বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাটকের গল্পটা নিয়েই সিনেমা হচ্ছে, অথচ আপনি থাকছেন না জানার পর কেমন লেগেছিল?

অনেক মন খারাপ হয়েছিল। কষ্টে গত কয়েক বছর তো আমি পরিচালকের ফোনই ধরিনি। নাটকটা করতে গিয়ে কিন্তু আমাদের একটা ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিল। এই গল্পকারের অনেকগুলো গল্পে আমি কাজও করেছি। কষ্ট থেকেই পরিচালকের সঙ্গে দেখা হলেই বেইমান বলতাম। পরে আমার মনে হয়েছে, বড় পর্দার ব্যাপার, পরিচালক যদি মনে করেন, গল্পটায় অপর্ণা যায়, সেটা হতেই পারে। এটা পরিচালকের স্বাধীনতা। আমি এটা নিয়ে আর না ভাবি।

default-image

পরে যুক্ত হলেন কীভাবে?

যেদিন আমাদের লাল মোরগের ঝুঁটির প্রথম শো, সেদিন রুমিকে (পরিচালক হোসনে মোবারকের ডাকনাম) দেখলাম সিনেমা হলে। কেন এসেছেন? স্বাগতাকে এই সিনেমার স্ক্রিপ্ট দিতে এসেছেন। পরদিন রুমির বউ আমাকে ফোন দিয়েছেন। শুরু থেকেই পরিচালকের বউ আমাকেই চেয়েছিলেন, যেকোনো কারণে হচ্ছিল না। পরিচালকের বউ সেদিন বললেন, ‘এই চলচ্চিত্রের জন্য আপনাকেই লাগবে আমার, আমাকে সাহায্য করতে হবে আপনার।’ দুই দিন সময় নিলাম। কারণ, লাল মোরগের ঝুঁটির প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ১৫ তারিখে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি। পরিচালকের বউ আমাকে বলেছেন, ‘আপু, এটা কিন্তু আপনার জয়।’

default-image

আপনিও কি মনে করছেন এটা আপনার জয়?

পরিচালক তো ঠেকায় পড়ে আমাকে নেননি, তাহলে তো মাঝখানে আবার স্বাগতার কাছে যেতেন না। সিনেমা হলে আমাকে দেখে হয়তো মনে করেছেন, চরিত্রটায় আমাকেই মানায়। অনেক জায়গায় ঘুরে শেষে আমার কাছেই আসতে হয়েছে। একজন পরিচালকের একটা চরিত্র পোর্ট্রে করার ক্ষেত্রে প্রখর কল্পনাশক্তি থাকা প্রয়োজন। ব্যাপারটা যদি এমনই হয়, এই চরিত্রে অপর্ণাকেই লাগবে, তাহলে ওর জন্য এক বছর বা ছয় মাস অপেক্ষা করা উচিত। আমি বলেছি এ কথা। পরে অবশ্য অভিনয় ও সবকিছু মিলিয়ে তাঁর মনে হয়েছে, আমিই সঠিক।

‘লাল মোরগের ঝুঁটি’র কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?

খুবই ভালো বলেছে। সবাই বলেছে, আহা! এত মায়া। কী অভিনয়! কী অসাধারণ!

default-image

পর্দায় নিজেকে দেখে কেমন লেগেছে?

ঠিক আছে। অভিনয় নিয়ে আমি আমার কথা কী বলব। আমি তো আমাকে জাজ করতে পারি না। তবে মানুষের মুখে প্রশংসা শুনতে ভালোই লাগে। সবকিছুর পর চলচ্চিত্রটা আমার খুব প্রিয়।

সহশিল্পীদের মধ্যে কার অভিনয় আপনার ভালো লেগেছে?

পাকিস্তান আর্মি চরিত্রে আমাদের শাহজাহান সম্রাট, রাজাকার চরিত্রে জয়রাজের।

নারী অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে?

আলাদা করে বলার কিছু নেই। নারী শিল্পীদের মধ্যে আমাদের চারজন মেয়ের নাম সবাই বলছে। সবাই আসলে ভালো অভিনয় করেছেন। আলাদা করে বলার কিছু নেই।

নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করছেন?

আরেকটা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা চলছে। এটিও সরকারি অনুদানের। অনুদান ও মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে অভিনয় করতে করতে মনে হয় শহীদ হয়ে যাব। আমি ক্লান্ত।

কেন?

একজন পরিচালক আমাকে যে চরিত্রে দেখেন, পরের পরিচালকও এসে একই চরিত্রের প্রস্তাব দেন। ক্যান রে ভাই, নতুন কিছু ভাবতে পারেন না।

default-image

আপনি কোন ধরনের চরিত্রের জন্য মুখিয়ে থাকেন?

কোন ধরনের চরিত্র, বিষয়টা এমন নয়, এক সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে আরেক সিনেমার চরিত্র মিলুক, তা আমি চাই না। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চাই।

default-image

নাটকের কাজের খবর কী?

নাটকে অভিনয় করছি না, করতে চাইও না। নাটকের সময়টা ব্যবসায় দিচ্ছি। সময় নেই।

সময় নেই, নাকি ডাক পাচ্ছেন না?

ডাক পাই, তবে কম। আমি যে রকম কাজ চাই, সে রকমটা পাই না। রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর থেকে সতর্ক হয়ে গেছি। কারণ, একটা কাজ মুক্তি পাওয়া মানেই সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে চলে যাওয়া। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাকে মিস ইউজ করা হয়েছে বেশি।

default-image
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন