সালমান শাহ
সালমান শাহ কোলাজ: আমিনুল ইসলাম

নব্বই দশকের কথা। সে সময় ফেসবুক ছিল না। ইনস্টাগ্রাম, টুইটার তো নয়ই। থাকলে নিশ্চয়ই সে সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় আলোকিত নায়কেরও অনলাইন দুনিয়ায় আলাদা ঠিকানা থাকত। নিজের পছন্দ, অপছন্দ শেয়ার করতেন। প্রতিক্রিয়া জানাতেন।

ভক্তরাও জেনে যেতেন তাঁদের 'স্বপ্নের নায়ক' কেমন ছিলেন? কী খেতে ভালোবাসতেন? তাঁর শখ কী ছিল? প্রতিনিয়ত তাঁদের স্বপ্নের নায়কের নতুন নতুন ছবি আর সেলফি দেখতেন। ‘চেকইন’ দেখে বুঝে নিতেন নায়ক তাঁদের কোথায় আছেন, কী করছেন।

বিজ্ঞাপন

মানুষ চলে যায়। থেকে যায় তাঁর কাজ। তিনি থাকেন রেখে যাওয়া মানুষের স্মৃতিতে। সালমানকে জানার জন্য তাই ভরসা তাঁর কাছের মানুষেরা। যাঁরা শেষ বছরগুলোতে তাঁর সঙ্গে বেশি সময় কাটিয়েছেন। যেমন আশরাফুল হক ওরফে ডন। তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র অঙ্গনে সালমান শাহের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। চলচ্চিত্রে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতেন।

default-image

প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই ডন জানান, সালমান সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন ড্রাইভিং। কাজ শেষ করে প্রায় রাতে দুই বন্ধু বেরিয়ে পড়তেন লং ড্রাইভে। বেশির ভাগ দিন কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য থাকত না। ঘুরে বেড়াতেন ইচ্ছেমতো।

বেশির ভাগ রাতে চলে যেতেন গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয়। একেবারে সাধারণ সে রেস্তোরাঁর মিল্ক শেক খুব পছন্দ ছিল সালমানের। এমনও হয়েছে, দোকান বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে গেছে। কিন্তু শুধু সালমানের জন্য দোকানদার রাতে দোকান খোলা রেখেছেন। গাড়ি চালিয়ে সালমান যেতেন। মিল্কশেক খেয়ে আড্ডা দিয়ে আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যে। কত রাত যে এভাবে গেছে!

default-image

উত্তরার একটি ফুটপাতের দোকানের চিতই পিঠা খুব পছন্দ ছিল সালমান শাহর। একজন বয়স্ক নারী বানাতেন পিঠা, রাস্তার এক পাশে বসতেন। সালমান আর ডন মিলে প্রায়ই যেতেন সেখানে। সেই বৃদ্ধাকে সালমান 'নানি' বলে ডাকতেন। হুটহাট গাড়ি চালিয়ে চলে যেতেন সেখানে। একটু রাত করেই যেতেন। যেন মানুষের ভিড় না থাকে।

গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে তাঁর খবরাখবর নিতেন। কথা বলতে বলতে পিঠা বানাতেন বৃদ্ধা। সালমান গাড়িতে বসে খেতেন। দেখা যেত এক বসায় একেকজন ৮–১০টি পিঠা খেয়ে ফেলেছেন। বিল দিতেন ইচ্ছেমতো, দামের চেয়ে অনেক বেশি। দেখা গেল বিল হয়েছে ৫০ টাকা। সালমান পাঁচ শ টাকার নোট ধরিয়ে দিলেন।

দেখা যেত এক বসায় একেকজন ৮–১০টি পিঠা খেয়ে ফেলেছেন। বিল দিতেন ইচ্ছেমতো, দামের চেয়ে অনেক বেশি। দেখা গেল বিল হয়েছে ৫০ টাকা। সালমান পাঁচ শ টাকার নোট ধরিয়ে দিলেন।
বিজ্ঞাপন
default-image
‘একদিন আমার মা শুটিংয়ের সেটে গেছেন, সেখানে বসার কিছু ছিল না। হঠাৎ ও পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে প্রোডাকশনের একজনকে বলল দ্রুত একটা মোড়া কিনে নিয়ে আসার জন্য।’
শাবনূর, অভিনেত্রী

এ প্রসঙ্গে সালমানের সহঅভিনেত্রী চিত্রনায়িকা শাবনূরের একটি কথা না বললেই নয়। শাবনূর এককভাবে সালমান শাহর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। প্রথম আলোর সঙ্গে এক স্মৃতিচারণায় তিনি সালমান শাহকে 'অনেক বড় মনের একজন মানুষ' বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘সালমান মানুষকে শ্রদ্ধা করতে জানত।

একদিন আমার মা শুটিংয়ের সেটে গেছেন, সেখানে বসার কিছু ছিল না। হঠাৎ ও পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে প্রোডাকশনের একজনকে বলল দ্রুত একটা মোড়া কিনে নিয়ে আসার জন্য। মুরব্বিদের কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হয়, ছোটদের কীভাবে আদর করতে হয়, সেটা সালমান খুব ভালো করেই জানত। প্রোডাকশন ছেলেদের সুখে-দুঃখে সালমান সব সময় পাশে ছিল। চলচ্চিত্রের কেউ বিপদে পড়েছে অথচ সালমানের কাছে গিয়ে সহযোগিতা পায়নি, এমন নজির নেই।’

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0