default-image

‘হরতালে কেবল চলচ্চিত্রশিল্প নয়, পুরো দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পুরো দেশের বাইরে কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প নয়,’ বলছিলেন বাংলাদেশের শীর্ষ নায়ক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খান। একই রকম উৎকণ্ঠার কথা জানালেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। তিনি বললেন, ‘দেশের যে অবস্থা চলছে, ইদানীং বাসা থেকে বের হতেই ভয় লাগে। জীবন বাঁচানোটাই এখন বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলচ্চিত্রে যাঁরা বিনিয়োগ করতেন, তাঁরা সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আমরা যারা ছবিতে অভিনয় করাটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি, তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।’
টানা হরতাল-অবরোধে কেবল চলচ্চিত্রজগৎ নয়, শঙ্কায় পড়েছেন সংগীত তারকারাও। গান নিয়ে গায়ক-গায়িকাদের ব্যস্ততা সারা বছরই থাকে। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্যস্ততার পাল্লা ঊর্ধ্বমুখী থাকে। বলা যায়, এই সময়টায় শিল্পীদের দম ফেলার সময়টুকুও থাকে না। অথচ এই বছর সেই চিত্রটা একেবারে ভিন্ন। একের পর এক কনসার্ট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন শিল্পীরা।
গত মাসে ছোট-বড় ১৩টি কনসার্ট বাতিল করে দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ। তিনি বললেন, ‘মানুষের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের পরই কিন্তু বিনোদনের ব্যাপারটি আসে। যেখানে আমাদের দেশে এখন মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন হতে চলছে, সেখানে বিনোদন তো পরের ব্যাপার।’
৩৩ বছর ধরে সংগীতের সঙ্গেই আছেন কুমার বিশ্বজিৎ। শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালোবাসা আদায়ের পাশাপাশি এটা জীবিকা উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। কুমার বিশ্বজিৎ বললেন, ‘শিল্পের প্রতি ভালো লাগা থেকেই গানের জগতে আসা। এই সংগীতের প্রতি ভালোবাসার কারণে অন্য কোনো কিছুর দিকে ফিরেও তাকাইনি। দেশের শিল্প-সংস্কৃতি এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণে অন্য কোনো দেশে সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি।’
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যান্ড দল মাইলস। গত জানুয়ারিতে ১১টি কনসার্টে পারফর্ম করার কথা ছিল এই ব্যান্ডটির। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় একটি কনসার্টেও পারফর্ম করা হয়নি তাদের। এ নিয়ে বেশ হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে শাফিন আহমেদ বললেন, ‘সামনে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে যেখানে ওপেন এয়ার কনসার্ট নিয়ে আয়োজকদের ব্যস্ততার শেষ থাকে না, সেখানে এখন পর্যন্ত কেউই কোনো অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করারও সাহস পাচ্ছে না। আমরা প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ঘরে বন্দী হয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। এই সময়টায় স্টুডিওতে বসে নতুন কিছু সৃষ্টির চেষ্টা করলেও মানসিক অশান্তির কারণে সেটাও ঠিকভাবে হচ্ছে না।’
মম টেলিভিশন ও সিনেমার ব্যস্ত অভিনেত্রী। তিনি বললেন, ‘ঢাকার বাইরের শুটিং পুরোপুরিভাবে বাদ দিতে হচ্ছে। আর ঢাকার মধ্যে যেসব শুটিং করছি, সেগুলো আবার বাড়তি চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে করতে হচ্ছে।’
শেষটা হতে পারে শাকিব খানের মন্তব্য দিয়ে। তাঁর মন্তব্যের শেষটা এ রকম, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই একধরনের অজানা আতঙ্কে থাকতে হয়। স্বাধীন দেশে যদি এ ধরনের আতঙ্কে পথ চলতে হয়, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছুই হতে পারে না। হরতাল আর অবরোধের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ স্বয়ং শাকিব খানের কণ্ঠেই যখন এই উদ্বেগ, তখন পুরো বিনোদনশিল্পের অবস্থাই যে নাজুক, সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন