default-image

চরিত্রটির বয়স নব্বই বছরের বেশি। এ বয়সী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জুতসই অভিনয়শিল্পী পাওয়া দুরূহ। কিন্তু এর আছে সমাধান—প্রস্থেটিক মেকআপ। আর এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর। কামার আহমাদ সাইমন পরিচালিত ‘শিকলবাহা’ সিনেমায় এই গুণী অভিনেতার তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল কেবল সেই প্রস্থেটিক মেকআপ নিতেই।

কেন এ ছবিতে যুক্ত হওয়া? আসাদুজ্জামান নূর এ প্রশ্নের উত্তর দিলেন দুই ধাপে। তিনি বলেন, ‘শুরুতে না করেছিলাম। কারণ, এখন বাইরে শুটিং করতে গিয়ে যে ঝক্কি, তা আর নিতে ইচ্ছা করে না। একটু অলস হয়ে গেছি বলা যেতে পারে। পরে এ ছবির নির্মাতা ও প্রযোজকের অনুরোধের কাছে “না” বলতে কষ্ট হচ্ছিল।’

বিজ্ঞাপন
default-image

এটা প্রথম কারণ। আর দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি প্রশংসা করলেন এই নির্মাতার। তিনি বলেন, ‘এই নির্মাতার প্রথম ছবি “শুনতে কি পাও!” দেখেছি। ছবিটা দেখে আমার একটা আস্থা তৈরি হয়েছিল। জানতাম যে ভালো একটা কাজ হতে যাচ্ছে।’

তবে কিছুটা আক্ষেপও ঝরে পড়ল মঞ্চ, ছোট পর্দা আর বড় পর্দার এই অভিনেতার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন সিনেমায় অভিনয় করেছি, তখন সেভাবে ভালো ছবি হয়নি। যখন ভালো ছবি হওয়া শুরু করল, তখন আমি রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এখন যখন আবার সময় পেলাম, মোটামুটি ভালো ছবিও হচ্ছে, কিন্তু এখন আমার দিনভর শুটিংয়ে পরিশ্রম করার মতো শারীরিক অবস্থা নেই।’

আসাদুজ্জামান নূর জানান, ‘শিকলবাহা’ সিনেমায় তাঁকে দেখা যাবে একজন প্রবীণ বিপ্লবীর ভূমিকায়। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও ভালো ছিল। কাজ নিয়ে খানিকটা আক্ষেপও ঝরে পড়ল। তিনি বলেন, ‘চরিত্রটার জন্য ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিতে পেরেছি, তা নয়। কিছু ফোনকল থাকে, যেগুলো ধরতেই হয়। কিছু দায়িত্ব থাকে, সেগুলো এড়ানো যায় না। সব মিলিয়ে চরিত্রের মধ্যে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।’

‘শিকলবাহা’ সিনেমায় আসাদুজ্জামান নূরকে দেখা যাবে একজন প্রবীণ বিপ্লবীর ভূমিকায়।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে উদীয়মান নির্মাতাদের আসর লা ফ্যাব্রিক সিনেমা দ্যু মুন্দে নির্বাচিত হয়ে প্রথম আলোচনায় আসে ‘শিকলবাহা’। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদান এবং পরপর দুবার বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড (ডব্লিউসিএফ)’ জেতে ‘শিকলবাহা’র চিত্রনাট্য। ছবিটি এই মুহূর্তে রয়েছে সম্পাদনার টেবিলে।

দর্শক কবে দেখতে পাবেন ‘শিকলবাহা’? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয় ‘শিকলবাহা’র শুটিং। এরপর শুরু হয় তৈরি থাকা ‘নীল মুকুট’ মুক্তির কাজ। সেন্সর বোর্ডের কড়া পাহারা পেরিয়ে যখন সিনেমাটি দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত, তখনই মহামারি সব পরিকল্পনা লন্ডভন্ড করে দিল। অলিখিত, অঘোষিত লকডাউনে সবাই ঘরে ঢুকে পড়ল। ঘরে ঢুকে পড়লেন নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন। সম্পাদনার টেবিলে তৈরি হতে থাকল এই নির্মাতার তৃতীয় (নাকি দ্বিতীয়?) ফিচার ফিল্ম ‘শিকলবাহা’। নির্মাতার ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে “শিকলবাহা”র প্রগাঢ় প্রেম-পর্ব চলছে আমার সম্পাদনা টেবিলে, তারিয়ে উপভোগ করছি প্রতিটি চুমুক।’

default-image
বিজ্ঞাপন

এই নির্মাতা জানান, তিনি একটি সিনেমা তিনবার বানান। কীভাবে? ‘আসলে একটা ছবি তো বহু বছর মাথায় থাকে। এরপর যখন স্ক্রিপ্ট লিখতে বসি, তখন একভাবে তার সঙ্গে বাস করি। শুটিং ফ্লোরে গিয়ে স্ক্রিপ্ট ভুলতে পারলে ক্যামেরায় নতুন করে ছবিটা দেখার, লেখার সুযোগ হয়। আর সম্পাদনায় বসে শুটিং ভুলতে পারলে তৃতীয়বার একই ছবির প্রেমে পড়া যায়, সম্পর্কটাও গাঢ় হয়! নির্মাতা হিসেবে একই ছবি তিন-তিনবার আবিষ্কার (রি-ডিস্কভার) করার লোভ কাজ করে।’

তাহলে কোনটা মুক্তি পাচ্ছে আগে, ‘নীল মুকুট’ নাকি ‘শিকলবাহা’? সেই উত্তর একমাত্র সময়ই দিতে পারবে।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন