বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মার্ক্সের স্ত্রী জেনিকে তো নাট্যকার রাখেননি। আপনি কেন রাখলেন?

পৃথিবীতে যত শক্তিশালী পুরুষ আছে, তাদের প্রত্যেকের পেছনে শক্তি হিসেবে একজন নারী ছিল। এটা হিটলারের ক্ষেত্রেও সত্য। তবে ইতিহাস যখন লেখা হয়, তখন ওই নারী চরিত্র হারিয়ে যায়। ‘হিজ স্টোরি’ হয়ে থাকে। ‘হার স্টোরি’টা হাওয়া হয়ে যায়। আর মঞ্চটা তো খুব ভিজ্যুয়াল মাধ্যম। দেখাতে হবে, না হলে আড়ালেই থেকে যাবে। তা ছাড়া শুধু সংলাপে ব্যাপারটা বোরিং হয়ে যায়। আমি তাই জেনিকে দেখাতে চেয়েছি। দর্শক যাতে তার শারীরিক উপস্থিতি শরীর দিয়ে অনুভব করে।

default-image

মার্ক্সকে মঞ্চস্থ করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

মহামারি। বুঝতেই পারছিলাম না নাটকটা হবে, নাকি হবে না। কবে হবে। এই ডেট নিচ্ছি, আবার পেছাচ্ছে। বুঝতে পারছিলাম না, কবে আমরা মানুষকে দেখাতে পারব। তারপর ঠিক করলাম, আমাদের কাজ আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়ে করব। যেদিন দেখানো যাবে, সেদিনই দেখাব।

আপনি বাংলাদেশে মঞ্চ, টিভি, সিনেমায় কাজ করেছেন। আবার হলিউডেও মঞ্চ, টিভি ও সিনেমায় কাজ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বলেন।

কিচ্ছু বলা যাবে না। একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো তুলনাই চলে না। এই মুহূর্তে হলিউডের সঙ্গে বলিউডের তুলনা চলে, তবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন নিয়ে কথা বলা যায় না। আমি বলব না যে আমরা এগিয়ে আছি বা পিছিয়ে আছি। আমি কিচ্ছু বলব না। এই দুই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে পাশাপাশি, একই সুরে আলাপ চলে না।

default-image

এখনকার তরুণদের সঙ্গে কাজ করে আপনি কেমন বুঝছেন?

অনেক বড় শূন্যতা তো আছেই। এর মাঝেই বটতলা আছে, হুমায়ূন আজম রেওয়াজ (মার্ক্সের ভূমিকায় অভিনয় করা শিল্পী) আছে, আমার শিক্ষার্থীরা আছে। তাদের ভেতর ৩০ শতাংশ হয়তো সিরিয়াসলি ভাবছে, চর্চা করছে। কিছু তরুণ আছে, যারা মেধাবী, কৌতূহলী আর এক্সাইটেড। এই এক্সাইটমেন্ট কিন্তু খুবই জরুরি।

আপনার শিক্ষাজীবন বেশ সমৃদ্ধ। সর্বোচ্চ শিক্ষিত, সচেতন একটা মানুষ হয়ে বাংলাদেশের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা কতটা কঠিন, কতটা সহজ?

এখানে যারা নিজের ঢোল নিজে পেটায়, তাদেরই অন্যরা চেনে। ঢোল পেটানো তো আমার কাজ নয়। আমারও দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প আছে। জীবনে আমি অনেক কিছু করেছি, যেগুলো অনেকেই জানে না। আর আমি এতে খুশি। আমি নিজেকে এভাবেই দেখতে চেয়েছি। দীর্ঘ ২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। তারপর দেশে এলাম। সবাই বলল, তুমি এখানেই কাজ করো। ভাবলাম, ঠিক আছে, চেষ্টা করি। সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি। আমাদের পরিবারটা প্রচণ্ড রকম সংস্কৃতিক। সে রকম একটা পরিবার থেকে বিনোদন নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে অসুবিধা হয়নি। তারপর আরও পড়াশোনা করতে চাইলাম। সারা বিশ্বেই যারা শিল্প, সাহিত্য নিয়ে চর্চা করে, তারা অন্যদের চেয়ে জানাশোনা, চিন্তা আর রুচিতে উন্নত হয়। গড়পড়তা মানুষদের চেয়ে তাকে অতিরিক্ত ইন্টেলিজেন্ট হতে হবে, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সক্রিয় হতে হবে। মুক্তচিন্তার মানুষ হতে হবে। দারুণ ভাবনার ক্ষমতা থাকতে হবে। মিডিয়া অ্যান্ড কালচারের সঙ্গে যে জড়িত, তাকে ‘ফার অ্যাবোভ দ্য নরমাল’ হতে হবে। অথচ এখানে পরিস্থিতি উল্টো। এখানে সবাই ভাবছে, ‘এটুকুতেই হবে।’ আসলে হবে না। হচ্ছে না। খাটুনিটা করতেই হবে। আমরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষ, আমাদের কোনোরকমে কিছু একটা হলেই হবে! এভাবে হবে না। আমার একটা দুঃখ যে আমাদের ইতিহাস শিক্ষা আর সংস্কৃতিতে এত সমৃদ্ধ, আমরা কীভাবে এমন হলাম!

শেষ প্রশ্ন। জীবন আপনার কাছে কেমন?

হা হা। আমার কাছে প্রচণ্ড খুশির, প্রচণ্ড কৌতূহলের, ভালো লাগার। আমার জীবন খুবই ভালো লাগে, বেঁচে থাকতে খুবই ভালো লাগে। আমি জীবনে যা যা করেছি, কোনো কিছু নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। ও, একটা আক্ষেপ আছে। একটা বড় আক্ষেপ। সেটা হলো মাকে দেশে রেখে চলে যাওয়া। মাকে কেন সময় দিলাম না, এই নিয়ে আমার খুবই আক্ষেপ হয়। খুবই কষ্ট হয়। সেটা বলে বোঝানো যাবে না। তা ছাড়া আমি খুবই খুশি একটা মানুষ।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন