default-image

এই অভিনেতা মনে করেন, যাঁরা নাটক বানাচ্ছেন, তাঁরা কম টাকা দিচ্ছেন। যে কারণে নাটকের জন্য ভালো গল্প পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের ভালো চিত্রনাট্যকারেরা এখন নাটক লেখা থেকে দূরে আছেন। তা ছাড়া নির্মাণও দুর্বল। কোনো বাছবিচার ছাড়াই মানহীন অনেক নাটক চ্যানেল কম টাকা দিয়ে কেনায় ব্যস্ত। সেখানে মানের কোনো প্রশ্ন না থাকায় অনেকেই যেমন ইচ্ছে তেমন গল্প, চরিত্র, ভাষা নিয়ে নাটকে বানাতে ব্যস্ত হচ্ছেন। বর্তমান নাটকের কথা মনে হলে তিনি কষ্ট পান। তিনি বলেন, ‘আমরা নাটক নিয়ে কোন দিকে যাচ্ছি কিছুই বুঝতে পারছি না। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে নাটক।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে নাটকের মান কমছে। দর্শক নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যে কারণে ৯০টি খারাপ নাটকের ভিড়ে ১০টি ভালো নাটক হারিয়ে যাচ্ছে। দেশের নাটকের ঐতিহ্যকে কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, নতুন বছরে সেই আশার কথা বললেন অভিনেতা ও নির্মাতা আবুল হায়াত।

default-image


বর্তমানে হাতে গোনা কিছু নাটক ভালো হচ্ছে। সেগুলো দর্শক দেখছেন না। খারাপের ভিড়ে সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে নাটকের কিছু মানুষ ইচ্ছেমতো নাটক লিখছেন ও বানাচ্ছেন। সেটা দর্শকেরা কীভাবে নেবেন বা সমাজে কী প্রভাব পড়বে, সেদিকে কারও খেয়াল নেই। এখনকার নাটকে বিনোদন, শিক্ষা কিছুই নেই। এসব দিক থেকেই নাটক একটি দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন আবুল হায়াত। তিনি বলেন, ‘আগে ভালো গল্প থাকত। সেগুলো দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখতেন। সেসব নাটক অভিনয়শিল্পীরাও মজা নিয়ে অভিনয় করতেন। কিন্তু এখন কারও কোনো দায়বদ্ধতা নেই। অভিনয়শিল্পীরা নাটককে ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছেন। কিছু অভিনেতা নাটক করার আগে চিন্তা করেন তিনি কত টাকা পাবেন। শিল্পের আসল উদ্দেশ্যই এখন নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে ৯০টি খারাপ নাটকের ভিড়ে ১০টি ভালো নাটক হারিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি মনে করেন, নাটকের বাজেট আরও বাড়ানো দরকার। পরিবারকে নাটকে ফিরিয়ে আনতে হবে। নাটকের প্রতি নির্মাতা–অভিনয়শিল্পীদের ভালোবাসা ও কমিটমেন্ট দরকার। কীভাবে আবারও নাটকের দর্শক ফেরানো যায়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বেশি ভালো নাটক নির্মাণ হওয়া শুরু হলে একজন–দুজন করে দর্শকেরা নাটকগুলোর খবর পাবে। সেই ভালো নাটক নির্মাণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে নাটকের প্রতি তারকাদের ভালোবাসা বাড়াতে হবে।’

default-image

তাঁর মতে, নাটককে ব্যবসায়িক পণ্য মনে করা যাবে না। বিভিন্ন সময় এই অভিনেতা বাইরে বের হন। তখন অনেকেই প্রশ্ন করেন, তিনি অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন কি না। শুনে তিনি নিজেই কষ্ট পান। তিনি জানান, তাঁর ধারাবাহিক নাটক এখনো নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু দর্শক নাটক দেখছে না।  
করোনাকালে গত ১০ মাসে তিনটি নাটকে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনি নির্মাতা তৌকীর আহমেদের একটি ধারাবাহিক নাটকে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। এ জন্য প্রতি মাসে দু–তিন দিন করে শুটিং করেন। তিনি জানান, করোনার কারণে আপাতত খুব বেশি নাটকে অভিনয় করতে চান না তিনি।

বিজ্ঞাপন
নাটক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন