নবাব এলএলবি ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়ার জন্য সেন্সরে জমা দিয়েছিলেন নির্মাতা অনন্য মামুন
নবাব এলএলবি ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়ার জন্য সেন্সরে জমা দিয়েছিলেন নির্মাতা অনন্য মামুনছবি: কোলাজ

সম্প্রতি নবাব এলএলবি ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়ার জন্য সেন্সরে জমা দিয়েছিলেন নির্মাতা অনন্য মামুন। ছবিটি দেখেছে সেন্সর বোর্ড। তাঁরা ছবিটির ১১টি দৃশ্য নিয়ে আপত্তি উঠিয়েছেন। সেগুলো চিঠিতে জানিয়েছেন নির্মাতাকে। বেশির ভাগ দৃশ্যের ব্যাপারে নির্মাতা আপস করবেন। তবে একটি দৃশ্যের সংলাপ কোনোভাবেই পরিবর্তন করবেন না এই পরিচালক।
‘নারী হত্যা মানেই স্বাধীনতাকে হত্যা’ এমন একটা সংলাপে আপত্তি জানিয়েছে সেন্সর বোর্ড। এটা পরিবর্তন করতে নারাজ নির্মাতা। অনন্য মামুনের ভাষায় , ‘আমি মনে করি সমাজে একজন নারী ধর্ষণ মানে সেটা স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত। এটাই তো নারীর স্বাধীনতা হত্যা।’

default-image

তিনি বলেন, ‘আমি বেশির ভাগ দৃশ্যই কাটছাঁট করে জমা দেব। তবে “নারী ধর্ষণ মানেই স্বাধীনতাকে হত্যা” এই সংলাপটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। এটা নারী শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ। সেন্সর বোর্ড এভাবে কড়া হলে আমরা ভালো ছবি বানাতে পারব না। আমরা সব সময় তাদের সহযোগিতা চাই।’

বিজ্ঞাপন

আরেকটি দৃশ্যের সংলাপে ছিল ‘এই দেশের প্রতিটা কর্মজীবী নারীদের চরিত্রই খারাপ।’ এটিও সেন্সর বোর্ড থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্মাতা জানান, তাঁর সংলাপটা এভাবে বলা হয়নি। এর আগে আরও কিছু সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপটি এসেছে।

default-image

সেটা উল্লেখ করে তিনি জানান, শাকিব খানের মুখে সংলাপটি ছিল এমন, ‘একটি মেয়ের যদি রাতে বাসার বাইরে থাকলে চরিত্র খারাপ হয়, তাহলে যে কর্মজীবী মহিলা তাঁদের পরিবার–সন্তানকে বাঁচানোর জন্য রাতে কর্মক্ষেত্রে থাকেন, তাঁদেরও চরিত্র খারাপ?’ শাকিব খানের মুখে আরেকটি দৃশ্যে বলা হয়, ‘যে দেশে একটি মেয়ে পিরিয়ডের তারিখ চেঞ্জ হলে পরিবারকে বলার সাহস পায় না, সে দেশে একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে আদালতে আসলে তাকে সহযোগিতা করা উচিত।’ এখানে ‘পিরিয়ড’ শব্দে আপত্তি জানিয়েছে সেন্সর বোর্ড। এগুলো নতুন করে সম্পাদনা করে জমা দেবেন মামুন। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু সংলাপ ছিল সমাজে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে। সেগুলোকে এখন কাটতে হচ্ছে। এগুলো মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন আমার মতো করে জমা দেব। তার পরে দেখি কী হয়। সেন্সর বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেখে আমি ব্যবস্থা নেব।’

২ ফেব্রুয়ারি তিনি সেন্সর বোর্ড থেকে নবাব এলএলবি ছবির নির্মাতা এবং প্রযোজক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে দৃশ্যগুলোর পরিবর্তন করে আবারও জমা দিতে।

default-image

সেন্সর বোর্ডের সদস্য ম হামিদ জানান, সেন্সর বোর্ডের একটি নীতিমালা আছে। সে অনুযায়ী তাঁরা কিছু দৃশ্যের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। এটা মানা না মানা ছবিটির কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘সেন্সর বোর্ডের নিয়ম না মেনে এভাবেই যদি নির্মাতা ছবিটি চালাতে চাইলে সেটার দায়দায়িত্ব তাঁকে নিতে হবে। আমরা সম্মিলিতভাবে যে আপত্তির কথা জানিয়েছি, সেভাবেই সংশোধন করে আবার জমা দিলে আমরা সহযোগিতা করব।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেন্সর বোর্ডের আরেক সদস্য বলেন, ‘এই নির্মাতার বিষয়ে আমি কথাই বলতে চাই না। সে যা ইচ্ছে তাই বানালেই হবে না। সে শুধু বিতর্ক তৈরি করতে চায়। নারী হত্যা মানেই তো যা তা বলা যায় না। এ প্রসঙ্গে এখানে আরও কিছু বিষয় আছে, যা দেখে আমাদের সেন্সর বোর্ডের সবার কাছে মনে হয়েছে, গল্পের সঙ্গে সংলাপের কোনো মিল নেই। এটাকে অন্যভাবে বলা যেত। সেই কারণে সর্বসম্মতিতে সংলাপটিতে আপত্তি জানানো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন