারুক মারা গেছেন। তবে যেদিনই মৃত্যুর গুজব রটে, সেদিন ফারুকের স্ত্রী ও সন্তান সিঙ্গাপুর ও ঢাকা থেকে কথা বলেন প্রথম আলোর সঙ্গে। জানান, ফারুক সুস্থতার দিকে। তবে উন্নতিটা খুব ধীরগতিতে।

এর মধ্যে প্রথম আলোর সঙ্গে নিয়মিতই যোগাযোগ হচ্ছে ফারুকের পরিবারের। তাঁরা এই মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছেন না। এদিকে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনও মানতে চাইছে না, তাঁরা তাঁদের প্রিয় অভিনয়শিল্পী ফারুকের সবর্শেষ খবর জানতে ভীষণ উদগ্রীব। উৎকণ্ঠ, তাঁদের প্রিয় অভিনেতা কেমন আছেন।

default-image

ফারুকের স্ত্রীর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তিনি বলেন, ‘‌আমি চেয়েছিলাম, একেবারে ভালো কিছু খবর দিতে। এখন যদি বলতে হয়, এটুকু বলা লাগবে, আমি প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ওর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাই। এই মাসের প্রথম দিকে যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে এখন কিছুটা ভালো। ফারুকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি খুব স্লোলি হচ্ছে। চিকিৎসকেরা যে আন্তরিকতা নিয়ে ফারুকের চিকিৎসা দিচ্ছেন, এটা অবিশ্বাস্য। আমি শুধু এটুকু বলব, সবাই মন থেকে ফারুকের জন্য দোয়া করবেন।’

বিজ্ঞাপন


ফারুক সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আট বছর ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন দেশবরেণ্য এই অভিনয়শিল্পী ও রাজনীতিবিদ। কথায় কথায় ফারুকের স্ত্রী ফারহানা পাঠান বলেন, ‘মার্চের শেষের দিকে যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তাতে ভীষণ চিন্তায় পড়ে যাই। আল্লাহর রহমতে এখন সেই আশঙ্কা অনেকটা কেটে গেছে। প্রতিদিনই তাঁর নড়াচড়া আস্তে আস্তে বাড়ছে। এটাকে খুব বড় উন্নতি বলা যাবে না। মাঝেমধ্যে চোখ মেলে তাকান। রক্তচাপ ও ব্রেনে যে সমস্যা ছিল, তা চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাঁকে কয়েকবার ডাকলে একবার সাড়া দেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, এভাবেই চিকিৎসা চালাতে হবে। কবে সুস্থ হবেন, নির্দিষ্ট কোনো সময় দেওয়া হয়নি।’

default-image

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত মাসের প্রথম দিকে সিঙ্গাপুরে যান বরেণ্য অভিনেতা ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। পরীক্ষায় তাঁর রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন তিনি। সিঙ্গাপুরে নিজের পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। হাসপাতালে ভর্তির কয়েক দিন পর তাঁর মস্তিষ্কেও সংক্রমণ ধরা পড়ে।  

default-image

গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষে চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন ফারুক। এরপর থেকে তিনি সুস্থই ছিলেন। চিকিৎসকেরা আগেই বলে দিয়েছিলেন, বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা থাকায় ফারুকের শরীর খারাপ হতে পারে। সে জন্য তিন মাস পরপর রুটিন চেকআপ করাতে হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সেই নিয়মিত পরীক্ষা করাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অবশেষে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্ত্রী ফারহানা পাঠানকে নিয়ে সেখানে যান তিনি।

প্রায় পাঁচ দশক ঢালিউডে অবদান রেখেছেন অভিনেতা ফারুক। অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন