default-image

ভালো নেই প্রবীণ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আজ ৩৬ দিন ধরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন তিনি। রয়েছেন ভেন্টিলেশনে, অনেকটাই চেতনাহীন অবস্থায়। এই একটু ভালো, আবার একটু খারাপ—এই শারীরিক অবস্থার মধ্যে চলছেন তিনি। গতকাল কিডনি ঠিকমতো কাজ না করায় তাঁর আবার কিডনির ডায়ালাইসিস করা হয়।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চিকিৎসক দলের প্রধান অরিন্দম কর বলেছেন, ‘প্রবীণ অভিনেতা ভালো নেই। একই রকম রয়েছেন। চেতনা অনেকটাই নেই। মাঝেমধ্যে সাড়া দিলেও তা সাময়িক মুহূর্তের জন্য। স্নায়ু সমস্যার উন্নতি দেখা যায়নি। দু–একবার চোখ মেলে তাকান তিনি ঠিকই, তবে তাঁকে সাড়া দেওয়া বলা যায় না। তাঁর কিডনির কাজ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তাই গতকাল রোববার ফের ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। ওই চিকিৎসক আরও বলেছেন, এখনো সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাই তাঁর ফুসফুসে বেশি মাত্রায় অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর ট্র্যাকিওস্টমি করা হবে শিগগিরই। যদিও তাঁর এখন রক্তচাপ স্বাভাবিক। তাঁর জ্ঞান আসছে, আবার যাচ্ছে। বেশি সময় থাকছে না জ্ঞান।

default-image

তবে গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নতুন করে জ্বর আসেনি। রয়েছেন এখনো ভেন্টিলেশনে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক অরিন্দম কর গতকাল বলেছেন, তাঁকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবছেন তাঁরা। তাঁর শরীরে নতুন করে সংক্রমণ না ছড়ানোয় শুক্রবার শেষ তাঁরা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছেন। তাঁরা এ কথাও বলেছেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর ইনফেকশন কমাতে তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ায় তাঁর দুটি কিডনিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে এখন এক দিন পরপর ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে। চিকিৎসক অরিন্দম কর জানিয়েছেন, রক্তরোগ ও কিডনি বিশেষজ্ঞরা এখন তাঁকে দেখছেন—তাঁর এই বয়সে প্লাজমাফেরোসিস কাজ করবে কি না।

default-image


গত ১ অক্টোবর থেকে বাড়িতে থাকালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। শরীরে জ্বর ওঠে। তবে করোনার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এরপরই চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে গত ৫ অক্টোবর তাঁর করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

default-image

৬ অক্টোবর তাঁকে ভর্তি করানো হয় বেলভিউ নার্সিংহোমে। নার্সিংহোমে সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর তাঁর করোনা নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরেই সৌমিত্র সুস্থ হতে থাকেন। যদিও তাঁর করোনা ছাড়া অন্যান্য রোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেশার, সুগারের মতো রোগ। তার ওপরে ছিল করোনা পজিটিভ। কিন্তু ২৪ অক্টোবর রাত থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মূলত অবনতি হতে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি চেতনাহীন হয়ে পড়েন। সেই অবনতির ধারা এখনো চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় তাঁর ডায়ালাইসিস করা হয়েছে।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0