default-image

বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে? আপনি কীভাবে দেখছেন ব্যাপারটি?

সত্যিকার অর্থে, আমরা যতই হইচই করি না কেন, আমাদের চলচ্চিত্র গত ৫০ বছরে বিশাল কিছু করে ফেলেছি, এমনটা ভাবার কিছু নেই। চলচ্চিত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গেলে আমার দৈন্য বোঝা যায়। তো এ রকম একটি জায়গায় দাঁড়িয়েও ‘রেহানা মরিয়ম নূর’–এর মতো একটি প্রোডাকশন কান চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রোডাকশনগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে, অমিতাভ রেজার কাজগুলোও হচ্ছে। সামনে আরও অনেক তরুণ আসছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ছবিগুলো তরুণদের হাতেই হয়েছে। কাজের তরুণদের বিষয়টি অনেক পজিটিভ। আরেকটি হচ্ছে, তারা অনেক আপডেটেড, প্রযুক্তিগতভাবেও। একজন তরুণ যখন চলচ্চিত্র নির্মাণে আসে, তখন সে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তিকে বুঝে কাজে হাত দেয়। যে কারণে তরুণদের ওপরই নির্ভর করে চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ। তবে তরুণেরা চলবে পুরোনোদের অভিজ্ঞতার গাইডলাইনে।

মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের শিল্পীদের সমিতির নির্বাচন নিয়ে এফডিসিতে বেশ শোরগোল হয়েছে। অথচ সিনেমা নিয়ে এফডিসিতে এমন উন্মাদনা দেখা যায় না। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

শিল্পী সমিতি নিয়ে যা হচ্ছে, এটা তো আমাদের বাংলাদেশের ওভারঅল চিত্র। একজন ভালো অভিনেতা বা নির্মাতা কখনোই সমিতিকেন্দ্রিক নন। সারা পৃথিবীর চিত্রই এটা। অভিনয়শিল্পীদের নেতা হতে হলে তাঁকে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য এবং ভালো অভিনেতা হতে হবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকতে হবে। এই যে সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং যোগ্যতা, একসঙ্গে পাওয়াটা খুব দুষ্কর। যাঁর যোগ্যতা আছে, তিনি সংগঠক হতে চান না, আবার যিনি সংগঠন করেন, তাঁর অভিনয়ে যোগ্যতা নেই—দ্বন্দ্বটা কিন্তু এই জায়গায়। কোনো এক সময় একজন সংগঠক এবং যোগ্য ব্যক্তি এক হয়ে যাবেন। তাই এটাকে এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই।

default-image

ভালো ছবি তৈরি হলেও দর্শক হলে যাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমছে। এর প্রতিকার কীভাবে হতে পারে বলে মনে হয়?

দর্শক কেন যাবেন, তাঁকে হলে নিতে তো একটা এনভায়রনমেনট দিতে হবে। বাংলাদেশের গড় দর্শক যাঁরা, তাঁরা তো এখন নেই। গড় দর্শকেরা কেন ৩০০–৫০০ টাকা খরচ করে সিনেপ্লেক্সে যাবেন। টিকেটের মূল্য কমাতে হবে। এমন চলচ্চিত্র তৈরি করতে হবে, যেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত যেতে পারে। আমাদের দুই ধরনের চলচ্চিত্র আছে—একটি হচ্ছে গাননির্ভর, আরেকটি গান ছাড়া। কিন্তু আমাদের সবকিছুর প্রতি সুন্দর নজর দিতে হবে। গল্প ভালো হলেই শুধু হবে না, চিত্রনাট্যও ভালো হতে হবে, নির্মাণটা ভালো হতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে একটা সুন্দর ছবি তৈরি হতে হবে। এই মুহূর্তে যদি ভালো ছবি তৈরি হওয়া শুরু করে, পুরোনো হলগুলোও ধুয়ে–মুছে সবাই চালু করে দেবে। তো, দর্শক যে যাচ্ছেন না, তার জন্য দায়ী আমরা। অনেকে বলতে পারেন, এখন তো সিনেমা দেখার জন্য অনেক মাধ্যম তৈরি হয়েছে। কিন্তু সিনেমা বড় পর্দায় দেখার যে আনন্দ, তা কোনো দিন মোবাইল বা কম্পিউটারে হবে না, হতে পারেও না। সিনেমা ও সিনেমা হলের মজা কখনো ছোট স্ক্রিনে হয় না, হতে পারে না। দর্শক যেতে পারছেন না কারণ, পরিবেশ নেই, হল নেই, কনটেন্ট নেই, ভালো নির্মাণ নেই, তাহলে দর্শক কেন যাবেন। আমরা কিন্তু ছোটবেলা থেকে দেখেছি, সিনেমার কিছু দর্শক ছিলেন, প্রতি সপ্তাহে প্রথম দিনে প্রথম শো দেখতেন। সেই দর্শক কী এখন বাংলাদেশে আছে। সেই দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে ফেরাতে সবদিক থেকে নজর দিতে হবে।

নতুন ছবির কাজের খবর বলুন।

অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট মাথায় গিজগিজ করছে। সামনে বছর একটা হয়তো অনুদানে জমা দেব। একটি গল্পের নাম এখন বলতে পারি, ‘একজন মানুষের কতটুকু জমির প্রয়োজন’।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন