সাদেক বাচ্চুর অবস্থার অবনতি

ফুসফুসের ৮০ শতাংশই কাজ করছে না

অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে
অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছেসংগৃহীত
বিজ্ঞাপন

অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। তাঁর ফুসফুসের ৮০ শতাংশ কাজ করছে না। তাঁকে শতভাগ অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তিনি রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। বাবার সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চান অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মেয়ে মেহজাবিন।

রোববার সন্ধ্যায় ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী প্রথম আলোকে জানান, সাদেক বাচ্চুর স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিশ্চিত করে সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তাঁরা। সে কারণে রোববার দুপুরে প্রফেসর রেদোয়ানুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড বসেছিল।

তারপর সাদেক বাচ্চুর চিকিৎসায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এখন যে অবস্থা তাঁর, চিকিৎসকদের আর কিছুই করার নেই। তাঁর অবস্থার উন্নতি হতে পারে, আবার যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতি হয়ে যেতে পারে।
default-image

তবে এখন যে অবস্থা তাঁর, চিকিৎসকদের আর কিছুই করার নেই। তাঁর অবস্থার উন্নতি হতে পারে, আবার যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতি হয়ে যেতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্র কম কাজ করছে। এমনিতে আগে থেকে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের বাইপাস সার্জারি করা, যে কারণে অবস্থা বেশি জটিল হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাদেক বাচ্চুর মেয়ে সাদিকা ফাইরুজ মেহজাবীন প্রথম আলোকে জানান, ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনার উপসর্গ থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত শুক্রবার পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছেন তাঁরা। এতে দেখা যায় সাদেক বাচ্চু কোভিড-১৯ পজিটিভ।

কোভিড পজিটিভ হওয়ার পর আইসিইউ সাপোর্ট সহজভাবে নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক সিদ্ধান্তে অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চলছে তাঁর চিকিৎসা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বেশ কিছুদিন ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত সাদেক বাচ্চু। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও সিনেমায় ছিল তাঁর পদচারণ। নব্বইয়ের দশকে পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। রেডিও বা টেলিভিশনের আগে তিনি অভিনয় শুরু করেন মঞ্চে।
default-image

বেশ কিছুদিন ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত সাদেক বাচ্চু। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও সিনেমায় ছিল তাঁর পদচারণ। নব্বইয়ের দশকে পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। রেডিও বা টেলিভিশনের আগে তিনি অভিনয় শুরু করেন মঞ্চে। তাঁর নাট্যদলের নাম মতিঝিল থিয়েটার; এমনকি এখনো তিনি দলটির সভাপতি। এখনো নাটক লেখেন, নির্দেশনা দেন। চলতি বছর বইমেলার মুক্তমঞ্চে নাটক নিয়ে ওঠে তাঁদের দলটি।

মহিলা সমিতির মঞ্চে এক নাটকে সাদেক বাচ্চুর অভিনয় দেখে তাঁকে বিটিভিতে ডেকে নেন প্রযোজক আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমাম। ১৯৭৪ সালে বিটিভিতে তিনি অভিনয় করেন ‘প্রথম অঙ্গীকার’ নাটকে। এখন পর্যন্ত তাঁর অভিনীত নাটকের সংখ্যা হাজারের বেশি। প্রথম অভিনীত সিনেমা শহীদুল আমিন পরিচালিত ‘রামের সুমতি’।

বহুমাত্রিক এই অভিনেতার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবননদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’, ‘সুজন সখী’ প্রভৃতি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন