ছেলে আব্রামের সঙ্গে অপু বিশ্বাস
ছেলে আব্রামের সঙ্গে অপু বিশ্বাসছবি: কোলাজ
প্রথমবার কলকাতার ছবিতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন দুটি ছবি—‘প্রিয় কমলা’ ও ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু’। কাজ করছেন ‘ছায়াবৃক্ষ’ নামের আরেকটি ছবিতে। নতুন ছবিসহ নানা বিষয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

প্রথম কলকাতার ছবিতে অভিষেক হবে আপনার। অনুভূতি কেমন?

বড় কথা, এই ছবির কাহিনি দুই বাংলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতার একটি গানের গল্প থেকে নেওয়া। শুধু তাই-ই নয়, এই ছবির প্রযোজকও নচিকেতা। নচিকেতা আমার এবং আমার পরিবারের প্রিয় একজন শিল্পী। তাঁর চাওয়াতেই এই কাজটি করতে পেরেছি। ছবির শুটিং, ডাবিং শেষ। এখন মুক্তির অপেক্ষায়।

default-image

কীভাবে যাত্রা এ ছবিতে?

আমি পশ্চিম বাংলায় বেশ কয়েকটি স্টেজ শো করেছি। ২০১৮ সালে। একটি শো করছিলাম কলকাতাতে। শো চলার মাঝে একজন নারী প্রযোজক আমাকে বলছিলেন, ‘অপু, তোমাকে নচিকেতা চেনেন। তোমাকে নিয়ে উনি একটি ছবি বানাতে চান।’ সেই সময় আমার ওজনও বেশি ছিল। কারণ, এর বেশ কয়েক মাস আগে আমার বেবি হয়েছে। নচিকেতার ছবিতে কাজের প্রস্তাবের খবরটি আমার পরিবারকে জানালাম। মা–ও নচিকেতা দাদার দারুণ একজন ভক্ত। শুনে তিনিও রাজি হয়ে গেলেন। আমাকে কাজটি করার ব্যাপারে উৎসাহ দিলেন। কিছুদিনের মধ্যে নচিকেতা দাদার সঙ্গে ফোনে কথা হলো। ব্যাটে বলে মিলে গেলে কাজটি শুরু করলাম।

বিজ্ঞাপন

কবে মুক্তি পাবে?

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় গিয়েছিলাম। টুকটাক কিছু শুটিং বাকি ছিল। এবার ছবির ডাবিংসহ সব কাজ শেষ করে এসেছি। এরই মধ্যে মুক্তির সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ছবির পরিচালক সুবীর মণ্ডলের কাছ থেকে শুনেছি, সামনে যেকোনো একটি উৎসবে কলকাতায় মুক্তি পাবে ছবিটি।

default-image

বাংলাদেশে মুক্তি পাবে না?

এই ছবিটি বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি নয়। বিকল্প ঘরানার। এ ধরনের ছবি সব শ্রেণির দর্শকের জন্য নয়। দর্শকও আলাদা। আমার ভক্ত-দর্শকেরা নতুন করে অপু বিশ্বাসকে দেখবেন এই ছবিতে। কলকাতায় মুক্তির পর বাংলাদেশেও ছবিটি মুক্তির ইচ্ছার কথা আমাকে জানিয়েছেন পরিচালক। তবে কোন প্রক্রিয়ায় ছবিটি মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে আমি খুব বেশি একটা জানি না। শুনেছি আমাদের এখানে ভারতীয় ছবিগুলো যেভাবে মুক্তি পায়, সেভাবেই মুক্তি পেতে পারে। বিনিময় চুক্তিতে আমদানি-রপ্তানি নীতিমালায় ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তির কথা রয়েছে।

কলকাতার সিনেমা–সংশ্লিষ্ট অনেকই আপনাকে আগে থেকেই চেনেন–জানেন। ‘শর্টকাট’ মুক্তির মধ্য দিয়ে কলকাতার সাধারণ সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের এবার আপনার সঙ্গে পরিচিতি ঘটবে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কয়েকটি জেলাতেই আমাদের ছবির দর্শক আছেন। বেশ কয়েকটি জেলাতে আমি স্টেজ শো করেছি। তাঁদের সঙ্গে আমার পরিচিতিটা আগেই। তবে কলকাতার দর্শকের কাছে এই ‘শর্টকাট’ ছবিটি আমার পরিচিতিটা আরও বাড়িয়ে দেবে। এ জন্য আমি বেশি খুশি।

২০১৮ সালে আপনার পুরোনো একটি ছবি ‘পাংকু জামাই’ মুক্তি পেয়েছিল। একটা লম্বা সময় আপনার নতুন কোনো ছবির মুক্তি নেই। এটি কি তারকা ইমেজের ওপর প্রভাব ফেলে?

আমি এটি মনে করি না। কারণ, আমি অল্প সময়ে যত কাজ করেছি, মাঝে এক–দুই বছর ছবি না করলে বা ছবি মুক্তি না পেলে তারকা ইমেজ কমে যেতে পারে, এটি আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দীপিকা পাড়ুকোন বলেন বা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন—তাঁরা প্রতিবছরেই একাধিক ছবিতে কাজ করেন, এমনটা নয়। প্রিয়াঙ্কা তো যুক্তরাষ্ট্রে অনেকটাই স্থায়ী হয়ে গেছেন। বলিউডে তাঁর কটি ছবি এখন? তাঁদের তারকা ইমেজ কি চলে গেছে? না, যায়নি। আমি অসংখ্য ভালো ছবিতে কাজ করেছি, এখন ভালো কাজের আশায় আছি। সুতরাং দু–এক বছর কাজ না করলে তারকা ইমেজ বা জনপ্রিয়তা কমে যাবে, এটা ঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

‘ছাঁয়াবৃক্ষ’ নামে একটি ছবিতে একজন চা–শ্রমিকের চরিত্রে অভিনয় করছেন। গ্ল্যামার থেকে বেরিয়ে চরিত্রটি করছেন। কোন চিন্তা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

বাণিজ্যিক ধারার অনেক ছবিতে কাজ করেছি, করছি। এখন একটু ভিন্ন ধরনের ছবিতে কাজ করতে চাই। ভিন্ন চরিত্র নিয়ে দর্শকের সামনে আসতে চাই। তেমন একটি চরিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’ ছবির একজন চা– শ্রমিক। মানুষ এখন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের চরিত্রগুলো বাস্তবের মতোই দেখতে চান। এখন চা–শ্রমিককে তো আর সাজিয়ে গুছিয়ে ভারী মেকআপ নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করানো যাবে না। বিষয়টি মেকি মেকি মনে হবে। শ্রমিকের চরিত্র শ্রমিকের মতোই দেখাতে হবে। সেভাবেই করতে চেয়েছি আমি। আবার ‘শর্টকাট’ ছবিতে আমি মেকআপ ছাড়া অভিনয় করেছি। এ ধরনের চরিত্রগুলো তুলে আনতে কষ্ট করতে হয়, শ্রম দিতে হয়। ফুটিয়ে তুলতে পারলে দর্শকের মধ্যে বেঁচেও থাকে চরিত্রগুলো। এ ধরনের চরিত্রগুলো একজন অভিনেতাকে আত্মতৃপ্তি দেয়। ইচ্ছা আছে, প্রতিবছর এ ধরনের এক–দুটি কাজ করা।

default-image
বাণিজ্যিক ধারার অনেক ছবিতে কাজ করেছি, করছি। এখন একটু ভিন্ন ধরনের ছবিতে কাজ করতে চাই। ভিন্ন চরিত্র নিয়ে দর্শকের সামনে আসতে চাই। তেমন একটি চরিত্র ‘ছায়াবৃক্ষ’ ছবির একজন চা– শ্রমিক। মানুষ এখন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের চরিত্রগুলো বাস্তবের মতোই দেখতে চান
অপু বিশ্বাস
default-image

এখন হাতে আর কী কী কাজ আছে?

‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু’ ও ‘প্রিয় কমলা’ নামে দুটি ছবির সব কাজ শেষ। সেন্সরও হয়ে গেছে ছবি দুটির। ‘প্রিয় কমলা’ একটি যুদ্ধভিত্তিক ছবি। বলতে পারেন, এটিও আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতার ছবি। আগে কখনো এ ধরনের ছবিতে কাজ করিনি। এই ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে আমার স্কুলজীবনের স্মৃতি জড়িত। মনে আছে, আমি নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় চ্যানেল আইয়ের ‘কাল সকালে’ এবং ‘ও আমার ছেলে’ ছবি দুটিতে অভিনয় করেছিলাম। ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু’ মুক্তির খবর এখনো জানি না। তবে ‘প্রিয় কমলা’ ২৬ মার্চ মুক্তি পেতে পারে।

default-image

আপনার ছেলে আব্রাম খান কেমন আছে? তার সঙ্গে আপনার সময়টা এখন কেমন কাটছে?

আব্রাম ভালো আছে। তার সঙ্গে ভালো সময় কাটছে। শুধু আমার বাচ্চা নয়, আমার মনে হয় এই করোনায় সব বাচ্চারই গ্রুমিং ও পড়াশোনার জায়গাটাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরপরও আমি আব্রামকে প্রায়ই বাসার বাইরে নিয়ে যাই। একটু প্রকৃতির কাছাকাছি নেওয়ার চেষ্টা করি। আজ (বুধবার) চিড়িয়াখানায় নিয়ে গিয়েছিলাম। পশুপাখিদের দেখিয়েছি, চিনিয়েছি। এগুলো তার জন্য শিক্ষণীয়। গত জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে এক দিন এক ঘণ্টা করে ক্লাস হয়। স্কুলের পুরো সময়টাই তার সঙ্গে সঙ্গ দিচ্ছি আমি। বলতে পারেন আব্রাম এক ঘণ্টা ক্লাস করে, আমি দুই ঘণ্টা করি (হাসি)।

default-image

অপু বিশ্বাসহঠাৎ করেই ঢালিউডে অনেক ছবি তৈরি শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ ছবিই কম বাজেটের। কেউ কেউ এসব ছবির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

দু–তিন মাস আগেও সিনেমা তৈরির এত খবর ছিল না। অনেকটাই স্থবির ছিল চলচ্চিত্রাঙ্গন। এখন একাধিক ছবির ঘোষণা এসেছে, ছবি তৈরি শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্রপাড়া সরব হচ্ছে, এটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মান বিবেচনার আগে সিনেমার কাজ হওয়া দরকার। ইন্ডাস্ট্রি আগে সচল হওয়া দরকার। আমি মনে করি, বেশি বেশি কাজের মধ্য দিয়ে একসময় গিয়ে মানের কাজ হতে বাধ্য। কারণ, আমরা করোনাভাইরাসের কারণে পিছিয়ে গেছি। কাজের সংখ্যা দিয়ে আগে এগোতে হবে।

বিজ্ঞাপন
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন