বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তাঁকে নিয়ে প্রয়াত নাট্যকার সেলিম আল দীন একটি প্রকাশনায় লিখেছেন, ‘উত্তরাঞ্চলের সাংস্কৃতিক কোষগ্রন্থ হিসেবে আমি তাঁকে মূল্যায়ন করি। লোকনাট্যে তাঁর অবদান অসামান্য।’

default-image

বুধবার সাইদ হোসেনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের লোকনাট্যের। দুলাল আমাদের গ্রাম থিয়েটার চর্চার অন্যতম প্রাণ ছিলেন। ওরাল হিস্টোরিয়ান হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সে। লোকগবেষণার সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক বড় বড় অধ্যাপক তার কাছে যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার কাছে নানা পরামর্শ নিত। বাংলার লোকজ সংস্কৃতির রীতি সে অন্তরে লালন করেছে, সংরক্ষণ করেছে এবং সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে। দুলালকে হারিয়ে গ্রাম থিয়েটার গভীর শূন্যতার মধ্যে পড়েছে। একে একে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নাট্যাঙ্গনের তাত্ত্বিক জ্ঞানের মানুষগুলো।’ নাসির উদ্দীন ইউসুফ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পুঠিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুরে পুঠিয়ায় জানাজার পর কাজী সাইদ হোসেনকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা পরিকল্পনা রয়েছে।

কাজী সাইদ হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ আরও অনেকে। শোকবার্তায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজী সাইদ হোসেন দুলাল বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিবছর পুঠিয়ায় বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত “জাতীয় লোকজ উৎসব” বাংলাদেশের সব সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের কাছে বিপুল সমাদৃত। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন একনিষ্ঠ সংস্কৃতিকর্মীকে হারাল।’

default-image

কাজী সাঈদ হোসেনের জন্ম পুঠিয়ায় ১৯৬০ সালের ২৩ জানুয়ারি। মা আয়েশা খাতুন আর বাবা কাজী আবদুল ওহাব ছিলেন বর্ধমানের বাসিন্দা। দেশভাগের আগে ১৯৪৫ সালের দিকে পুলিশের চাকরির সুবাদে আবদুল ওয়াহাব পুঠিয়ায় আসেন। তারপর রয়ে যান সেখানেই। চার ভাইয়ের মধ্যে দুলাল সবার ছোট। ১৯৮০ সালে চাকরি নেন খাদ্য বিভাগে, কর্মচারী হিসেবে। গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনের সুবাদে ১৯৮৩ সালে তাঁর পরিচয় হয় নাট্যকার সেলিম আল দীন ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর সঙ্গে। ১৯৮৭ সালে তিনি পুঠিয়া থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন। ’৮৮ সালে গাইবান্ধার যমুনার চরে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির ধারায় আধুনিক নাটকের উপাদান হিসেবে ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরু করেন বিলুপ্ত লোকনাট্যের সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, বিলুপ্তপ্রায় লোকনাট্য দল পুনর্গঠন ও পরিবেশনা।

এরই মধ্যে চারণ গায়কদের মুখে মুখে রচিত ৩৫টি লোকপালার পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন তিনি। কাজ করেছেন দেশের ৮৫টি লোকপালার দলের সঙ্গে। এই দলগুলোর বেশ কয়েকটিকে বিলুপ্তপ্রায় অবস্থা থেকে পুনর্গঠন করেছেন তিনি। এসব দলের পরিবেশনায় তিনি পুঠিয়ায় গত ২০ বছরে ১২ বার বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান জাতীয় লোকনাট্য উৎসব করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির লোকনাট্য পদক-২০১০ সহ অসংখ্য সম্মাননা পদক পেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই শুধু প্রাণের তাগিদে, মনের তাগিদে সে যে কাজটা করেছে, সেটা বাউল ছাড়া আর কে করতে পারে? সে জন্যই আমি তাকে নাটকের বাউল বলি।’ আর নাট্যাঙ্গনে তিনি সবার প্রিয় ‘দুলালদা’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন