default-image

যদিও দেশ ছাড়ার আগে একটু চিন্তায়ই ছিলেন ফারিণ। একে তো প্রথম সিনেমা, তা–ও আবার অন্য দেশের। শুটিংও দেশের বাইরে হবে—সব মিলিয়ে কিছুটা নার্ভাস ছিলেন। ফারিণ বলেন, ‘লন্ডনে আগে যাইনি। এত দূরে গিয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি টিমের সঙ্গে কাজ করতে হবে, একা একা অনেক দিন থাকতে হবে, কতটুকু ভালোভাবে কাজ করতে পারব, তা নিয়ে চিন্তা ছিল। এ ছাড়া লন্ডনের আবহাওয়া প্রায়ই খারাপ থাকে, এ ভাবনাও ছিল। কিন্তু যাওয়ার পর ধারণাই পাল্টে গেছে। এত সুন্দর একটি টিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি, কখনো ভুলব না।’

ফারিণ জানান, সেন্ট্রাল লন্ডনসহ প্রায় ৩৭টি লোকেশনে কাজ করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘শুটিং করতে করতে পুরো লন্ডন প্রায় দেখা হয়ে গেছে। অনেক লোকেশনে কাজ করেছি তো। বলতে পারেন পুরো শহর ভেজে খেয়েছি (হা হা হা...)। লন্ডন দেখার জন্য আলাদাভাবে ঘুরতে হয়নি।’

default-image

আরও এক পৃথিবী সিনেমায় ফারিণের চরিত্রের নাম ‘প্রতীক্ষা’। ছবিতে দেখা যাবে, ফারিণের মতোই প্রথমবার লন্ডনে যায় প্রতীক্ষাও।

এই কাকতালীয় ব্যাপারটিও বেশ মনে হচ্ছে অভিনেত্রীর, ‘গল্পের সঙ্গে আমার বাস্তবতা মিলে গেছে। শুটিংয়ের সময় এটা বেশ উপভোগ করেছি।’

default-image

ছবিতে ফারিণের সহ–অভিনেতা পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত পরিচালক ও অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলী, ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ অনিন্দিতা রায় চৌধুরী। তাঁদের সঙ্গে কাজ করে এককথায় মুগ্ধ ফারিণ। তিনি বলেন, ‘গল্পে তাঁদের সঙ্গে প্রতীক্ষার প্রথম দেখা হয়। এ জন্য আমিও শুটিংয়ের আগে তাঁদের সম্পর্কে জানতে চাইনি। তাঁদের কোনো সিনেমাও দেখতে চাইনি। বিষয়টিকে যতটা সম্ভব অর্গানিক রাখতে চেয়েছি, যাতে তাঁদের প্রথম দেখার অনুভূতিটা পর্দায়ও ভালোভাবে উঠে আসে।’
কৌশিক গাঙ্গুলীর মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মন করেন এই অভিনেত্রী, ‘তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি শুটিংয়ে খুব বিনয়ী আর মজার, দারুণ একজন মানুষ। আমি তাঁর চেয়ে বয়সে আর কাজের অভিজ্ঞতায় এত ছোট, তারপরও মাঝেমধ্যেই শট দেওয়ার পর কৌশিকদা আমাকে বলতেন, “ফারিণ, আমার অভিনয়টা ঠিকঠাক ছিল?” চিন্তা করা যায়!

default-image

তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মনেই হয়নি, আমি টিমে নতুন। আমার শটের সময় কৌশিকদা প্রশংসা করেছেন, দেখিয়ে দিয়েছেন।’

টানা ২০ দিনের শুটিংয়ে মজার ঘটনাও ঘটেছে বিস্তর। এই যেমন বলা যায়, ইলিংয়ে একটি দোকানের সামনে শুটিংয়ের ঘটনার কথা। সেদিন প্রচণ্ড ঠান্ডা। কিন্তু দোকানে আইসক্রিম দেখে কেউ লোভ সামলাতে পারছিলেন না। অগত্যা কেনা হলো। কিন্তু ঠান্ডার চোটে কেউ খেতেও পারে না। তাই বলে এত টাকা দিয়ে কিনে তো ফেলেও দেওয়া যায় না। খাব নাকি ফেলব, এ নিয়ে বেশ মজা হয়েছিল সেদিন।

default-image

আরেকটি ঘটনার কথাও বলেন ফারিণ, ‘বোট হাউসে শুটিং। নৌকার ওপরই বাড়ি। সেই বাড়িতে আবার বড় একটি কুকুরও আছে। আমি খেয়াল করিনি। শট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি হচ্ছি, পেছন থেকে “হাউ” বলে ডাক দিয়েছে কুকুরটি। আর কী! আচমকা লাফ দিয়ে পড়ে গেলাম। ইউনিটে সবাই হেসে গড়াগড়ি।’
টানা শুটিং শেষে দেশে ফিরেও বিরাম নেই ফারিণের। দেশে ফিরতে না ফিরতেই শুরু করেছেন কারাগার নামে একটি ওয়েব সিরিজের শুটিং। ফারিণ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুর ১২টায় ফিরেছি। বাসায় গিয়েই শুটিংয়ের ব্যাগ নিয়ে ছুট। বেলা একটায় শুটিং শুরু। এখনো বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাইনি।’

default-image
নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন