‘গেরিলা’, ‘জয়যাত্রা’ ও ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ সিনেমায় ২৫ মার্চ
‘গেরিলা’, ‘জয়যাত্রা’ ও ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ সিনেমায় ২৫ মার্চ
default-image

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে বাঙালিদের ওপর শুরু হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ। জীবন বাঁচাতে মানুষ ছুটতে থাকে দিগবিদিক। শহরের আনাচকানাচে পড়ে থাকে মানুষের গুলিবিদ্ধ লাশ। নারকীয় সেই হত্যাকাণ্ড বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশের একাধিক চলচ্চিত্রে। ‘গেরিলা’য় দেখা গেছে ২৫ মার্চের ঢাকা, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ সিনেমায় জেলা শহরের চিত্র আর ‘জয়যাত্রা’ সিনেমায় দেখা গেছে গ্রাম।

default-image

নাসির উদ্দীন ইউসুফের পরিচালনায় ‘গেরিলা’ ছবিতে ধরা দেয় ভয়াবহ সে রাতের চিত্র। রাত ১১টার মধ্যে বাসায় ফিরতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক হাসান। এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌস আহমেদ। স্ত্রী বিলকিস চরিত্রের অভিনেত্রী জয়া আহসান তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই রাতের পর স্বামীকে আর খুঁজে পাননি বিলকিস। ছবিতে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনারা ট্যাংক নিয়ে নামে ঢাকার রাস্তায়। জীবন বাঁচাতে পালিয়েও শেষ রক্ষা পায় না মানুষ। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে দেশীয় অস্ত্রে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে একদল বাঙালি পুলিশ। ভারী অস্ত্রে হানাদার বাহিনী সেই রাতেই জ্বালিয়ে দেয় বহু বাড়িঘর। ভোরের দিকে গাদাগাদি করে পড়ে থাকতে দেখা যায় বহু লাশ।

বিজ্ঞাপন
default-image

২৫ মার্চে ঢাকার সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল জেলা শহরগুলোতেও। সিনেমায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে বিভিন্ন জেলা শহরে সেই রাতের ভয়াবহতা। দিনাজপুর শহরের গল্প দেখা গেছে ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ ছবিতে। ছবিটির শুটিংও হয়েছে দিনাজপুরে। সেখানে কোনো হামলার দৃশ্য না থাকলেও ছিল মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত হওয়ার চিত্র। একটি মহল্লার উৎকণ্ঠিত মানুষগুলোকে বাড়ির বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের প্রশ্ন, দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে? কী হবে দেশের? এর মধ্যেই চলছিল মিছিল। সেই মিছিলের অন্যতম স্লোগান ছিল, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। একটি দৃশ্যে ছেলের প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকায় মিলিটারি আক্রমণ করেছে। হাজার হাজার মানুষ মেরে ফেলেছে। বাঙালি ইপিআর, পুলিশ, ছাত্র–জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।’ শুনে শিউরে ওঠে সবাই। এমন সময় রাস্তায় মাইকে শোনা যায়, ‘পাকিস্তানি আর্মিরা বাঙালি জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, হাজার হাজার মানুষের মরদেহ ঢাকার রাস্তায় পড়ে আছে। প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বাঙালিরা। সারা দেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে।’

default-image

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যুদ্ধের কোনো আঁচ তখনো পৌঁছায়নি। মানুষ তখনো ব্যস্ত ছিলেন জীবন–জীবিকা নিয়ে। ‘জয়যাত্রা’ সিনেমার গল্পের শুরুতে তেমনটিই উঠে এসেছে। ছবির আদম, হাওয়া, বৈধন, রামকৃষ্ণরা তখনো যুদ্ধের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। বর্ষা আসছে বলে কেউ কেউ নৌকা মেরামতের কাজ করছিলেন, কারও ছিল হাটে কেনাকাটা করতে যাওয়ার তাড়া। সখিনাকে বরপক্ষের দেখতে আসার কথা। প্রেমিক কাশেমকে তাই বিয়ে করার তাগাদা দেয় সে। এসবের মধ্যে একটি চিল এসে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় মুরগির ছানা। রূপক অর্থে একে এক অশুভ লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরেন নির্মাতা। অজানা এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় এই জনপদেও। গ্রামে যুদ্ধের বার্তা নিয়ে আসেন তরফদার। তাঁর মুখে শোনা যায় ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা। ঢাকা থেকে অনেকেই নাকি ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি নিজেও এ পথ দিয়েই পালাচ্ছিলেন। দেশ, যুদ্ধ, বেঁচে থাকা নিয়ে সবার মধ্যে বিরাজ করে আতঙ্ক।

default-image
বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন