দীঘি এবং তাঁর বাবা অভিনেতা সুব্রতর নামে মানহানির মামলা করেছেন বলে দাবি করেছেন নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু
দীঘি এবং তাঁর বাবা অভিনেতা সুব্রতর নামে মানহানির মামলা করেছেন বলে দাবি করেছেন নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুছবি: কোলাজ

অভিনয়শিল্পী দীঘির নামে মামলা করেছেন নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শোনা যাচ্ছে, আদতে কোনো মামলাই হয়নি। এটা ছবির প্রচারণার একটি কৌশলমাত্র। নির্মাতার দাবি, তিনি মামলা করেছেন। তাঁর জায়গা থেকে তিনি সরবেন না। কিছু নিন্দুক তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এই নির্মাতা মামলার নম্বর বলতে পারেননি। অন্যদিকে, ছবিটির প্রযোজক মামলা করেছেন বলে নিশ্চিত করলেন।

default-image

ঝন্টু আজ ১১ মার্চ দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, গতকাল বুধবার তিনি সব প্রস্তুতি নিয়ে মামলা করেছেন। নিজের হাতে স্বাক্ষরও করেছেন। সেই ফাইল প্রস্তুত হচ্ছে। এটা নিয়ে কিছু মানুষ বিতর্ক তৈরি করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি মামলা করেছি। কিন্তু এটা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা কেন? একটি মেয়ে ছবি মুক্তির আগে ছবি নিয়ে বাজে কথা বলে যে অপরাধ করেছে, সেটা নিয়ে কথা বলছে না কেন? তারা আমাকে বিপদে ফেলা চেষ্টা করছে। তাতে আমার কিছু আসে–যায় না।’

বিজ্ঞাপন

কথা বলার সময় কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি মিথ্যা বলার লোক নই।’ পরে একটু শান্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা বললে তো আমার শাস্তি হবে। দীঘি যা বলেছে, সেগুলো প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। আমরা যথাসময়ে সব প্রমাণ করব।’

default-image

‘তুমি আছো তুমি নেই’ ছবিটি ১২ মার্চ সিনেমা হলে মুক্তি পাবে। সম্প্রতি ছবিটির ট্রেলার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। ছবিটি নিয়ে ট্রলের স্বীকার হন অভিনেত্রী দীঘি। পরে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনা বাড়তে থাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবিটির প্রযোজক ও পরিচালক দীঘির নামে পৃথক দুটি মামলার কথা জানিয়েছিলেন গতকাল। ঝন্টু জানিয়েছিলেন, দীঘির বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন প্রযোজক সিমি ইসলাম। দীঘি, দীঘির বাবা সুব্রত ও মামার নামে মানহানির মামলা করেছেন নির্মাতা।

default-image

তিনি বলেন, প্রযোজক যখন সব প্রমাণ দেখিয়ে কোর্টে হাজির হবেন, আদালত বলবে, ক্ষতিপূরণ দাও, তখন কোথায় যাবেন নিন্দুকেরা।’ ঝন্টু জানান, তিনি সার্বক্ষণিক আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই মামলার শেষ তিনি দেখবেন। এই সময় নির্মাতার কাছে মামলার প্রমাণ চাইলে তিনি মামলার নম্বর দেখাতে পারেনি।

তিনি জানান, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। সময় হলেই সব সামনে আসবে। এদিকে মামলা সম্পর্কে জানতে ছবিটির প্রযোজক সিমি ইসলাম বলেছেন, ‘মামলা আমি করেছি। তবে আমি এ ব্যাপারে কিছু বলছি না। যখন নোটিশ যাবে, তখন বুঝবে ওরা।’
গতকাল ঝন্টু প্রথম আলোকে জানান, একটি ভিডিওতে দীঘি সরাসরি দর্শকদের কাছে দাবি করেন, তাঁদের ছবি ভালো হবে না। সিনেমাটির গল্প, নির্মাণ ও ব্যবসা নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছেন। ছবিটি নিয়ে নানা রকম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নির্মাতা মনে করেন, এসব কথায় তাঁকে ছোট করা হয়েছে। ছবিটির নেতিবাচক প্রচারণায় অর্ধেক দর্শক কমে যাবে। যে কারণে তাঁরা মামলার পথে হেঁটেছেন।

default-image

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দীঘির বাবা সুব্রত জানান, এখনো কোনো নোটিশ পাননি তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা ছোট। সে ছবিটি নিয়ে কিছু কথা বলেছে। যেটা কয়েকটি ভাগে ভিডিও আকারে এসেছে। এ জন্য দীঘি নিজেও কষ্ট পেয়েছে। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে ভুলভ্রান্তি হবেই। আশা করি, তিনি সেটাকে ক্ষমার চোখে দেখবেন। কারণ, আমরা সবাই ঝন্টু ভাইকে সম্মান করি। তিনি আমাদেরও গুরুজন।’

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন