ঈদ নিয়ে পরীরও পরিকল্পনার কমতি নেই। পয়লা বৈশাখে নৌবিহার করে সবাইকে যেভাবে চমকে দিয়েছেন, এই ঈদেও হয়তো ভক্তদের সেভাবেই চমকে দেবেন। রাজ–পরীর ঈদ উদ্‌যাপনের বিস্তারিত বৃত্তান্ত জানার আগে তাঁদের সাম্প্রতিক দিনকালেও খানিকটা ঢুঁ মারা যাক।

default-image

মাতৃত্বকালীন অবসর পার করছেন বলে আপাতত সব ধরনের কাজ ছুটি নিয়েছেন পরীমনি। আর ঈদের দশ দিন আগে থেকেই কাজলরেখা সিনেমার শুটিংয়ে নেত্রকোনায় ছিলেন শরীফুল রাজ। ফিরেছেন কয়েক দিন আগে। তবে এত দিন দূরে থাকলেও মনটা তাঁর পড়ে ছিল ঘরেই, পরীর কাছে। তাঁর অনাগত সন্তানের মা পরী। এই সময়টায় তাঁর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা খুবই দরকার। রাজ সেটি করেছেনও বটে। বললেন, ‘বাসায় এখন আম্মা আছেন। এই সময়টায় পরীর দেখভাল তিনিই করছেন। আর ঘরে মা থাকায় আমিও স্বস্তিতে শুটিং করতে পারছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে শরীফুল রাজ এখন ঢাকায় থিতু হয়েছেন। অন্যদিকে পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনির বর্তমান আবাসও ঢাকা। তাঁদের জীবনে ঈদের খতিয়ান এত দিন ছিল আলাদা আলাদা। তবে এটি তাঁদের প্রথম ঈদ বলেই কি ঈদ উদ্‌যাপনে দুজনের উৎসাহ একটু ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে! রাজের কথা শুনে তো তা–ই মনে হয়, ‘এত দিন মা–বাবার সন্তান হয়ে ঈদ পালন করেছি। আর এখন নিজের বউয়ের জন্য ঈদ করব। অনাগত সন্তানের প্রতীক্ষায় আছি। কবে আমরা সন্তানের মুখ দেখব। উফ! তাই এটা আমার জীবনের অন্যরকম এক ঈদ।’

পাঠক, ঈদ নিয়ে শরিফুল রাজের উচ্ছ্বাস আপনাকেও নিশ্চয়ই স্পর্শ করছে!

ঈদ নিয়ে রাজের মতো পরীমনির উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ার মতো। তিনি জানান, ‘আসলে ঈদের আনন্দ ছোটবেলার জন্যই। তখন ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরে সাজুগুজু করে ঘুরে বেড়াতাম, সালামি পেতাম। মজার মজার খাবার খেতাম। তবে আমার ঈদ এখন বদলে গেছে। আগে ঈদে সালামি পেতাম আর এখন ঈদে সালামি দিতে হয়। এবারে আমার ঈদ তো অন্য সবার চেয়ে আলাদা। ঈদের সময় এবার রাজকে নিয়ে হারিয়ে যাব... হি হি হি।’

default-image

তাঁর হাসির শব্দের মধ্যেই ফোনের এ প্রান্ত থেকে জানতে চাইলাম, ‘কোথায় হারাবেন, কোন সে স্থানে?’

‘এটা তো টপ সিক্রেট’ প্রশ্ন করতেই বললেন পরীমণি। কিন্তু সেই অন্য ফোনে ‘সিক্রেট’ মুহূর্তেই ফাঁস করে দিলেন রাজ, ‘ঈদের পরও আমাকে টানা শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। তাই এ সময় কয়েকটা দিনের জন্য ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোথায় যাব, এখনো ঠিক করিনি। আমাদের সব সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া হয়। এই ঈদেও হয়তো তেমনটাই হবে। দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দুজনের শিডিউল মেলানো মুশকিল। তাই দেশের মধ্যে নিরিবিলি কোথাও, প্রকৃতির কাছাকাছি কয়েকটা দিন কাটাব হয়তো।’

বিয়ের পর এই তারকা দম্পতির জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। বদলে যাওয়ার বিষয়টি রাজ খোলাসা করেন এভাবে, ‘আগে একা ছিলাম। জীবন খুব গোছালো ছিল না। এখন মনে হচ্ছে জীবনে একটা দায়িত্ব এসেছে। আমাদের দুজনেরই জন্যই এটা যেন দায়িত্বময় ঈদ, ভালোবাসার ঈদ। পরী মা হবে, একটা দারুণ জার্নির মধ্য দিয়ে সে দিন পার করছে। সঙ্গে থেকে আমিও তাঁকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

সেই আনন্দকে আরেকটু রাঙিয়ে দিতে এই ঈদে পরীমণিকে শাড়ি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন রাজ। ‘কী উপহার দেবেন?’ প্রশ্নের জবাবে এর সঙ্গে তাঁর সরস উত্তর ছিল, ‘অনেক অনেক ভালোবাসা জমা রেখেছি। এটাই দেব। একবুক ভালোবাসাই চায় পরীমনি।’

default-image

টানা শুটিংয়ের কারণে ঘোরাঘুরি করে কেনাকাটার সুযোগ খুব একটা নেই। তাই চাঁদরাতেই সব ধরনের কেনাকাটা সারবেন বলে জানান শরিফুল রাজ। আর পরীমনি জানান, এবার রাজ, নানাভাই ও শ্বশুর–শাশুড়ির পছন্দের খাবার রান্না করেবেন। আর সবার জন্য নিজের পছন্দের পোশাকও কিনবেন। তবে কাকে কী দেবেন, বরাবরের মতো সেটি সারপ্রাইজ হিসেবেই রেখে দিতে চান এই ঢালিউডকন্যা।

ঈদ যে এ বছর রাজ–পরীর সংসারে নতুন আলোর ঝলক নিয়ে এসেছে, তাতে আর সন্দেহ কী!

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন