default-image

বাংলা চলচ্চিত্রের সাড়াজাগানো সিনেমা ‘দেবদাস’-এর প্রযোজক কামরুল হাসান খান আর নেই। বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় তিনি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাড়াজাগানো উপন্যাস ‘দেবদাস’ অবলম্বনে ভারত ও বাংলাদেশে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘দেবদাস’কে রুপালি পর্দায় নিয়ে আসেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া বুলবুল আহমেদ ও কবরী অভিনীত এ ছবি দারুণ সাড়া ফেলে। এ ছবির প্রযোজক ছিলেন কামরুল হাসান খান। তাঁর প্রযোজনায় ‘প্রতিরোধ’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম প্লেব্যাক করেন ভারতের শিল্পী কুমার শানু। মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমীন, হৈমন্তী শুক্লাসহ বরেণ্য সব কণ্ঠশিল্পী তাঁর সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রযোজক কামরুল হাসান খানের মরদেহ হাসপাতাল থেকে শান্তিনগরের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার মনোহরপুরে নিজ গ্রামে। সেখানে আরেকটি জানাজার পর কামরুল হাসান খানকে দাফন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জনসেবায় কামরুল হাসান খানের অবদান স্মরণীয়। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াজগতের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেন। কামরুল হাসান খান সংস্কৃতি অঙ্গনে ‘ফরিদ ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়াজগতের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৬৭ সাল থেকে শান্তিনগর ক্লাবের দায়িত্ব নেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নে অংশ নেন। তিনি বহুমুখী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁর ভাই সাবেক ক্রীড়াবিদ ও কণ্ঠশিল্পী বদরুল হাসান খান ঝন্টু। কামরুল হাসান খান কিশোরগঞ্জের সাবেক সাংসদ এ কে এম শামসুল হক গোলাপ মিয়া ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাগনে।

default-image

কামরুল হাসান খান রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৭ মার্চ চিকিৎসকেরা তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেন। এর মধ্যে তাঁর কানাডা প্রবাসী ছেলে সাদমান হাসান খান দেশে ফিরলে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন