default-image

জামালপুরের জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান বলেন, ‘প্রশাসনিকভাবে আমরা কোনো সিনেমা হলের প্রদর্শনী বন্ধ করিনি। স্বল্প সময়ের জন্য আমরা ওই অডিটোরিয়ামগুলোতে ছবিটি প্রদর্শনীর অনুমতি দিয়েছিলাম। সিনেমা হলে চললে তো কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বাণিজ্যিক সিনেমা সরকারি যেকোনো জায়গায় চালানো যায় না। সিনেমাটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত, জামালপুরে শুটিং, জেলার মানুষের সেন্টিমেন্ট বিবেচনায় স্বল্প সময়ের জন্য আমরা অনুমতি দিয়েছিলাম। সবকিছুর একটা আইনি বিধিবিধান আছে। অনুমতির বাইরে তারা এভাবে অডিটোরিয়ামকে তো সিনেমা হল বানাতে পারে না। আমাকে তো আইন দেখতে হয়। চাইলেই তো সরকারি কোনো কিছু আমি আনলিমিটেড সময়ের জন্য দিতে পারি না। আমাদের একটা নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। বাধ্য হয়েই আমাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’

default-image

‘গলুই’ সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় জামালপুরে জড়ো হন হাজারো মানুষ। ভিড় করে সিনেমাটির শুটিং দেখেছেন তাঁরা। তার পর থেকে সিনেমাটি নিয়ে জামালপুরবাসীর অন্য রকম আগ্রহ ছিল। মুক্তির পর জামালপুর থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছিলেন সিনেমাটির পরিচালক এস এ হক অলীক। এভাবে প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ায় কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে এই পরিচালক বলেন, ‘জামালপুরের তিনটি অডিটোরিয়ামে আমরা ঈদের জন্য ছবিটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলাম। জামালপুর শিল্পকলায় ঈদের দিন শুধু চালাতে পেরেছি। পরে ইসলামপুরের অডিটোরিয়ামে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটি কাল থেকে বন্ধ করার নোটিশ দিয়েছেন। আরেকটি প্রদর্শনী যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন ঘটনায় আমরা খুবই আশাহত। আমরা একাধিকবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম।’

default-image

কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে অলীক আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসক আমাদের ১৯১৮ সালের ব্রিটিশ একটি আইনের কথা বলে প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছেন। বলেছেন, সরকারি জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে সিনেমা চালানো যায় না। কিন্তু এমন নিয়মে ঢালিউড সিনেমার ক্ষতি হবে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। এখন আমাদের হল নেই, ভালো সিনেমা নেই। সেই জায়গায় দর্শকদের হলমুখী করছিল “গলুই”। মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির দর্শক সিনেমাটি দেখছিলেন। আমরা আশাবাদী হচ্ছিলাম। এমন সময় প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য দুঃসংবাদ।’

সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাসংশ্লিষ্ট অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। পরিচালক দীপঙ্কর দীপন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘জেলা শহরের সাংস্কৃতিক বিরোধ নিয়ে আমার ধারণা আছে। আমি আশা করি, ডিসির সিদ্ধান্তের পেছনে এমন কিছু নেই। থাকলেও সংস্কৃতির বিচারেই তাঁর এই আচরণের প্রতিবাদ করি। আর এটা সম্পূর্ণ তাঁর একক সিদ্ধান্ত হলেও অবাক হব না, এ নজিরও আমি দেখেছি। প্রতিবাদ প্রয়োজন। বিকল্প স্ক্রিনিং এ মুহূর্তে খুব দরকার।’ এ ছাড়া, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, খিজির হায়াত খান, অঞ্জন আইচ, অপূর্ব রানাসহ একাধিক চলচ্চিত্র পরিচালক ও কলাকুশলী সিনেমাটি বন্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন