বিজ্ঞাপন
default-image

প্রাচ্যনাটের মুখ্য সম্পাদক কাজী তৌফিকুল ইমন বলেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটকের এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধা দেওয়ার যে নজির তৈরি হলো, তা নিন্দনীয়। একজন সাংবাদিকের গলা টিপে ধরার অধিকার তো তাদের নেই। রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। পাশাপাশি সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।’

প্রাচ্যনাটের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাইফুল জার্নাল বলেন, ‘সম্প্রতি বিচ্ছিন্নভাবে অনেকগুলো ঘটনা ঘটল। কিন্তু লকডাউনের জন্য আমরা একত্র হয়ে রাস্তায় নামতে পারিনি। আজও আমরা জোর দিয়ে কাউকে আসতে বলিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে র‍্যালি আর পারফরম্যান্স করেছি। সাংবাদিকেরা জীবন বাজি রেখে আমাদের জন্য কী না করেন। আর তাঁদের দুঃসময়ের সঙ্গী হওয়া আমাদের দায়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের শিল্প আর সংস্কৃতিচর্চারই অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হয়রানি, মামলা ও আটকের ঘটনায় সারা দেশে চলছে তোলপাড়। বিনোদন অঙ্গন থেকেও জানানো হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ‘রোজিনার জন্য নাট্যযাত্রা’র আয়োজন করে দেশের বরেণ্য নাট্যদল প্রাচ্যনাট। সচিবালয় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে আর ন্যায়বিচারের দাবিতে দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে তারা।

default-image

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাচ্যনাট জানিয়েছিল, রুচির স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছে মানুষ। অস্থির সময়ে অযৌক্তিকভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে পেশিশক্তি। লোভের বশে চুরির নেশায় খালি করছে দেশের সম্পদ। এসব অসামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে সবাইকে উল্টো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। চুপ থাকা, নিজেরটা বুঝে নেওয়া আর চোখ বুজে থাকাই নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ‘নীতি’ যাঁরা মানতে চান না, অপশক্তি তাঁদের টুঁটি চেপে ধরে কণ্ঠ রোধ করে। সাইফুল জার্নাল বলেন, ‘এসব অপশক্তি যতবার টুঁটি চেপে ধরবে, ততবারই কণ্ঠ দ্বিগুণ চিৎকার করে উঠবে। আমরাও চিৎকার করতে চাই রোজিনার জন্য, চিৎকার করতে চাই দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য। এ কারণেই প্রাচ্যনাট ও তার বন্ধুরা আয়োজন করছে “রোজিনার জন্য নাট্যযাত্রা’।’

default-image

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পরিচিত মুখ রোজিনা ইসলাম গত সোমবার সচিবালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে যান। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাঁকে একটি কক্ষে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে পরে পুলিশে সোপর্দ করে এবং রাতে তাঁকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। পরে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় মামলা করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন করলে, তা নাকচ করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠান আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভার্চ্যুয়ালি রোজিনার জামিন শুনানি হয়। জামিন নিয়ে আদেশের জন্য রোববার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন