সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছেন নায়ক-নায়িকারা

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। শুটিং, ডাবিং না থাকায় বিনোদন অঙ্গনের নিম্ন আয়ের মানুষদের অবস্থাও ভালো না। বিচ্ছিন্নভাবে এ মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢালিউডের নায়ক-নায়িকারাও। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলচ্চিত্রের সমিতিগুলো। বাস্তবজীবনে পর্দার নায়ক-নায়িকাদের এ ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।

চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট নিম্ন আয়ের শিল্পী-কলাকুশলীদের সাহায্যে সবার আগে এগিয়ে এসেছেন অভিনেতা ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। গত সপ্তাহে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ব্যানারে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্রায় আড়াই শ প্যাকেট চলচ্চিত্রের নিম্ন আয়ের শিল্পীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির ব্যানারে টেকনিশিয়ান ও প্রোডাকশন বয়দের মধ্যে আরও আড়াই শ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। অনন্ত জলিল বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই শিল্পী-কলাকুশলী ভাইদের জন্য আরও সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। আমি সব সময় তাঁদের পাশে আছি।’ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে ঢালিউড অভিনেতাকে।

default-image

ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন নায়ক বাপ্পী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে আমি নিজে যেতে পারিনি। নগদ অর্থ পাঠিয়েছি। এ ছাড়া শ্যামবাজারের একটি গার্মেন্টস কারখানার ৬০ জন কর্মচারীর এক মাসের খাবারের দায়িত্ব নিয়েছি। একইভাবে যাত্রাবাড়ীর ৩০ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে এক মাস খাওয়াব।’ এই অভিনেতা জানান, চার-পাঁচ দিন ধরে এ ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে প্রায় ৪০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নায়ক সায়মন সাদিক। দুটি পিকআপ ভ্যান ও একটি জিপে করে দুপুর থেকে রামপুরা, হাতিরঝিল, মধুবাগ, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে খাদ্যসামগ্রী মানুষের হাতে তুলে দেন তাঁরা। সায়মন বলেন, ‘আমরা একটু ভিন্নভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। সময় নিয়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে অসহায় মানুষদের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দিলে এক-একজন তিন-চারবার করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে অনেক সময় সঠিক মানুষের হাতে জরুরি জিনিস যায় না।

default-image

আমরা যে খাবার দিয়েছি, তাতে চার সদস্যের একটি পরিবারের অনায়াসে চার-পাঁচ দিন চলে যাবে।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই মানুষদের বিপদ আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে আরও সহযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সায়মন।

এ ছাড়া চলচ্চিত্রের ‘ইয়াংস্টার টিম’-এর ব্যানারে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে নায়ক সানজু জন, জয় চৌধুরীদের একটি দল রামপুরা, আফতাব নগর এলাকায় প্রায় ২০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন