৩৯ দিন ধরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
৩৯ দিন ধরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ছবি: কোলাজ

অভিনেতা সৌমিত্রের ফুসফুসে আরও বেশি করে অক্সিজেন পৌঁছানোর জন্য গতকাল বুধবার সৌমিত্রের শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচার বা ট্রাকিওস্টমি করা হয়েছে । এতে করে তাঁর ফুসফুসে আরও বেশি করে অক্সিজেন পৌঁছাবে। গতকাল বুধবার রাতে সৌমিত্রের চিকিৎসায় নিয়োজিত ১৬ সদস্যের চিকিৎসক দলের প্রধান ক্রিটিক্যাল বিশেষজ্ঞ অরিন্দম কর এ কথা বলেছেন। গতকাল দুপুরের পরই শুরু হয় এই অস্ত্রোপচার। বিকেলে তা শেষ হয়। অস্ত্রোপচার করেন বিশিষ্ট নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ  দীপঙ্কর দত্ত। এই সফল অস্ত্রোপচারের ফলে সৌমিত্রের ফুসফুসে আরও বেশি করে অক্সিজেন পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

সৌমিত্রের চিকিৎসক দলের প্রধান চিকিৎসক অরিন্দম কর আরও  বলেছেন, প্রবীণ এই অভিনেতার আরও বেশ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তাঁরা  চেষ্টা করছেন তাঁকে সারিয়ে তোলার জন্য। তাঁর কিডনির কোনোটিই এখনো স্বাভাবিক ক্ষমতা ফিরে পায়নি। চলছে ডায়ালিসিসও।

default-image

চিকিৎসক অরিন্দম কর এ কথাও বলেছেন, প্রবীণ অভিনেতার আচ্ছন্নভাব বাদ দিলে তিনি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছেন ভেন্টিলেশনেই। তবে প্লাটিলেট কাউন্ট কম। বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার তাঁর প্লাজমাফেরেসিস চিকিৎসা হতে পারে। তবে তাঁর মস্তিষ্কের সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সৌমিত্রের শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচারের পরই চিকিৎসকেরা বলেছেন, এই ট্রাকিওস্টমি পদ্ধতিতে তাঁর গলার নিচের দিকে ছিদ্র করে একটি নল জুড়ে দেওয়া হয় ফুসফুসের সংযোগকারী ট্রাকিয়ায়। এর ফলে ভেন্টিলেটর হোক বা অক্সিজেন কিংবা স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস, সবই সম্ভব হয় সহজে। আর এতে করে গলার টিস্যু নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

default-image

৯ নভেম্বর সৌমিত্রকে দেখতে রাজ্য সরকারের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বেলভিউ নার্সিংহোমে এসেছিলেন। সেখানে তাঁকে তাঁরা দেখেন। চিকিৎসকদের এই দলে ছিলেন অধ্যাপক আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, অধ্যাপক বিমান ধর এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মনোতোষ সূত্রধর। তাঁরা সৌমিত্রকে দেখে ট্রাকিওস্টমি করার ব্যাপারে সায় দেন। পরিবার থেকেও দেওয়া হয় অনুমতি।
আজ ৩৯ দিন ধরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। রয়েছেন এখনো ভেন্টিলেশনে। করা হচ্ছে তাঁর কিডনির ডায়ালিসিস এক দিন অন্তর এক দিন। ২৪ অক্টোবর দুর্গা অষ্টমীর রাত থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মূলত অবনতি হতে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি চেতনাহীন হয়ে পড়েন। এখনো তিনি অনেকটাই চেতনাহীন অবস্থায় রয়েছেন।

default-image

১ অক্টোবর থেকে বাড়িতে থাকাকালীন তাঁর শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। শরীরে জ্বর ওঠে। তবে করোনার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এরপরই চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে গত ৫ অক্টোবর তাঁর করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৬ অক্টোবর তাঁকে ভর্তি করানো হয় বেলভিউ নার্সিংহোমে। নার্সিংহোমে সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর তাঁর করোনা নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই সৌমিত্র সুস্থ হতে থাকেন। যদিও তাঁর করোনা ছাড়া অন্যান্য রোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেশার, সুগারের মতো রোগ। তার ওপর ছিল করোনা পজিটিভ। কিন্তু দুর্গা অষ্টমীর রাত থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রম অবনতি শুরু হয়।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0